নড়াইলে উচ্ছে চাষ করে প্রায় ২০ হাজার পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা কৃষকরা উচ্ছে চাষে ঝুঁকেছেন

0

উজ্জ্বল রায় নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

অন্যান্য সবজি ও ফসলের তুলনায় খরচ কম বলে কৃষকরা উচ্ছে চাষে ঝুঁকেছেন। মাত্র তিন থেকে চারবার সেচ দিতে হয়। খুব বেশি সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। তবে অতিবৃষ্টি, কুয়াশাচ্ছন্ন ও মেঘলা আবহাওয়া এজন্য ক্ষতিকর নড়াইলের নলদী ইউনিয়নের মাটি উচ্ছে চাষের উপযোগী। প্রতি বছরই এ অঞ্চলে এর ভালো ফলন হয়। তাই নড়াইলের নলদীর ২৩ গ্রামকে এখন সবাই চেনে উচ্ছেপল্লী হিসেবে। উচ্ছে চাষ করে প্রায় ২০ হাজার কৃষক পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা। আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়ের পাঠানো তথ্য ভিত্তিতে, চাষীরা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে নড়াইলের নলদী ইউনিয়নের কানাবিলে প্রথমে উচ্ছে আবাদ হয়। ফলন ভালো পাওয়ায় আগ্রহ সৃষ্টি হয় কৃষকদের মধ্যে।

এর পর থেকে উচ্ছে আবাদ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ২০১৬-১৭ মৌসুমে ইউনিয়নে ২১০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয় সবজিটির। এ থেকে ফলন পাওয়া গেছে ৮৭৫ টন। নড়াইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের প্রথম দিকে উচ্ছের বীজ বপন করা হয়। একটি স্থানে ছয়-সাতটি বীজ দেয়া হয়। বীজ বপনের প্রায় ১০ দিন পড়ে চারা গজায়। এরপর মাটিতে খড় বিছিয়ে দেয়া হয়। দেড় মাস পর ফলন পাওয়া যায়। প্রতি একরে ৩০-৩৫ হাজার খরচ হয়। ফলন পাওয়া যায় তিন মাস। প্রথম দিকে পাইকারিতে ৮০ টাকা কেজি দরে উচ্ছে বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে ২০-২৫ টাকায়। শেষের দিকে দাম আবার চড়া হয়। বর্তমানে গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি কেজি উচ্ছে ৪০ এবং করলা ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উচ্ছে চাষ করেন বিদ্যুত্। তিনি জানান, প্রতিদিন কানাবিলের আশপাশে সকাল ১০টা নাগাদ উচ্ছের বাজার বসে। বেপারিরা এখান থেকেই পাইকারি দরে উচ্ছে কিনে নেন। নড়াইলের গাছবাড়িয়া গ্রামের আরতী বলেন, এখানকার উচ্ছে যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, ফরিদপুর, বরিশাল, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।

৩৮ শতক জমিতে উচ্ছে চাষ করেছেন লক্ষণ কুমার। প্রতিদিন ৫০-৬০ কেজি বিক্রি করেন। কানাবিলে গাছ থেকে উচ্ছে সংগ্রহ করেন লাকি। প্রতি কেজি তোলার জন্য ২ টাকা করে দেয়া হয়। ওই বিলের আরেক কর্মী সাবানা খাতুন জানান, নড়াইলের এ অঞ্চলের প্রতিটি মাঠে অন্তত ৫০ নারী উচ্ছে তোলা ও বাজারজাতের কাজে নিয়োজিত। এছাড়া বীজ বপন, পরিচর্যার ক্ষেত্রে নারীদের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। নড়াইলের বারইপাড়ার ওহিদুর রহমান (৫৫) ১৯৯৬ সালে কানাবিলে প্রথম উচ্ছে চাষ করেছিলেন। তাকে দেখে অন্যরা শুরু করেন। ক্রমে নলদী এলাকায় আগ্রহ বাড়ে উচ্ছে চাষে। নড়াইলের এ এলাকার ২৩টি গ্রাম এখন উচ্ছেপল্লী হিসেবে পরিচিতি।

অথচ একসময় শুষ্ক মৌসুমে এসব জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। নলদী ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামের সাব্বির শেখ জানান, অন্যান্য সবজি ও ফসলের তুলনায় খরচ কম বলে কৃষকরা উচ্ছে চাষে ঝুঁকেছেন। মাত্র তিন থেকে চারবার সেচ দিতে হয়। খুব বেশি সার ও কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না। তবে অতিবৃষ্টি, কুয়াশাচ্ছন্ন ও মেঘলা আবহাওয়া এজন্য ক্ষতিকর। নড়াইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপপরিচালক,আমাদের নড়াইল জেলা প্রতিনিধি উজ্জ্বল রায়কে জানান, চলতি মৌসুমে ২১০ হেক্টর জমিতে ৮৭৫ টন উচ্ছে হয়েছে। এর বেশির ভাগই নড়াইলের নলদী এলাকায়। তবে জেলার অন্যান্য জায়গায় উচ্ছের আবাদ বাড়ছে।

%d bloggers like this: