ঢাকা ২৯.৯৯°সে ১৪ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম :

নড়াইলে যাত্রাশিল্পীদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়

নড়াইলে গ্রাম বাংলার মানুষের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্প,শিল্পীদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয় এক শ্রেনীর অসাধু এ শিল্পকে বিতর্কীত করে ফেলায়ু শিল্পের নগ্নতা কলুশিত

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

নড়াইলে এই শীত মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে আগ্রহের যাত্রার শিল্পীরা বড় দল গঠন করে এ শিল্পকর্মকে পেশা হিসাবে বেঁছে নেয়। নড়াইলে  ষ্টেজ কাপাতে লাল,নীল,হলুদ পরীরা রাতের জলসায় গান গায়, পর্দা খুলেছি ঘোমটা খুলেছি বন্ধুরা আমায় দেখনা, আমি কোন রূপসীৃৃ..এক সময় নড়াইলে বিনোদনের অংশ হিসবে মেঠো যাত্রাপালার সুনাম ছিল, ছিল ঐতিহ্য। গ্রামের মানুষ নিজেদের কর্ম সেরে রাত জেগে কাঙ্খিত সেই যাত্রাপালা উপভোগ করতো। নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্যর ভিতিতে জানা যায় যাত্রা শিল্পীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় তাদের অভুতপর্ব পরিবেশনার ফলে হাসি আর কান্না ধরে রাখতে পারিনি অনেক দর্শক।

পরবর্তী পর্যায়ে অধিকতর জনপ্রিয় সেই মেঠো যাত্রার শিল্পীরা বড় দল গঠন করে এ শিল্পকর্মকে পেশা হিসাবে বেঁছে নেয়। সেই সময় গ্রাম বাংলার সাড়া জাগানো যাত্রা শিল্পীদের কদর ছিল আকাশচুম্বি। অথচ সেই ঐতিহ্যবাহী যাত্রাশিল্প এবং শিল্পীদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ীরা যাত্রা শিল্পের আড়ালে নগ্নতা প্রদর্শন করে এ শিল্পকে বিতর্কীত করে ফেলায় এ শিল্পের সাথে জড়িত নামিদামী শিল্পীদের পরিবারগুলো আজ বড়ই দুর্দিনের মধ্যে রয়েছে।শিল্পী সুত্রে জানা যায়, এখনও শিল্পকলা একাডেমী এবং চলচ্চিত্র জগতের একাংশ শিল্পীদের মধ্যে মেঠো যাত্রার শিল্পীদের অনেক নামী দামি নায়ক নায়িকারা অভিনয় করে যাচ্ছেন।

বর্তমান জেলা পর্যায়ে যে যাত্রাদল,অপেরাগুলি সগৌরবে যাত্রাপালা পরিদর্শন করছে দেশব্যাপি তারমধ্যে উলে,খযোগ্য কপিলেশ্বরী নাট্যদল, প্রতিমা, তাজ মহল,রাজ আনন্দ, চৈতালী, সবুজ, রংমহল, স্বদেশ, স্বপ্না, শাপলা, মাইকেল, অগ্নিবীনা, ঝুমুর, উলেখযোগ্য।এসব অপেরার নামিদামি নায়ক নায়িকারা ও শীল্পীরা হলেন, নটরাজ শিল্পীরা রাতের আধারের ষ্টেজ কাপিয়ে ঝলক মাতিয়ে গ্রাম বাংলার মানুষের মন জয় করতো। কিন্তু সময়ের পরিবর্তন ঘটেছে তার সঙ্গে যাত্রা অপেরারও।

বর্তমান সময়ে অপেরা গুলি মেয়ে মানুষের শরীর প্রদর্শন করে উলুঙ্গ বেহাপনা নিত্য পরিবেশন করে গোটা সমাজকে কলুশিত করছে যার কারনে এখন খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে এ অপেরার দল। সূত্রে জানা যায়, এক সময় এ যাত্রা পালা মানুষকে সামাজিক মুল্যবোধের শিক্ষা দিত। বর্তমান সময়ে অপেরায় মহিলারা যেতে পারেনা অতি নগ্নতার জন্য। উঠতি বয়সি যুবকদের পদচারনাই এখন বেশী। সেই সঙ্গে পালার পরিবর্তে সারা রাত নর্তকীর নগ্ন নাচ পরিদর্শিত হয়। বর্তমানে মেঠো যাত্রা অপেরার ব্যপারে কথা হয় নাট্য নিকেতনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নায়ক গায়ক ও নটরাজ বলেন, স্কুল জীবন থেকে আজ পর্যন্ত প্রায় ৩০টা বছর মেঠো যাত্রাপালা থেকে বড় অপেরা, টিভি নাটক সহ অসংখ্য জায়গায় অভিনয় করেছি, শিল্পী হিসাবে সম্মানও পেয়েছি কিন্তু বতৃমানে শংকিত এ শিল্প নিয়ে। বর্তমান সময়ের দুরধর্ষ খল নায়ক বিষ্ণু বলেন, আমাকে মানুষ এখনো দেখলে ভয় পায় এমন চরিত্রে অভিনায় করেছি, পুরস্কার ও খ্যাতি মিলেছে অনেক, অতচ এখন বউ বাচ্ছা নিয়ে কষ্টে আছি বলে বাদ্য হয়ে নসিমন বা,কখনো ভাড়ায় চালিত মটর সাইকেল চালাই।

বলেন, ৫০,৬০ লক্ষ টাকা খাটিয়ে শিল্পীর অভাবে একাডেমী ছাড়তে চলেছি। বাংলাদেশ যাত্রা অপেরা মালিক সমিতির সদস্য বলেন, যে বিনোদন না থাকলে দেশে কোন সাংস্কৃতিক চর্চা হবেনা, পর নিভৃরশীল হিসাবে থাকতে হবে আমাদের দেশকে। তাছাড়া আমরা প্রত্যেক মালিকরা একটা দল চালাতে গিয়ে তার পেছনে কম পক্ষে ২০,২৫ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে থাকি।

অধিকাংশই সময় এ লগ্নীকৃত টাকা ফেরৎ আসে না। এছাড়া শিল্পকলা একাডেমির মাধ্যমে সরকার অনুমতি দিলেও স্থানীয় জেলা প্রশাসন নিরাপত্তার অজুহাতে অপেরা চালাতে দেয়না। অনেক সময় নেতা ও প্রশাসনের কর্তাদের বিভিন্ন খায়েস পুরন করে অনুমতি নিতে হয়। অথচ এ শিল্পকর্মে জড়িত আছে হাজার হাজার পরিবার। বর্তমানে অনেকে কষ্টে আছে এর সঙ্গে জড়িত শিল্পীরা, তারা অন্য কর্ম করে খেতে পারেনা। বর্তমান অপেরায় নগ্নতা ছেয়ে গেছে প্রশ্নে প্রতিমা অপেরার মালিক বলেন, দীর্ঘ ৩৮বছর এ যাত্রাপালা নিয়ে আছি, পরিবেশ বুঝে আমরা রং ধারণ করি। শুধু আমাদেরটাই দেখলেন? বর্তমানে ফিল্মে যে নোংরা বেহাপনা দেখাচ্ছে তাতে কারোর কর্নপাত নেই কারন ঐটা পর্দায় হয়। তা ছাড়া পুতুল নাচ, হাই শো, ভ্যরাটিস, টপ-শোসহ এদের কোন লাইসেন্স বা বৈধতা নেই। তিনি আরও বলেন আমরা যাত্রা সমিতির পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এখন থেকে পালা করে গান অভিনয় চলবে আর ঐ নিত্যর দিকে যাবো না। তা না হলে এ শিল্পকে আমরা বাঁচাতে পারবো না। বর্তমানে অনেক শিল্পীরা এখন ভাড়ায় চালিত বিভিন্ন পরিবহন চালাচ্ছে রুটি রোজগারের জন্য।

সরকারের প্রশাসনের প্রতি আমাদের সহযোগিতা নিয়ে সারা দেশের যাত্রা  অপেরা মালিক সমিতির কর্মকর্তাবৃন্দ সামনের দিকে অগ্রসর হবো বলে আশা করছি ।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর