পাবনা নার্সিং ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন

0

পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনা নার্সিং ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মানসিক নির্যাতনসহ সেমিস্টার পরীক্ষায় আক্রশমূলকভাবে নম্বর কম দিয়ে দুই ছাত্রীকে ফেল দেখিয়ে মনগড়া ফলাফল প্রকাশ করার অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

বছর খানেক আগেও এই ইনস্টিটিউটে এ ধরণের ঘটনায় এক শিক্ষার্থী নিজ কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। সে সময় ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ ছিলেন মমতাজ বেগম। ছাত্রীদের নির্যাতনসহ বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে একাধিক তদন্ত টিম তদন্তে আসলে অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় মমতাজ বেগমের শাস্তিমূলক পদচ্যুতি ও তাকে এ ইনস্টিটিউট থেকে বদলী করা হয়। বর্তমান ইনষ্টিটিউটের ইনচার্জ হালিমা খাতুন। তিনি দয়িত্ব গ্রহণের পর থেকে একইভাবে ছাত্রীদের সাথে আচরণ করে আসছেন বলে অভিযোগ করেনে ছাত্রীরা।

ছাত্রীদের অভিযোগ ইনচার্জ হালিমা খাতুন গত ১৫ ফেব্র“য়ারি ২০১৭ ইং বুধবার সেমিস্টার পরীক্ষা চলাকালে ৭ জন ছাত্রীকে পরীক্ষার ফেল করানোর প্রকাশ্যে হুমকী দেন। তার এ ধরণের হুমকিতে শাপলা খাতুন নামে এক পরীক্ষার্থী ভয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং তার নাক দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়।

এ সময় তাকে একটু সুস্থ্য করার পর পরীক্ষা দিতে দেয়া হয়নি বলে শাপলা খাতুনসহ ছাত্রীরা জানায়। এরপর পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই ইনচার্জ হালিমা খাতুন সবাইকে ফেল করার মৌখিকভাবে ঘোষণা দেন।

গত ১২ মার্চ ২০১৭ ইং ৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫জনকে পাশ এবং শাপলা খাতুন ও মহফুজা নামক দুই ছাত্রীকে ফেল দেখিয়ে পরীক্ষার ফলাফল বোর্ডে টাঙিয়ে ইনস্টিটিউট ত্যাগ করেন ইনচার্জ হালিমা খাতুন।

১৩ মার্চ সোমবার সকাল ১১ টায় শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার মনগড়া ফলাফল পূণ:বিবেচনার দাবীতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

এসময় খবর পেয়ে প্রিন্ট এবং টিভি চ্যানেলের সংবাদ কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে, বিক্ষুব্ধ ছাত্রীরা ইনস্টিটিউটের ভিতর অবরুদ্ধ অবস্থায় ইনচার্জ হালিমা খাতুনের অপসারণ ও তার মনগড়া ফলাফল পূণ:বিবেচনার দাবী করেন। শতশত ছাত্রী হালিমা খাতুনের বরিুদ্ধে শিক্ষার্থী ছাত্রীদের ওপর বিভিন্নভাবে মানসিক নির্যাতন, সেমিস্টার পরীক্ষার সময় আক্রশমূলক আচরণ করে প্রশ্নোত্তর লিখতে বিঘœ ঘটানো, পরীক্ষার হলে ফেল করানোর আগাম ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শণ করা, শিক্ষার্থীদের যত্র-তত্র কারণে কুত্তার বাচ্চা ও সোয়ারের বাচ্চা বলে অশালীন ভাষায় গালি দেয়াসহ অনৈতিক আচরণ করার অভিযোগ করে।

এসময় ইনস্টিটিউটের কয়েকজন ইনস্ট্রাক্টরকে ডেকে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তারা কোন তথ্য দিতে অস্বীকার করেন।

তবে কয়েকজন ছাত্রী বলেন, পরীক্ষার সময় যে পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল তাতে কোন পরীক্ষার্থী ঠিকমত লিখতে পারেনি। খাতা পরীক্ষা করলে কেউই পাশ করার মত নম্বর থাকবে না।

এদিকে সকাল ৮ টা হতে কর্মদিবস শুরু হলেও ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ হালিমা খাতুনকে দুপর ১ টা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অফিস কর্মচারীরা জানান, তারা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সাথে সম্পৃক্ত নয়।

এ সময় ইনস্টিটিউটের গেটে কোন প্রহরী ছিলেন না। তারা বেলা ১২ টার দিকে আসেন। সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনে ছাত্রীদের কথা বলতে না দিয়ে ইনস্টিটিউটের বারান্দায় ও বিভিন্ন কক্ষে তালা ছুলিয়ে দেয়া হয়।

এ সময় পাবনা জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ মঞ্জুরা রহমানসহ কয়েকজন কর্মচারী ইনষ্টিটিউটে প্রবেশ করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ইনষ্টিটিউটের গেটের বাইরে এসে ক্যামেরার সামনে বলেন কয়েকজন নামধারী সাংবাদিক ইনষ্টিটিউটে প্রবেশ করার সংবাদ পেয়ে আমি এসেছি। ছাত্রীদের বিষয়টি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছি। তিনি ছাত্রীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, পরীক্ষায় না লিখলে ফেল তো করবেই। ছাত্রীদের ওপর মানসিক নির্যাতনসহ অনৈতিক আচরণের বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রীরা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেব। ইনস্টিটিউটে ইনচার্জ অনুপস্থিতির কারণ সম্পর্কে ডাঃ মঞ্জুরা রহমান বলেন তিনি ছুটিতে আছেন।

এসময় স্থানীয় একজন জনপ্রতিনিধি এসে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিরত রাখার চেষ্টা এবং ইনষ্টিটিউটের বদনাম এড়াতে সংবাদ পরিবেশন না করার আহ্বান জানিয়ে বিরাজমান সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন।

এরপর সংবাদ কর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পর বিকেল ৩ টার দিকে হাসপাতাল ও ইনষ্টিটিউট কর্তৃপক্ষের আশানুরূপ কোন সিদ্ধান্ত না পেয়ে ৩৮০ জন ছাত্রী ইনষ্টিটিউট ত্যাগ করার জন্য বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। কিন্তু ইনষ্টিটিউটের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় তারা বের হতে পারেনি।

ভুক্তভোগী ছাত্রীরা জানায় গতকাল ১৪ মার্চ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্মাক্ষর নিয়ে বলেন তোমরা চুপ থাক। ফেল করলেও তোমাদের ইয়ার লস করাবো না। যে দু’জন ফেল করেছে তারা ফেলই থাকবে।

এব্যাপারে ভূক্তভোগী দুই ছাত্রী জানান, আমরা এখন শঙ্কিত আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে।

এদিকে ঘটনার দিন ১৩ মার্চ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল চত্তর থেকে বেড়িয়ে আসার সময় চিকিৎসাধীন রোগীর কয়েকজন আত্মীয় বলেন, এই হাসপাতালে সরকারের বরাদ্দকৃত প্রচুর ওষুধ সমগ্রী যায় কোথায় আপনার লিখতে পারেন না ?

এ ব্যাপারে তাদের নিকট থেকে আরও কিছু তথ্য জানতে চাওয়া হলে রোগীর লোকজন বলেন, হাসপাতালে ভর্তি সামান্য সংখ্যক রোগীদের স্যালাইন দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারের দেয়া অন্যান্য প্রচুর ওষুধ গরীব রোগীদের দেওয়া হয় না। রোগীর লোকজন বাইরের বিপনী থেকে ওষুধ কেনেন।

স্থানীয়রা বলেন, এ হাসপাতালে সরকারি বরাদ্দের বিপুল পরিমাণ ওষুধ কোথায় যায়, কী ভাবে ব্যয় হচ্ছে তার সঠিক তদন্ত হলে আরও আনেক ঝোলার বিড়াল বেড়িয়ে আসবে।

%d bloggers like this: