ঢাকা ৩০.৯৯°সে ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি হালুয়াঘাটের গাবরাখালী

প্রেম পিয়াসীর অপেক্ষায় খোলা পাহাড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে একটি বন।তুমি আসবে তারই প্রতীক্ষায়। দক্ষিণের খোলা বাতাস বন স্পর্শ করে যাচ্ছে পরম আবেশে। খোলা বাতাসের ছোঁয়ায় উড়ন্ত চুলের মতো দুলছে গাছগুলো। জন্ম থেকেই খোলা বাতাস গায়ে মেখে গজার গাছগুলো এখন অনেক বড় হয়ে উঠেছে।

 

পাহাড়ের আছড়ে পড়া বাতাসের ঢেউয়ে আর গজার গাছের মাঝখানে শূন্য বালুরাশি। এ যেন দৃষ্টিনন্দন এক পর্যটন কেন্দ্র ! বাতাসের মৃদু ঢেউ,গজারবনের সবুজ সমীরণের এ দৃশ্যটি যেন প্রকৃতি প্রেমের একটি উদাহরণ। এই প্রেমময় দৃশ্যপটের নাম- গাবরাখালী হিল পর্যটন কেন্দ্র ।উত্তরে তাকালে ভারতের মেঘালয় পাহাড়, এ যেন বাতাসের ঢেউয়ের সাথে দোল খেলে পাহাড়ের গাছ গুলো ব্যাতীত আর কিছুই দেখা যাবে না। গাবরাখালী যাওয়ার পথ।

 

পাহাড়ের কোল ঘেঁষা প্রান্তিক জেলা ময়মনসিংহে হালুয়াঘাট উপজেলার গাজীরভিটা ইউনিয়নে অবস্থিত এই পর্যটন স্পট । হালুয়াঘাটের পাহাড় মোহনায় দাঁড়িয়ে আছে যৌবনা রূপ নিয়ে। পাহাড় ভূমিটি প্রায় দুই কিলোমিটার লম্বা এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। হালুয়াঘাট উপজেলা সদর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব ভারতের মেঘালয় ঘেষা এই পাহাড়টি এখন অপার সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। পাহাড় তীরের মুক্ত বাতাস আর চোখ জুড়ানো প্রাকৃতিক শোভা যেন দৃষ্টি আকর্ষণের টোপ।

পাহাড় তীরের লাল মাটি পর্যটকদের দুই পায়ের অলঙ্কার হয়ে সঙ্গে থাকে যতদূর পা চলে। হালুয়াঘাটের স্থল বন্দর এই বেলাভূমির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে আসলে দেখা যাবে, সবুজের সমারোহে বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ ও পাখির কুহুতান। লাল সাদা মাটির ভালোবাসা পায়ে লাগিয়ে, স্নিগ্ধ বাতাস গায়ে লাগিয়ে এখানে দাঁড়িয়ে একেকটি গোধূলি সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখার মুহূর্তটা কোনো পর্যটকের পক্ষে ভুলে যাওয়া সম্ভব হয়ে ওঠে না।

 

প্রকৃতি প্রেমের এমন লোভে পড়ে গেলে এই স্বর্গে যেতে মন চাইবে বারবার। শুধু পাহাড়ে ভ্রমণ দর্শনার্থীর মন ভরাবে তা নয়। পাশাপাশি আরো অনেক কিছু দেখার সুযোগ মিলবে এখানে এলেই। গাবরাখালী পাশেই দুইটি স্থল বন্দর অবস্থান ও তাতঁ শিল্প। তাতঁ পল্লীতে গারোরা গভীর রাত পর্যন্ত চলে তাঁতে কাপড় বোনার কাজ।তাদের চলা ফেরা আচার আচরন এতটায় অথিতি পরায়ন আপনাকে মুগ্ধ করবে আপনার মন,আর হালুয়াঘাট মানুষদের মুখের দিকে তাকালে,তাদের সাথে কথা বললে,তাদের আথিতিয়তায় মনে হয় যেন কত জনমের আপন জন, পিকনিক স্পট দেখার পাশাপাশি দেখা মেলে কর্মব্যস্ততা পাহাড়ী জনপদের মানুষ, আর পাহাড়ের বুকে স্থানীয় শিশুদের উচ্ছ্বাস।

 

এখানে নদী তাজা মাছ পাওয়া যায় হালুয়াঘাট বাজারের ছোট ছোট খাবারের হোটেলগুলোতে, যা পর্যটকদের পেট ভরাবে। এখানে খুব অল্প টাকায় খাওয়া যাবে মাছ ভাত বা গ্রামীণ স্থানীয় সব খাবার। এই গাড়ো পাহাড়টি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নবীন বিবেচনায় খাবার ও মাছের দাম তুলনামূলক সস্তা। প্রান্তিক জনপদের পাহাড়টি যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি। তবে জেলা শহর থেকে দূরে হলেও পরিবহনের কোন সংকট নেই, প্রশাসনের নজর সব সময় নতুন এই পর্যটনটির দিকে। যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে গাবরাখালী পাহাড়টি এখন অনেকের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে।

দৃষ্টি কেড়েছে জেলা প্রশাসন, সুশীল সমাজ, প্রকৃতিপ্রেমী ও জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের। সূত্র বলছে, আলোচ্য পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে রূপ দিতে নিরন্তর চেষ্টা শুরু করেছিলেন সদ্য বিদায়ী ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন মোহাম্মদ মিজানুর রহমান,ও বর্তমান হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেজাউল করিম,উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক সায়েম,পৌরমেয়র খাইরুল আলম ভূঁইয়া, গাজীরভিটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলুয়ার হোসেন ও জনকয়েক স্থানীয় পর্যটকপ্রেমী গণমাধ্যমকর্মী। তারই ধারাবাহিকতায় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে জায়গাটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

 

বিদায়ী জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান। বর্তমানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যটকদের জন্য গারো পাহাড়টি সুসজ্জিত করা হয়েছে। পর্যটন সম্ভাবনাময় গাবরাখালী গারো পাহাড় এই নাম দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে গত (২২ মে ২০২১) নব নিযুক্ত ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের আহ্বান করেন।

 

এ সময় উপস্তিত ছিলেন হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল করিম, উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক সায়েম, পৌরমেয়র মোঃ খায়রুল আলম ভূঞা,সহকারী কমিশনার ভূমি মো. তৌহিদুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী শান্তনু ঘোষ সাগর, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সহ গণ্যমান্য ব্যাক্তি ও সাংবাদিক বৃন্দ।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর