পরিবেশ রক্ষায় দরকার ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

0

সাইফ আহমাদ:

প্রযুক্তির কল্যাণকর অগ্রযাত্রায় দিন দিন বেড়েই চলেছে মোবাইল ফোনসহ নানা ধরনের ইলেকট্রিক ডিভাইসের ব্যবহার। মানুষের হাতে শোভা পাচ্ছে নিত্যনতুন ফোন। এক সময় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে হাতের মোবাইলটি আর শখের ফোনটি পরিণত হচ্ছে পরিবেশ দূষণকারী ই-বর্জ্য।

দেশে ই-বর্জ্য আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় তা রোধ করতে উদ্যোগ নিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। এবার নষ্ট বা পুরনো মোবাইল টাকার বিনিময়ে ফেরত নেয়ার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ মোবাইল ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া শাহিদ যুগান্তরকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, নষ্ট মোবাইল ফোন ফেরত দিলে যাতে ফোনের মালিক কিছু টাকা পায়, সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর ফলে ই-বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলে না রেখে মানুষ তা নির্দিষ্ট স্থানে দেয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ হবে। পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১০টি শপিংমলে এ বুথ বসানোর কথাও জানান তিনি।

এবং পর্যায়ক্রমে দেশের ১০০টি শপিংমলে এ বুথ বসান হবে। জনাব জাকারিয়া শাহিদ বলেন, করোনা মহামারীর কারণে আমাদের এ উদ্যোগ কিছুটা থেমে আছে, তবে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা আবার পূর্ণোদ্যমে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কাজ শুরু করব। এখন স্বল্প পরিসরে চলছে, তবে এটি যথেষ্ট নয়। আর সবার আগে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে, যাতে নিজ উদ্যোগে মানুষ পরিবেশ রক্ষার্থে এগিয়ে আসে।

পরিবেশ রক্ষার্থে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত জরুরি বলেও যোগ করেন জাকারিয়া শাহিদ। বাংলাদেশে প্রতি বছরে প্রায় ৪ কোটি মোবাইল সেট নষ্ট হয়। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি হ্যান্ডসেট আমদানি করা হচ্ছে। ফলে এখান থেকে যে ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, সেটি পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।

পরিবেশ অধিদফতর জানায়, বিশ্বে দ্রুততার সঙ্গে বেড়ে চলছে ইলেকট্রিক বর্জ্য। এসব বর্জ্য মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ব্যাপক ক্ষতিকর। এর কারণে ক্যান্সারে পর্যন্ত আক্রান্ত হতে পারেন মানুষ। এ বর্জ্যে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও।

বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদফতরের এক হিসাবে বলা হচ্ছে, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে ৪ লাখ টন ইলেকট্রনিক বর্জ্য হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, পরবর্তী পাঁচ বছরের মধ্যে এটি ১২ লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে।

ই-বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে যা করা যেতে পারে

ই-বর্জ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কয়েকটি পদ্ধতির কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, যন্ত্র ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি শেখা। এতে মোবাইল, ল্যাপটপ ও ট্যাব বেশি দিন ধরে ব্যবহার করা যাবে।

গুরুত্ব দিতে হবে পুরনো সামগ্রীর ব্যবহার বাড়ানোর ওপরে। একই যন্ত্র একাধিক কাজ করবে, এমন মাল্টিপারপাস ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রের ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই চার্জারে সব সংস্থার সব মডেলের মোবাইল চার্জ করা যায়, এমন চার্জারের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। ই-ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, ইউনিফর্মের ব্যবহার, নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

%d bloggers like this: