loading...

প্লাজমা দাতাদের ‘উপহার’ দেবেন নিউ ইয়র্কের ডা. ফেরদৌস

0

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিষয়ে বরাবরই তিনি ছিলেন অতি পরিচিত মুখ। ভার্চুয়াল মাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা মূলক পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন তিনি। এর মধ্যে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে আরও সক্রিয় ভূমিকায় সামনে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের আলোচিত বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. ফেরদৌস খন্দকার। যার নামের পাশে যুক্ত হয়েছে ‘মানবিক চিকিৎসক’ খ্যাতিটি।

সুদূর মার্কিনমুলুকে বসেও তিনি বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছেন নিরন্তর। এবার তিনি সামনে এলেন করোনা রোগীদের চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত কার্যকরী উপায় ‘প্লাজমা থেরাপি’র প্রসারে। ঘোষণা দিয়েছেন করোনার সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠা কেউ প্লাজমা দান করলে তিনি তাকে আর্থিক সহযোগিতা করবেন। প্লাজমা দিতে মানুষকে আরও আগ্রহী করতেই তিনি এই উৎসাহমূলক উপহার ঘোষণা বলে জানা গেছে।

নিউইয়র্কের বিখ্যাত মাউন সাইনাই হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, ‘প্রতিষেধক আবিষ্কারের আগ পর্যন্ত ‘প্লাজমা থেরাপি’কেই করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে আপাতত বড় অস্ত্র বলে মনে করছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। এর সুফলও মিলছে। কিন্তু করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের মধ্যে এখনো প্লাজমা দান করতে আগ্রহ কম। তাদের উদ্বুদ্ধ করতেই আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।’

তিনি জানান, এরই মধ্যে তিনি বিষয়টি নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সন্ধানী ব্লাড ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।

দ্য নিউ ইয়র্ক মেইলের এক খবরে বলা হয়, করোনা আক্রান্ত রোগী সুস্থ হলে তার রক্তে করোনার অ্যান্টিবডি তৈরি হয়৷ রক্তের হলুদাভ জলীয় অংশেই থাকে সেটা৷ এটাই প্লাজমা৷ সুস্থ হওয়া রোগীর রক্ত থেকে এই প্লাজমা নিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে দিলে তার অ্যান্টিবডি বা করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে এবং রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে৷ এটাই এখন প্লাজমা থেরাপি হিসেবে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এফডিএ এটাকে ইনভেস্টিগেশনাল নিউ ড্রাগস হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে।

ডা. ফেরদৌস খন্দকার বলেন, ‘বাংলাদেশে ইতিমধ্যে প্লাজমা থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু হয়েছে। সুস্থ হওয়া রোগীর রক্ত থেকে এই প্লাজমা নিয়ে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে দিলে তার অ্যান্টিবডি বা করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে। আক্রান্ত রোগীর শরীরে গিয়ে ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে ভাইরাসটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেয় এবং রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে দ্রুত।’

তিনি বলেন, ‘করোনা থেকে সুস্থ হওয়া ব্যক্তি রক্ত দিলে তার কোনো ক্ষতি হবে না কিন্তু তার দেওয়া রক্তে আরেকজন করোনা আক্রান্ত রোগীর জীবন বাঁচবে।’

ডা. ফেরদৌস বলেন, ‘করোনা রোগীকে আক্রান্ত হওয়ার প্রথম সপ্তাহের মধ্যে আমরা এই প্লাজমা থেরাপি দিতে পারি তাহলে ভালো ফল পাওয়া যাবে। এজন্য বাংলাদেশে প্লাজমা অনেক বেশি পরিমাণ জমা রাখতে হবে ভবিষ্যতের পরিস্থিতি সামাল দেবার জন্য।’

যারা প্লাজমা দিতে চান তাদেরকে-০১৫৩৩-৯৮৭৯১৫ নম্বরে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে নিয়মিত উপস্থিত হয়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দিচ্ছেন ডা. ফেরদৌস খন্দকার। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে করণীয় এবং করোনায় আক্রান্ত হলে কী করতে হবে, এ নিয়ে নিয়মিত কথা বলছেন ফেসবুক লাইভ কিংবা ইউটিউবের পর্দায়। অনেক ভুল ধারনাও ভাঙছে তার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে।

করোনার এই দুর্দিনে নিউইয়র্কের অন্য চিকিৎসকরা চেম্বার বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকলেও একমাত্র ডা. ফেরদৌস খন্দকারই চেম্বার খোলা রেখে করোনা আক্রান্ত মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন গত তিনমাস ধরে। এছাড়া তিনি হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশিকে খাদ্য সহায়তা এবং নগদ অর্থও সাহায্য করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার সংবাদমাধ্যমেও তার এসব মানবিক ও কমিউনিটি সেবা প্রশংসিত হয়েছেন।

শুধু নিউইয়র্কে নয় একইভাবে দেশেও তিনি অনেক ধরনের সহায়তা করছেন। বাংলাদেশের চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য ১৫ হাজার কেএন-৯৫ মাস্ক ছাড়াও পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের জন্যে কয়েকহাজার মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস পাঠিয়েছেন।

loading...
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: