প্রেমের ফাঁদে যৌন সম্পর্ক পরে অভিনব ব্ল্যাকমেইল

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

মোহাম্মদ ইয়াসিন রাতুল। পড়াশোনা করেছে নবম শ্রেণি পর্যন্ত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় এসে কাজ শুরু করে ‘চা বয়’ হিসেবে। এরপর চাকরি নেয় একটি শো-রুমে। হঠাৎ তা ছেড়ে শুরু করে অভিনব প্রতারণা। বিশেষ করে তরুণীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলতে থাকেন।

সেই দৃশ্য ভুক্তভোগী তরুণীদের মোবাইলেই ধারণ করে তা (মোবাইল) নিয়ে গোপনে সটকে পড়তেন। পরে ভিডিও ধারণের কথা জানিয়ে নারীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতেন মোটা অঙ্কের টাকা। তার (রাতুল) মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হয়েছে এমন দশজনের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি।

ভয়ংকর এই ‘যৌন ফাঁদ’ প্রতারককে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা আছে। প্রতারক রাতুলকে গ্রেপ্তারের পর তার মোবাইলে ভুয়া কল এবং ভুয়া হিস্ট্রির অ্যাপসসহ প্রতারণায় ব্যবহৃত অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষতা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে নারীদের সঙ্গে প্রতারণা সম্ভব হয়েছে, বলছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদ ঢাকাটাইমসকে জানান, প্রতারক রাতুলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। সে বিভিন্ন সময় প্রায় দশজন নারীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তদন্তের পর আরো তথ্য পাওয়া যাবে।

এদিকে সম্প্রতি সিআইডির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন একজন তরুণী। অভিযোগের পর সিআইডি জানতে পারে, ভয়ংকর এই প্রতারক সস্পর্কে। এরপরই শুরু হয় গোয়েন্দা নজরদারি। অভিযোগে ওই তরুণী জানিয়েছেন, ছয়মাস ধরে রাতুলের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় তারা দেখা সাক্ষাৎ করেছেন। একদিন রাতুল তরুণীসহ তার বন্ধুদের চাঁদপুর নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। লঞ্চে চাঁদপুর যাওয়ার সময় বন্ধুদের অনুপস্থিতিতে কৌশলে নগ্ন ভিডিও ধারণ করেন।

ঢাকায় পৌঁছে রাতুল তার মোবাইলে ব্যালেন্স নেই জানিয়ে ওই তরুণীর মোবাইল নেয়। এরপর সদরঘাট থেকে সটকে পড়েন। পরে তরুণীর ফেসবুক আইডি নিজের দখলে নেয় এবং তার বিকাশ অ্যাকাউন্টে থাকা দশ হাজার ক্যাশ আউট করে নেয়। এছাড়া মোবাইলে নগ্ন ভিডিও’র কথা জানিয়ে, তা অনত্র সরিয়ে দেওয়া ভয় দেখিয়ে ২৫ হাজার টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে তার বাবা-মাকে ফোন করে টাকার জন্য চাপ দেয়।

%d bloggers like this: