প্রস্তাবিত বাজেট গতানুগতিক: সিপিডি

0

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক,

নতুন অর্থবছরের (২০২০-২১) প্রস্তাবিত বাজেটকে গতানুগতিক বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

তিনি বলেন, ‘২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য গতানুগতিক বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী বাজেটে স্বাস্থ্য সামাজিক নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানে সৃজনশীল পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’

বৃহস্পতিবার অনলাইনে বাজেট পর্যালোচনায় তিনি এ কথা জানান।

ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘সংকটের সময় সুশাসনের অভাব দেখা গেছে৷ সুশাসন নিশ্চিত জরুরি। সামষ্টিক অর্থনীতির কাঠামো বাস্তবের আলোকে হয়নি।সরকার এক ধরনের মোহ জিডিপির প্রবৃদ্ধির দিকে তাকিয়ে আছে। ভারত ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাজেটে যত সূচক দিয়েছে সেটি বাস্তবের আলোকে দরকার ছিল। অর্থনীতি চিত্র সঠিকভাবে না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলও প্রশ্ন তুলবে।’

অর্থনীতিবিদ ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘আমরা যেহেতু কোভিডের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানিনা তাই সেটি মাথায় রেখে বাজেট করা উচিত।’ তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি খাতে ঋণ প্রবাহ এপ্রিল পর্যন্ত ৮ দশমিক ২ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ ১২৫ শতাংশ বেশি টাকার সাথে ডলারের দাম স্থিতিশীল থাকবে। তবে টাকার মূল্যমান কিছুটা বাড়বে।’

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বিশ্বে কমেছে সেটি বিবেচনা করে রেমিট্যান্স প্রবাহের দিকে নজর দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি দায় দেনার ক্ষেত্রে ৬২. ৪ শতাংশ অভ্যন্তরীন ঋণ। বিদেশ থেকে ঋণ নিতে পারলে আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকবে। দায়ের পরিমাণ যাতে না বাড়ে সেদিকে সর্তক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবাহ, জিডিপি প্রবৃদ্ধির দিকে নজর না দিয়ে আগামী বাজেটে কেমন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারবে এটা মূল লক্ষ্য হতে হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি থেকে বের হয়ে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও কর্মসংস্থানের দিকে নজর দিতে হবে।সরকারের ব্যয় আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। বাজেটের রাজস্ব আহরণ ও ব্যয়ের সমযোচ্যতার দিকে নজর দিতে হবে।’

ড. ফাহমিদা বলেন, ‘২০২০-২১ অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা ঊলোম্ফন। এটি বাস্তবায়ন প্রশ্নবিদ্ধ। জনসেবা খাতে সর্ববৃহৎ বরাদ্দ। ৪৯.৩ শতাংশ ব্যয় ধরা হয়েছে। কোভিডে বরাদ্দ ২০২০-২১ সালে ২১ হাজার ২২ কোটি টাকা রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাজেট অর্থায়ন হিসেবে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশের লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। এর বড় অংশ ব্যাংক ঋণ। ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ। এটি প্রায় ৮৬ কোটি টাকা। ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে ছোট বড় ব্যবসায় অর্থয়ান বাধাগ্রস্ত হবে।’

বৈদেশিক অর্থ ১১.১ বিলিয়ন ডলার। বিদেশি সাহায্য নিয়ে প্রকল্প দ্রুত না করলে অর্থ পাওয়া যাবে না।

কাঠামো গত ব্যয় গতানুগতিক। ব্যয় ৬.৫ শতাংশ৷ আগামী বাজেটে ৬.৯ শতাংশ। চলতি বছর ৬০ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হতে পারে।

৫টি খাতে আগের মত:

ড. ফাহমিদা বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে, শিক্ষা কৃষি ও কর্মসংস্থান খাত প্রথম দিকে আসেনি। তালিকার দিকে যেটি বরাদ্দ দেয়ার কথা সেটি দেখছি না।’ তিনি বলেন, ‘করমুক্ত আয়সীমায় পরিবর্তন করা হয়েছে। কোভিডের প্রেক্ষিতে এটি ভালো উদ্যোগ।’

সিপিডির এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘কালোটাকা সাদার সুয়োগ প্রতিবছর দেওয়া হয়। কোভিডের জন্য এ সুযোগ অনেক খাতে দেওয়া হয়েছে। এটি করে সৎ করদাতাদের সাথে অবিচার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ অপর্যাপ্ত। এখাতে কেন বরাদ্দ কম সেটির পক্ষে যুক্তি দেয়া হয়েছে, খরচ করা হয়না। এ খাতে ২০ অর্থবছরের চেয়ে আগামী বাজেটে মাত্র এক শতাংশ বেড়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বেড়েছে তবে অন্য বছরের চেয়ে কম। কর্মসংস্থানে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে আনুষঙ্গিক দেওয়া হয়নি।

%d bloggers like this: