প্রতারণার অভিযোগে ‘ভিসা গাইড সেন্টার’ সিলগালা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক,

নামে ভিসা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু লাইসেন্স ছাড়াই বিদেশে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার এবং কানাডা, জাপানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে ভিসা গাইড সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আজ সোমবার অভিযান চালিয়ে সত্যতা পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয় র‌্যাব।

আজ বেলা দুইটা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর শাহআলী মার্কেটে নবম তলায় ভিসা গাইড সেন্টারে অভিযান চালায় র‌্যাব-৩ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, এমডি, পরামর্শক, কাউন্সিলর এবং আইটি স্পেশালিস্টকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়।

দায় স্বীকার করায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সি এস হাফিজ এবং এমডি মোশাররফ হোসেনকে অভিবাসী আইন ২০১৩ এর ৩২ ধারায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।

কাউন্সেলিংয়ের সঙ্গে জড়িত আরিফুল ইসলাম ও আইটি স্পেশালিস্ট সুজন রনিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী র‌্যাব-৩ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু গণমাধ্যমকে বলেন, ভিসা গাইড সেন্টার একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান। তাদের কাজ মূলত বিদেশে যেতে ইচ্ছুক বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শ দেয়া। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন না নিয়ে বিদেশে লোক পাঠানোর নাম করে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটি বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের কানাডা, জাপান, ফিজি, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভনের চটকদার বিজ্ঞাপন দেয়। এরপর সারা দেশে তাদের দালালদের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলেন।

পলাশ কুমার বসু বলেন, ‘তাদের কোনো রিক্রুটমেন্ট লাইসেন্স নেই। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নেই। তারা বিভিন্ন কোম্পানির নামে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার তৈরি করে বিদেশ গমনেচ্ছুদের দেয়। লোকজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কোর টাকা হাতিয়ে নেয়। আজও কয়েকজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা নিয়েছে।’

ভুক্তভোগীদের অনেকে ভুয়া ভিসা নিয়ে প্রতারিত হয়েছেন। পরে তারা টাকা ফেরত চাইলে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি, এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন প্রতিষ্ঠানটির মালিকসহ কর্মকর্তারা। অভিযানের এই স্বল্প সময়ে আমরা যেসব তথ্য-উপাত্ত পেয়েছি তার ভিত্তিতে জানতে পারি, ২০২০ সালেই আড়াই হাজার লোকের কাছ থেকে এক কোটি ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৯ সালে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। প্রতিদিনই বিদেশ গমনেচ্ছুদের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটি।

%d bloggers like this: