বিলুপ্তির পথে গরু দিয়ে হালচাষ

0

শাহজাহান কবির :

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক চৈত্র – বৈশাখে আউশ মৌষমে, আষাঢ় -শ্রাবন আমন মৌষমে, পৌষ- মাঘ মাসে বোরো মৌষমে আউশ ও আমনের সময় এলেই প্রতিদিন শুকনো মাছ, শুকনো মড়িচ,কাচা মড়িচ বা পেয়াঁজ দিয়ে পান্তা ভাত খেয়ে এমনকি পৌষ মাঘ এলে ঠান্ডা ভাত শিমের তরকারী দিয়ে খাওয়া দাওয়া করে প্রতিদিন ভোর বেলায় বেরিয়ে পড়তেন মাঠে লাঙ্গল জোয়াল, গরু নিয়ে জমি চাষের জন্য । এক সময়ে প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজনের কাক ডাকা ভোরে ঘুম ভাঙ্গতো লাঙ্গল জোয়াল হালও গরুর মুখ দেখে।এবং কাঠমিস্ত্রির বাড়িতে ভিড় জমে থাকতো লাঙ্গল,জোয়াল,আর মই মেরামত করার জন্য মেরামত না করতে পারলে ঐদিন আর হালচাষ করতে পারতো না চাষীরা বর্তমানে কাঠমিস্ত্রির বাড়িতে সেই আগের মতো ভিড় আর এখন নেই,কাঠমিস্ত্রিদের সংসার চলতো কৃষকদের উপর নির্ভর করে বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তি এগিয়ে যাওয়ায় তারা এখন ফার্নিচারের দোকান দিয়ে বা অন্যের দোকানে কাজ করে সংসার চলে তাদের।
বর্তমান বাংলাদেশে কৃষি প্রযুক্তিতে এগিয়ে তাই প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজনের ঘুম ভাঙ্গে ট্রাক্টর বা পাওয়ার টিলারের শব্দে। জমিতে বীজ বপন অথবা চারা রোপণের জন্য জমির মাটি চাষ করার ক্ষেত্রে হাল ব্যবহার করে আর ওই মাটি গুড়িয়ে সমান করার জন্য মই ব্যবহার করা হতো আর মইয়ের মাঝে উঠত শিশু বাচ্ছারা । যা কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত অন্যতম পুরনো যন্ত্র।এই কৃষিজমি চাষ করে উপযোগী করার জন্য গরু, মহিষ প্রয়োজন হতো। লাঙ্গল দিয়ে হালচাষ করতে কমপক্ষে একজন লোক ও দুইটি গরু অথবা দুইটি মহিষ প্রয়োজন ছিল। বাংলাদেশের পুরোনো হাজার বছরের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে লাঙ্গল জোয়াল, মই, গরু এবং মহিষ।উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া গ্রামের কৃষক শহীদ মিয়া জানান, ১০ -১২ বছর আগে ময়মনসিংহ বা পার্শ্ববর্তী জেলা নেত্রকোনায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতে প্রতিটি ঘরেই ছিল গরুর হালের প্রচলন। গরু গুলো যেন পরিবারের সদস্যের মতো। তাদের দিয়ে একরের পর একর জমি চাষ করার কাজে ব্যবহার করা হতো।
তাজা ঘাস আর ভাতের মাড়, খৈলের ভুসি ইত্যাদি খাইয়ে হৃষ্টপুষ্ট করে তোলা হালের জোড়া বলদকে তাদের দিয়ে জমি চাষ করতেন কৃষক।এখন গৌরীপুর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন একটি পৌরসভা সহ প্রায় প্রতিটি গ্রামে থাকা জমিগুলোতে কৃষক লাঙ্গল জোয়াল,মই গরু নিয়ে জমি চাষাবাদ করা হতো। চাষের মৌসুমে তাদের কদর ছিল অনেক।
উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের ধেরুয়া কড়েহা গ্রামের কৃষক মঞ্জিল মিয়া জানান অনেকের সিংহভাগ সময় কেটেছে চাষের লাঙ্গল জোয়াল আর গরুর সঙ্গে, গরু দিয়ে হালচাষ করলে জমিতে ঘাস কম হতো, পায়ে হাটলেও ঘাসগুলো কুপে যেত, এতে করে জমিতে অনেক জৈব সার হতো, এ জন্য ফসলও ভালো হতো।
বর্তমান সরকার আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার কৃষি ক্ষেত্রে অনেক সাফল্য নিয়ে এসেছে উল্লেখ করে গৌরীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লুৎফুন্নাহার বলেন, কম সময়ে জমি চাষ করতে গিয়ে পাওয়ার টিলার ও ট্রাক্টর ব্যবহার হচ্ছে যা মাটির গভীরে যেতে পারে। ট্রাক্টর বা টিলার দিয়ে কম সময়ে জমি চাষ করা যায় তাই কৃষকরা হালচাষ বাদ দিয়ে নতুন পথে এগিয়ে যাচ্ছে এমনকি প্রত্যক এলাকার কৃষক সমিতির মাধ্যমে কৃষকদের টিলার,ট্রাক্টর, সহ বিভিন্ন ধরনের কৃষি উপকরন বিতরন করা হচ্ছে কৃষকের সুবিধার জন্য।

%d bloggers like this: