বদলগাছীতে সড়কে গাছকাটতে না দেয়ায় প্রকলল্পের কাজ বন্ধ

0

সানজাদ রয়েল সাগর, বদলগাছী:

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীর উপর নবনির্মিত সেঁতের এপ্রোচ সড়ক সীমানায় থাকা গাছ কাটতে না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের বিরুদ্ধে। সড়ক ও জণপথ বিভাগ বলছে গাছটি তাদের আর ওই ম্যাজিষ্ট্রেটের দাবী তাদের গাছ সেটি সঠিকভাবে পরিমাপ না করেই অবৈধভাবে হাত দিচ্ছে সরকার। এমন অবস্থায় গত শুক্রবার গাছ কাটতে গেলে তারা গাছ কাটা বন্ধ করে দেয়। এদিকে গাছ কাটতে না পারায় ১২ কোটি টাকার ওই প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে।।

সরেজমিনেগিয়ে জানাযায়, বদলগাছী উপজেলার ছোট যমুনা নদীর উপর সেনপাড়া মৌজায় প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে একটি ব্র্রীজ নির্মান করা হয়েছে। ব্রীজটির পূর্বপার্শ্বে দুটি এপ্রোচ সড়ক রয়েছে। যার একটি বদলগাছী থেকে সেঁতু পার হয়ে ঐতিহাসিক বৌদ্ধ বিহার পাহাড়পুর হয়ে জয়পুরহাট আর অপরটি পাশ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুরে গিয়ে পৌঁচেছে। কিন্তু আক্কেলপুর যাওয়ার সড়ক সংলগ্ন ডান পার্শ্বে ১৩২ নং দাগে একটি বহু বছরের পুরাতন এন্ট্রি কড়ই গাছ আছে। আর ওই গাছ সংলগ্ন মৃত- বদির উদ্দিনের ছেলে দবির উদ্দিন (৬৫) এর একটি বাড়ি আছে। এতদিন সকলেই চুপচাপ থাকলেও ব্রীজ নির্মানকালীন সময়ে দবির উদ্দিন গাছটি তার দাবী করে জেলা পরিষদে আবেদন করে। এরই ধারাবাহিকতায় মাপযোগ শেষে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লিখিতভাবে ২০১৫ সালের ২৮ জুন তারিখে তার দাবী নাকজ করে দেয়। তার পরও দবির উদ্দিন গাছটি তার দাবী করে আসছেন।

DTV
ওই এলাকার বাসিন্দা খয়বর আলী বলেন দবির উদ্দিনের পুত্রবধু ময়মনসিং জেলায় কর্মরত সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট পারুল আখতার। তার ক্ষমতার প্রভাব খাঠিয়ে গাছ কাটতে বাধা দিয়ে সেতুর এপ্রোচ সড়ক নির্মানে নানা বিপত্তি সৃষ্ঠি করছে।

জেলা পরিষদের নিয়োগকৃত ঠিকাদার সাজেদুর রহমান বলেন টেন্ডারের মাধ্যমে গাছটি কিনে নেওয়ার পর কয়েক দফা গাছ কাচার চেষ্ঠা চালিয়ে ব্যর্থ হই। গত বৃহস্পতিবার থেকে একজন ম্যাজিষ্ট্রেট ও পুলিশের উপস্থিতিতে এপ্রোচ সড়কের ভিতরের এট্রি কড়ই গাছটি কাটা শুরু হয়। গতকাল শুক্রবার ম্যাজিষ্ট্রেট অপর একটি সরকারী গুরুত্বপূর্ন কাজে যায়। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদার গত শুক্রবার গাছটি আবার কাটতে শুরু করলে ম্যাজিষ্ট্রেট পারুল আখতার নিজে এসে বাধা প্রদান করে লোকজন দিয়ে গাছের খনন করা যায়গাটি বন্ধ করে দেন।

নওগাঁর সড়ক ও জনপথের সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজ বলেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ ,জেলা পরিষদ ও ভ‚মি অফিস সম্মিলিত জরিপে দেখেছে গাছটি সরকারের। আর তাই নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারকে গাছটি কাটার নির্দেশ দিয়েছে জেলা পরিষদ।

এ বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জেলা পরিষদের সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, জরিপ অনুযায়ী দবির উদ্দিনের বাড়ীর দেয়ালসহ ওই গাছটি জেলা পরিষদের গেজেটভুক্ত জায়গার মধ্যে পড়েছে। আর তাই রাস্তার কাজের স্বার্থে গাছটি কাটার অনুমতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু দবির উদ্দিন তার ম্যাজিষ্ট্রেট পুত্রবধূকে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে গাছকাটার কাজে বাধা দিয়ে যাচ্ছেন।

এব্যাপারে সড়ক ও জনপদ বিভাগের নওগাঁর নির্বাহী প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ হামিদুল হক বলেন, এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এই গাছ কাটতে না পারায় এপ্রোচ সড়কের কাজটি শেষ করা যাচ্ছেনা। যার কারনে ব্রীজটি জনসাধারনের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে আগামী জুন মাসের মধ্যে কাজটি বুঝিয়ে দিতে হবে বলেও তিনি জানান ।

এ বিষয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট পারুল আখতার মিডিয়ার সামনে আমাদের কথা বলা বারন আছে উল্লেখ করে বলেন আমার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার কথাটি সঠিক নয়।

তবে তার শ্বশুর দবির উদ্দিন ও স্বামী এমরান হোসেন জানান, গত ৩৭ বছর ধরেই তারা ওই যায়গাটি ভোগ দখল করে আসছেন। কিন্তু তারা সঠিক পরিমাপ না করেই অবৈধভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং জেলা পরিষদ গাছটির অনেকাংশ কেটে নিয়ে গেছেন। এখন শুধু কান্ডটি পড়ে আছে। তাদের দাবী জনস্বার্থে সরকারী কাজ হচ্ছে বলেই তারা এতদিনেও বড় ধরনের আইনী সহায়তা নেননি। তবে আগামী সোমবারের মধ্যে এ বিষয়ে সুরাহা না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া তাদের আর কোন পথ খোলা থাকবেনা বলেও তারা জানান ।

%d bloggers like this: