নড়াইলে ভ্যাপসা গরমে আনন্দঘন পরিবেশে বাংলা নববষ বরণ সপ্তাহজুড়েই

0

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

ভ্যাপসা গরমের আবার অনা বৃষ্টি নামে। দিনের পাশাপাশি রাতে রয়েছে শীতের অনুভূতি। প্রকৃতির এসব রূপ আমাদের স্মরণ করে দেয়, বৈশাখ এসেছে। আমরা ইতিমধ্যেই সেই কাক্সিক্ষত সময়ে হাজির হয়েছি। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্য ভিত্তিতে, নড়াইলে ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ হলেও এর আগে ও পরে সপ্তাহজুড়েই যেন ছড়িয়ে পড়ে এর আমেজ। এবারের বর্ষবরণের মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে বাংলা ১৪২৪ সন। নববর্ষ বাঙালির একটি সর্বজনীন লোকউৎসব।

এদিন আনন্দঘন পরিবেশে বরণ করে নেওয়া হয় নতুন বছরকে। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদ্যাপিত হয় নববর্ষ। বাংলা বছরের প্রথম দিবস উদ্যাপনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি অসা¤প্রদায়িকতা। এমন লোকায়ত এবং জনমানুষসম্পৃক্ত ক্যালেন্ডার খুব কম আছে বলেই বাংলা নতুন বছর বাঙালিকে শিকড়ের সন্ধান দেয়। পুরাতনকে বিদায় দিয়ে নতুনকে আলিঙ্গনের অনন্য উদাহরণ হিসেবে দিনটি সামনে আসে, আনন্দে মাতিয়ে আগামীর দিনগুলোর লড়াইয়ে সাহস জোগায়। মেলায় যাই রে পয়লা বৈশাখের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান হলো বৈশাখী মেলা। কোনো কোনো জায়গায় এ মেলা চলে এক সপ্তাহজুড়ে। নড়াইলের এসব মেলায় পাওয়া যায় স্থানীয় কৃষিজাত পণ্য, লোকশিল্পজাত পণ্য, সব ধরনের হস্তশিল্প ও মৃৎশিল্প বা মাটির সামগ্রী।

এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের খেলনা, মেয়েদের সাজসজ্জার সামগ্রীসহ আরও কত কিছু পাওয়া যায় এসব মেলায়। এ ছাড়া রকমারি লোকজ খাদ্যসামগ্রী যেমন, চিড়া, মুড়ি, খই, বাতাসা ও বিভিন্ন মিষ্টির রকমারি সমাহার থাকে এ মেলায়। আর পান্তা-ইলিশ নববর্ষের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে সব এলাকায়। পয়লা বৈশাখে বাঙালির লোকজ উৎসব শুধু খাওয়াদাওয়াই নয়, এসব মেলায় বিভিন্ন অঞ্চলের লোকগীতি, লোকনৃত্য পরিবেশন করা হয়। সেখানে পালাগান, জারিগান, সারিগান, গম্ভীরা, আলকাপ গান তো থাকেই, থাকে যাত্রাপালার আয়োজনও। কোথাও কোথাও পথনাট্য উৎসবও থাকে। চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, নাটক, পুতুলনাচ, সার্কাস, নাগরদোলা বৈশাখী মেলার বিশেষ আকর্ষণ। শিশু-কিশোরদের জন্য থাকে বায়োস্কোপ। তবে বর্তমানে সংস্কৃতির আদলে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে নববর্ষ উদ্যাপিত হয়। পয়লা বৈশাখের প্রভাতে উদীয়মান সূর্যকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় নববর্ষের উৎসব। নড়াইলে নববর্ষকে স্বাগত জানিয়ে শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।

এদিন সাধারণত সব শ্রেণির ও বয়সের মানুষ ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাক পরিধান করে। নববর্ষকে স্বাগত জানাতে তরুণীরা লালপেড়ে সাদা শাড়ি, হাতে চুড়ি, খোঁপায় ফুল, গলায় ফুলের মালা ও কপালে টিপ পরেন; আর ছেলেরা পরেন পাজামা ও পাঞ্জাবি। নড়াইলে সকালবেলা পান্তাভাত খাওয়া একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে পয়লা বৈশাখে। সঙ্গে থাকে ইলিশভাজা। নড়াইলে এভাবে লোকজ বর্ষবরণ প্রথাগুলোর কোনো কোনোটির অনুসরণের মাধ্যমে গ্রামীণ ঐতিহ্য অনেকটা সংরক্ষিত হচ্ছে। বর্ষবরণের চমকপ্রদ ও জমজমাট আয়োজন থাকে নড়াইলে। এখানে বৈশাখী উৎসবের অনুষ্ঠানমালা এক মিলনমেলার সৃষ্টি করে। নববর্ষের প্রথম প্রভাতে রমনা উদ্যান ও এর চারপাশের এলাকায় জনস্রোতে সৃষ্টি হয় জাতীয় বন্ধন। তবে নববর্ষকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়, তা সারা দেশের মানুষের কাছেই আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়। বাংলা নববর্ষ ও চৈত্রসংক্রান্তি উপলক্ষে নড়াইলের জেলার ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয়-সামাজিক উৎসব নড়াইলে আনন্দমুখর পরিবেশে পালিত হয়। উৎসব। বছরের শেষ দুই দিন এবং নতুন বছরের প্রথম দিন-এ তিন দিন মিলেই মূলত বর্ষবরণ উৎসব পালিত হয়।

নড়াইলে উৎসবটিকে ঘিরে বিভিন্ন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন করে। নববর্ষের দিন নড়াইলের জেলার আদিবাসীরা আয়োজন করে ঐতিহ্যবাহী খেলা। পবিত্রতার প্রতীক ধরে নিয়ে তরুণ-তরুণীদের শুদ্ধ করে নেয়। নড়াইলে উৎসবটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। বর্ষবরণ আয়োজন পয়লা বৈশাখ উদ্যাপিত হয়। বাঙালি স¤প্রদায় বাংলা নববর্ষে আয়োজন করে। মোটকথা যেখানেই বাঙালিরা আছেন, সেখানেই বেশ ঘটা করে পালিত হয় নববর্ষ। মেলার আয়োজন করা হয় সেখানে। আয়োজকেরা দেশ থেকে কিনে নিয়ে যান ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও খাবার। এভাবে বিদেশের মাটিতে দেশি উৎসবে সেখানেও জমে ওঠে বাঙালির এক অনাবিল মিলনমেলা।

%d bloggers like this: