পড়া ছিল মুখোশ, পেছন থেকেই হাতুড়ি দিয়ে করা হয় আঘাত

0

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে বাথরুমের ভেন্টিলেটর ভেঙ্গে মুখোশ পড়ে দুজন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ঘরে প্রবেশ করে। এরপর তাকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে। তাকে শুধু নয়, তার বাবাকেও আঘাত করা হয়েছে। এভাবেই ঘটনার বর্ননা দিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমাদের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার (এসপি) মহোদয় এখনো ঘোড়াঘাটের ইউএনওর বাসায় অবস্থান করছেন। আমরা কিছুক্ষণ আগে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেক্ষেত্রে বিষয়টি কী হয়েছে এবং এই দুর্বৃত্তরা কারা, সে বিষয়ে এসপি সাহেব বললেন, আমরা একটু সময় পেলে দ্রুত দৃর্বৃত্তদের নাম-ঠিকানা বের করতে পারব। আমাদের প্রচেষ্টা আছে, আমরা আশাবাদী দ্রুত এটা করতে পারব।

তিনি বলেন, হেলিকপ্টার যোগে ইউএনও’কে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তাকে ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আমরা সবচেয়ে ভালো ট্রিটমেন্ট করার চেষ্টা করছি।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল কিন্তু তারা মুখোশ পরা ছিল। যে দুজন দুর্বৃত্ত, তাদের মুখে মুখোশ ছিল এবং সেগুলো দেখে পর্যালোচনা চলছে, ওখানে হাই পাওয়ার টিম কাজ করছে। পুলিশের চৌকশ একটি টিম কাজ করছে। তারা আশাবাদী যে খুব দ্রুত আমাদের জানাতে পারবেন কারা এই ঘটনাটা ঘটিয়েছে। আমরা অপেক্ষা করছি।

তিনি বলেন, নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিহা খানমকে সব থেকে ভালো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যেন যায় সে চেষ্টা করছি, এক্ষেত্রে নিউরোসায়েন্স হাসপাতাল সবথেকে ভালো। যা যা করা প্রয়োজন আমাদের পক্ষ থেকে আমরা সেটি করছি। একটু অপেক্ষা করতে হবে দুর্বৃত্তরা করা। তারা কী ডাকাতির উদ্দেশ্যে এসেছিল নাকি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো কারণে শত্রুতা তৈরি হয়ে এ রকম কিছু হয়েছিল কি-না। আমি ডিসিকে ডিজ্ঞেস করেছি শত্রুতাবশত এ রকম কিছু হয়েছিল কিনা, তিনি বলেছেন, এ ধরনের কোনো কিছু অবহিত করেননি। আশা করি আমরা সিটিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে, তার পিতাও কিন্তু আহত, শত্রুতাবশত মনে করলে সে একা আক্রান্ত হত। কিন্তু তার পিতাও আক্রান্ত হয়েছেন। ডাকাতির উদ্দেশ্যে বা এ রকম কিছুও হতে পারে। আমরা অপেক্ষা করছি, অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে বিষয়টি দেখছি। অতি অল্প সময়ের মধ্যে আশা করি জটটা খুলবে এবং আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তার তিন বছর বয়সী একটি সন্তান আছে, সে অক্ষত এবং স্বামী রংপুরের পীরগঞ্জ এলাকায় ইউএনও।

পারিবারিক শত্রুতা কিনা- প্রশ্নে তিনি বলেন, পারিবাহিক শত্রুতা মনে হচ্ছে না, তবে তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আমরা জিজ্ঞাস করেছি, কোনোকিছু খোয়া গেছে কিনা, এখনও জানা যাচ্ছে না। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিষয়টির চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে।

হামলার পরে স্থানীয় সংসদ সদস্যও তার বাসায় গিয়ে বলেছেন- ডাকাতির জন্য নয়, মেরে ফেলার জন্য হামলা করা হয়েছে- এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার এ কথা তদন্ত কাজে সহায়তা করবে। তিনি তো ওই এলাকার সিচ্যুয়েশন ভালো জানেন।

%d bloggers like this: