পাবনা র্যাব কর্তৃক তিনটি বিদেশী পিস্তল,৫টি ম্যাগাজিন,৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার-গ্রেফতার ৪

0

IMG_20170409_162206পাবনা প্রতিনিধি :

র্যাব তার প্রতিষ্ঠা লগ্ন হতেই খুন, অপহরণ, জঙ্গী দমন, ছিনতাই, চাঁদাবাজী, চুরি ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করাসহ দুঃষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে অপরাধ নির্মূলে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে এবং র্যাব-১২ এর আওতাধীন এলাকাগুলিতে ব্যাপকভাবে সফলতা অর্জন করেছে। গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধিসহ সার্বণিক অভিযান পরিচালনা করে র্যাব ইতোমধ্যে জনগনের আস্থা অর্জনে সম হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে দেশের সাম্প্রতিক জঙ্গিবাদ উত্থানরোধে র্যাব তার আভিযানিক কার্যক্রম আরো জোরদার করেছে।

এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১২, সিপিসি-২, পাবনা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানায় মামলা নং- ৫০, তারিখঃ-২৩/০৩/২০১৭ ইং, ধারা-১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯-অ/১৯(ভ)/২৫ এবং মামলা নং-৫৫, তারিখঃ-২৩/০৩/২০১৭ ইং, ধারা-১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ১৯(১) টেবিলের ৯(খ)/২৫ এর এজাহারনামীয় পলাতক আসামী মোঃ সালাম(৩৫) ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনের প্লাটফর্মের পাশে অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১২, পাবনা এর একটি আভিযানিক টহল দল ঘটনাস্থলে পৌছে গত ০৮/০৪/২০১৭ ইং তারিখ রাত অনুমান রাত ১০:০৫ ঘটিকার দিকে মোঃ সালাম(৩৫), পিতা-মোঃ তফিজ উদ্দিন, সাং-ভেলুপাড়া, থানা-ঈশ্বরদী, জেলা-পাবনাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ধৃত আসামী মোঃ সালামকে আগ্নেয়াস্ত্র ও তার সহযোগী ডাকাতদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় যে, তার দলীয় প্রধান মানিকসহ অন্যান্য ডাকাত সদস্যরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানাধীন শেরশাহ রোড সাকিনে মানিক ও তুহিনের ভাড়া বাসায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র-গুলিসহ অবস্থান করছে। উক্ত সংবাদের সত্যতা যাচাই ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে অত্র কোম্পানীর একটি আভিযানিক দল অদ্য ০৯ এপ্রিল ২০১৭ তারিখ ০৪.৩০ ঘটিকায় পাবনা ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার লেফটেন্যান্ট মোঃ রুহুল আমিন (এক্স), বিএনভিআর এর নেতৃত্তে পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানাধীন শেরশাহ রোড সাকিনে জনৈক মৃত রফিকুল ইসলাম এর দোতলা বাড়ির নীচতলায় অভিযান পরিচালনা করে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ০৩ দূর্ধর্ষ সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।

এরা হলেন, ১। মোঃ মানিকুজ্জামান সুমন@মানিক(৪৩), পিতা-মৃত আনিছুর রহমান@্ইউনুচ, সাং-শেরশাহ রোড, পূর্ব টেংরী, থানা-ঈশ্বরদী জেলা-পাবনা।

২। মোঃ মোকলেছ (২৪), পিতা-মৃত মনজিল সর্দার, সাং-গোকুল নগর, থানা-ঈশ্বরদী জেলা-পাবনা।

৩। মোঃ ফারুক হোসেন তুহিন@তুষার(৪০), পিতা-মোঃ আমিরুল ইসলাম@আমির, সাং-ক্ষেমির দিয়া মুনসীপাড়া, থানা-ভেড়ামারা, জেলা-কুষ্টিয়া’দের প্রত্যেকের কাছে ১টি করে মোট ০৩(তিন)টি ৭.৬৫ মিঃমিঃ বিদেশী পিস্তল, ০৫টি ম্যাগাজিন, ০৬(ছয়) রাউন্ড গুলি, ১৬ (ষোল)টি বিভিন্ন মডেলের ছিনতাইকৃত মোবাইল সেট, ১০টি সীমকার্ড, ০১টি চোরাই মোটর সাইকেল, ০১টি চোরাই ইজিবাইক, ডাকাতির করার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি এবং ডাকাতি করা মোটর সাইকেলের অসংখ্য যন্ত্রাংশ উদ্ধারপূর্বক গ্রেফতার করা হয় এবং র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে সহযোগী অন্যান্য ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামা ডাকাত পালিয়ে যায়।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা আনুমানিক ১২/১৫ বছর যাবত রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, সিরাজগঞ্জ, ঢাকার আশুলিয়া এবং নাটোর জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ১নং আসামী মোঃ মানিকুজ্জামান সুমন(৪৩) এর নেতৃত্বে ডাকাতি, খুন, চুরি, ছিনতাই এবং অজ্ঞান পার্টির সাথে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে।

এছাড়াও ধৃত আসামী মানিক তার সহযোগী আসামীসহ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিজেদের হেফাজতে রেখে বড় ধরনের ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণ করছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ধৃত আসামী মানিক প্রথম জীবনে মোটর সাইকেল গ্যারেজে কাজ করত। পরবর্তীতে সে গ্যারেজের কাজ ছেড়ে দিয়ে কিছুদিন খুলনায় রেলওয়ে কলোনীতে তার নানার বাড়িতে অবস্থান করে। সেখান থেকে আবার ঈশ্বরদীতে এসে ঈশ্বরদী থানাধীন জগন্নাথ গ্রামের কুখ্যাত মোটর সাইকেল ছিনতাইকারী জাইদার সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে তারা দুজনে বিভিন্ন জায়গায় মোটর সাইকেল চুরি ও ছিনতাই করত। মানিক পুলিশ কর্তৃক ধৃত হয়ে জেলহাজতে গেলে সেখানে তুহিন, সেলিম, আলাল ও মোকলেছ এর সাথে পরিচয় হয়। পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি পেয়ে তুহিন, সেলিম, মাছুম, আলাল, সালাম ও মোকলেছ সংঘবদ্ধভাবে বিভিন্ন জায়গায় মোটর সাইকেল ও ইজিবাইক চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির সাথে জড়িয়ে পরে।
মানিকের সহযোগী মোকলেছ প্রথম আকিজ ফ্যাক্টরীতে বিড়ি তৈরির কাজ করত। মানিকের সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে সে মানিকের চোরাই ও ছিনতাইকৃত গাড়ি পরিষ্কার করত। পরবর্তীতে সে নিজেই মানিকের সহযোগী হয়ে বিভিন্ন জায়গায় চুরি ও ডাকাতির সাথে জড়িয়ে পরে। ধৃত আসামী তুহিনের সাথে প্রথমে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থানার কুখ্যাত চোর মুক্তারের পরিচয় হয়। সে মুক্তারের সাথে একটি নসিমন চুরি করতে গিয়ে পাবনা সদর থানা এলাকায় জনগন কর্তৃক ধৃত হয়ে পুলিশের নিকট সোপর্দ হয়। পরবর্তীতে জেলখানায় থাকা অবস্থায় মানিকের সাথে তার পরিচয় হয়। ধৃত আসামী মোঃ সালাম প্রথমে ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। পরবর্তীতে সে মানিকের সহযোগীতায় রেলওয়ের তেল চুরি সিন্ডিকেটের সাথে জড়িয়ে পড়ে এবং মাঝে মধ্যে চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ে অংশ নেয়। সংশ্লিষ্ট থানা ও কোর্টে ব্যাপক অনুসন্ধান করে ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ইজিবাইক ও মোটরসাইকেল চুরি ও ছিনতাইয়ের একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া যায় এবং উক্ত মামলাসমূহ পর্যালোচনা করে জানা যায় যে, ধৃত আসামীগন ইজিবাইক ও মোটর সাইকেল চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, খুনসহ ডাকাতি এবং অজ্ঞান/মলম পার্টির সাথে জড়িত থেকে নগদ টাকা, স্বর্নালঙ্কার হাতিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দূর্ধর্ষ অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে।

১নং আসামী মোঃ মানিকুজ্জামান সুমন(৪৩) এর বিরুদ্ধে ১০টি মামলার তথ্য পাওয়া যায়,

১। রাজশাহী জেলার বাঘা থানার মামলা নং-১৩ তাং-০৬/০৮/২০১২ ইং, ধারা ৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড।

২। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার মামলা নং-৩১, জিআর-৩১, তাং ১৬/০১/২০১৭ ইং, ধারা-৩৭৯/৩২৬/ ৩০৭/৩৪ পেনাল কোড।

৩। পাবনা সদর থানার মামলা নং-১৩, তাং-০৫/০২/২০১৭ ইং, জিআর-১১০/১৭, ধারা-৩৯২/৪১১ পেনাল কোড।

৪। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার মামলা নং-০৯ তাং-০৭/০২/২০১৭ ইং, ধারা ৩২৬/৩০৭ পেনাল কোড।

৫। নাটোর জেলার লালপুর থানার মামলা নং-১৩, তাং-১৩/০৩/২০১২ ইং, ধারা-৪৫৭/৩৮০/৪১১ পেনাল কোড।

৬। নাটোর জেলার লালপুর থানার মামলা নং-১৬, তাং-১৬/০৫/২০১২ ইং, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড।

৭। পাবনা সদর জিআর নং-৩৩৮/১৪, ধারা-৩৯৬ পেনাল কোড এর ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী।

৮। জিআর নং-১৩৩/৯৭ (পাবনা), ধারা-৩৯৩ পেনাল কোড এর ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী।

৯। পাবনা সদর জিআর নং-৮০/১৪, ধারা-৩৯৬ পেনাল কোড এর ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী।

১০। জিআর নং-৮০/০৯(চাটমোহর), ধারা-৪২০/৪০৬/৩৭৯ পেনাল কোড এর ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী। ২নং আসামী মোঃ মকলেছ (২৪) এর বিরুদ্ধে ০৩টি মামলার তথ্য পাওয়া যায়।

১। নাটোর জেলার লালপুর থানার মামলা নং-২৭, তারিখ ২২/০৮/২০১৬ খ্রিঃ, ধারা-৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড।

২। নাটোর জেলার লালপুর থানার মামলা নং-১৬, তারিখ ১৬/০৫/২০১২ খ্রিঃ, ধারা-৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোড।

৩। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার মামলা নং-২৮, তারিখ ২৫/১২/২০১৪ খ্রিঃ, ধারা-১৪৭/১৪৮/১৪৯/৩৩৩/ ৩৫৩/৩০২ পেনাল কোড। ৩নং আসামী মোঃ ফারুক হোসেন তুহিন@তুষার(৪০) এর বিরুদ্ধে ০১টি মামলার তথ্য পাওয়া যায়।

১। পাবনা সদর থানার জিআর নং-৩৩৮/১৪, মামলা নং-০৯, তারিখ ১৬/০৭/২০১৪ খ্রিঃ, ধারা-৩৯৬ পেনাল কোড এর ওয়ারেন্টভূক্ত আসামী। ধৃত আসামী মোঃ সালাম (৩৫) এর বিরুদ্ধে ০২টি মামলার তথ্য পাওয়া যায়।

১। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানায় মামলা নং-৫০, তারিখঃ-২৩/০৩/২০১৭ ইং, ধারা-১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯-অ/১৯(ভ)/২৫(এজাহারনামীয় পলাতক আসামী)।

২। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানায় মামলা নং-৫৫, তারিখঃ-২৩/০৩/২০১৭ ইং, ধারা-১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনের ১৯(১) টেবিলের ৯(খ)/২৫ (এজাহারনামীয় পলাতক আসামী)।
ধৃত আসামীদের বিরুদ্ধে ঈশ্বরদী থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

%d bloggers like this: