ঢাকা ২৭.৯৯°সে ২৩শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম :
দারুসসালামে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার দুই বোন কারাগারে অভিনেত্রীকে ধর্ষণের হুমকি, যুবক গ্রেফতার গৌরীপুরে ১শ বোতল ফেনসিডিলসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক গৌরীপুরে বাস-মাহিন্দ্রা সংঘর্ষে নিহত দুই নারীসহ ৩জন ঈশ্বরগঞ্জে কর্মহীনদের মাঝে নগদ টাকা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ গৌরীপুরে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুকুরের পাড় কেটে ফেলার অভিযোগ গৌরীপুরে কর্মহীন, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার বিতরণ ময়মনসিংহে কঠোর লকডাউনের ১৪ দিনে ৩০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় গৌরীপুরে অসহায় ও কর্মহীন মানুষের মাঝে মায়ের মমতা কল্যাণ সংস্থার ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরন ডোমারে হাজারো মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ

ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

প্রয়োজনীয় পুঁজি, আধুনিক প্রযুক্তি উপকরন আর বাজারের অভাবে নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে এই শিল্পটি

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:
নড়াইলের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প বিলুপ্তির পথে। প্রয়োজনীয় পুঁজি, উপকরন আর বাজারের অভাবে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত অনেকেই জীবিকার তাগিদে এখন যাচ্ছেন ভিন্ন পেশায়। ফলে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে এই শিল্পটি। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্য ও ছবির ভিত্তিতে জানা যায় নড়াইলের কুন্দশী, চোরখালি, জয়পুর, দিঘলিয়া সহ বিভিন্ন এলাকায় ৪ শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

এসব পরিবারের লোকসংখ্যা যে হারে বেড়েছে সে হারে মৃৎশিল্পের চাহিদা বাড়েনি বরং দিনদিন এর চাহিদা কমে যাওয়ার ফলে তাদের মধ্যে দেখা দিযেছে আর্থিক সংকট, বেড়েছে দারিদ্রতা। বাজারে আধুনিক প্রযুক্তির আ্যলুমিনিয়াম, প্লাষ্টিক ও ষ্টিলের তৈজসপত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় মাটির তৈরি হাড়ি-পাতিল কিনছেনা অনেকেই। ফলে মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত শিল্পীরা নিজ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জীবিকা নির্বাহ করার জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

যেসব হিন্দু পরিবাব এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত তারা রুদ্রপাল বা কুমার নামে পরিচিত। এই স¤প্রদায় ভুক্ত লোকেরা শিক্ষা- দীক্ষায় অনগ্রসর হওয়ার কারনে সিংহভাগ সদস্যেরই চাকরী করার যোগ্যতা নেই। পূর্বপুরুষের পেশাকে ছেড়ে পাল সম্পাদায়ের লোকেরা এতকাল নিজেদের অন্য কোন পেশার সঙ্গে যুক্ত করেনি। শত অভাবের মধ্যেও আকড়ে ছিলেন পূর্বপুরুষের ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পকে। জীবিকার তাগিদে অনেক পরিবারই চলে গেছেন ভিন্ন পেশায়। শত অভাবের মাঝেও বেশ কিছু কুমার পরিবার তাদের পূর্বপুরুষের এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

কুমারপাড়ায় ঢুকলেই চোখে পড়ে তাদের দিনহীন জীবনযাত্রা। গোটা পাড়াতেই যেন লেগে আছে এক বিষাদের ছোঁয়া। ময়লা ও ছেড়া কাপড় পরনে তাদের। পুষ্টিহীনতার শিকার র্জীণ শরীরের শিশুদের দীপ্তি নেই চোখে মুখে। কুন্দশী এলাকার কুমারপাড়ায় গেলে তারা তাদের ক্ষোভের এবং হতাশার কথা বলেন। তারা বলেন, কেউ তাদের খোঁজ নেয় না। জানতেও চায়না তাদের সুখ-দুঃখ, সুবিধা-অসুবিধার কথা। এই এলাকার তপন কুমার পাল জানান, সারা মাস হাড়ি-পাতিল, সরা-কলস, খোড়া,দোনাসহ বিভিন্ন ধরনের মাটির সামগ্রী তৈরী করে শুকানোর পর ভাটায় পুড়িয়ে সেগুলো নিয়ে যাওয়া হয় হাট-বাজারে। জ্বালানির খড়ি বা লাকড়ির দাম বৃদ্ধির জন্য এক খোলা মাল তৈরী করতে প্রায় থেকে ৮ শত থেকে এক হাজার টাকা খরচ হয়। অথচ এক খোলা মাল বিক্রি করে চার থেকে পাঁচ শত টাকাও লাভ হয়না।

চোরখালী এলাকার কুমার শিল্পীরা জানিয়েছেন, মাটির জিনিস বানাই বিক্রি করি, আর তা দিয়ে কোন রকমে খাওয়া-দাওয়া চলে আর কি। এই কাজে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি, অথচ আয় নাই। পৃর্ব পুরুষের ঐতিহ্য বলেই এই পেশাকে ধরে আছেন বলে তারা জানান। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ পাল পরিবারই ভূমিহীন। নিজেদের বসবাসের জন্য সামান্য ভিটে টুকু ছাড়া তাদের অন্য কোন জমি নেই। তারপরও তারা তাদের পেশার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে আকঁড়ে ধরে আছে এই শিল্পকে। মৃৎশিল্পীরা জানান, এক সময় আমাদের কিনে খেতে হয়নি।

গ্রামে গ্রামে চিটা ধানের বিনিময় হাড়ি-পাতিল বিক্রি করে যে ধান পাওয়া যেত তা দিয়েই চলে যেত প্রায় সারা বছর। কিন্ত এখন তা আর পাওয় যায় না। লোহাগড়ার পাল স¤প্রদায়ের লোকেরা এত অভাবের পরও পূর্বপুরুষের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে চান।

তারা জানান, পরিবার ভিত্তিক ব্যাংক ঋণ ও আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও কারিগরি উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা করলে এখনও তারা মৃৎশিল্পকে অবলম্বন করে টিকে থাকতে পারেন। তাই এ অবস্থায় মৃৎশিল্পীদের তৈরী জিনিসপত্রের মান উন্নয়ন এবং আধুনিকীকরণ করতে না পারলে তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে না।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর