নড়াইলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পৃথক দুটি সশস্ত্র হামলায় ১৮ জন রক্তাক্ত জখম \ ৩টি বাড়ী ভাংচুর থানায় মামলা, গ্রেফতার ৫জন

0

উজ্জ্বল রায়, নড়াইল জেলা প্রতিনিধি:

নড়াইলের সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের সশস্ত্র হামলায় ৯ জন রক্তাক্ত জখম হয়েছে। আহতদের একজন মুমুর্ষ অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের শড়াতলা গ্রামে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া আগ্নেয় অস্ত্রের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছে শড়াতলা গ্রামের হাকিম মোল­ার ছেলে বখতিয়ার মোল­া(৩৫)। তার অবস্থা খুবই আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বখতিয়ার মোল্যার ভাই রবি মোল্যা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় মামলা দিয়েছে। মামলা নং-৭। মামলায় শড়াতলা গ্রামের আকলিজ ফকিরকে ১ নম্বর আসামী করে মোট ৪৯ জনের নাম উলে­খ করা হয়েছে।

মামলার এজহার, এলাকাবাসিও ক্ষতিগ্রস্থদের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮মার্চ) বিকেলে মামলার বাদী রবি মোল্যা, তার ভাই গুরুতর আহত বখতিয়ার সহ ১০/১২ জন পার্শ্ববর্তী বাদশার গ্যারেজ নামক বাজার হতে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে শড়াতলা গ্রামের আকলিজ ফকিরের বাড়ির নিকট পৌছালে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই গ্রামের আকলিজ ফকির, ইকলাজ ফকির,বাকি ফকির, পারভেজ ফকিরের নেতৃত্বে এক দল সশস্ত্র লোক তাদের উপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীদের ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলির ভয়ে সকলে দিক বিদিক ছুটতে থাকে। সন্ত্রাসীদের ছোড়া ৪ টি গুলি লাগে বখতিয়ারের শরীরের বিভিন্ন স্থানে। সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

এসময় সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার পায়ের রগ ও হাতের আঙ্গুল কেটে মৃত মনে করে পেলে চলে যায়। ২টি আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ঠেকাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন মামলার বাদী রবি মোল্যা একই গ্রামের পলাশ, ছাইফুল, শুকুর মৃধা, নাজমুল খা, হাদিয়ার শেখ, মোরশেদ শেখ ও মোতালেব। আহতদের হাসপাতালে নিতেও বাঁধা দেয় সন্ত্রাসীরা। বাধ্য হয়ে আহতদের লোহাগড়া ও যশোরে বিভিন্ন হাসপাতাল, ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মারাত্তক আহত বখতিয়ার মোল্যাকে প্রথম নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়া হয়। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে তাৎক্ষনিক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা ঘটনার সময় হাদিয়ার শেখ ও আকরামের বাড়ি ভাংচুর করে। আকরাম শেখ’র স্ত্রী রিসিনা জানান, তার শরীর হতে স্বর্নের চেন ও ঘর হতে নগদ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নিয়েছে সন্ত্রাসীরা। সরজমিন ঘটনাস্থলে গেলে শড়াতলা গ্রামের ইবরাহিম শেখ’র স্ত্রী চম্পা, আকরাম শেখ, রবিউল মোল্যা, আব্দুল করিম মোল্যা, হাদিয়ার শেখ, সাহেব শেখ সহ আরোও অনেকে জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী রাসেল মিয়া,পারভেজ ফকির,আফজাল ফকির ও জাহিদ শেখ এলাকায় মাদক ব্যবসা করে। তারা আগ্নেয় অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।

তাদের গুলিতে বখতিয়ার আহত হয়। নিরীহ লোকজনের উপর অতর্কিত গুলি চালানো ও কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নড়াইল সদর থানার ওসি দেলোয়ার হোসেন খান এ প্রতিবেদক উজ্জ্বল রায়কে জানান, পারিবরিক কোন্দলের ভিত্তিতে ঐ স্থানে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয় তবে ঘটনাস্থলে গুলি করার ঘটনা ঘটেনি। এ পর্যন্ত উভয় পক্ষের ৫ জন আটক হয়েছে। এ দু’পক্ষের মধ্যে শতাধিক মাদক মামলাসহ বিভিন্ন প্রকার মামলা রয়েছে। সার্বিক বিষয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অপরদিকে নড়াইলে আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে চর দৌলতপুর গ্রামে দু’পক্ষের সংঘর্ষে শিক্ষার্থী,মহিলা,ও শিশুসহ ৯জন আহত হয়েছে। এ সময় ৩টি বাড়ি ভাংচুর করে ব্যাপক লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওযা গেছে। আহতদের লোহাগড়া ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলেও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের পাংখারচর গ্রামের ইউপি সদস্য আকিদুল কাজী সমর্থিত লোকজনদের সাথে পার্শ^বর্তী দক্ষিণ লংকারচর গ্রামের ফজর চৌধুরী সমর্থিত লোকজনদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে গত ১৮ ফেব্রæয়ারি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়। এ ঘটনায় আকিদুল কাজী ও অপর পক্ষের ফজর চৌধুরী বাদী হয়ে লোহাগড়া থানায় পৃথক দুটি এজাহার জমা দিলেও রহস্যজনক কারনে আকিদুল কাজী’র মামলাটি রেকর্ড হয়। মামলা রেকর্ড হওয়ায় ফজর চৌধুরী সমর্থিত লোকজনের বাড়িতে অনেকটা পুরুষশুন্য হয়ে পড়ায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান এলাকাবাসী। ওই সংঘর্ষে আহত আশিক কাজী (১৮) চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরে আসলে উত্তেজনা দেখা দেয়। বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) চর-দৌলতপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বার্ষিক έীড়া অনুষ্ঠান চলাকালে ইউপি সদস্য আকিদুল কাজীর নেতৃত্বে আলতু কাজীর ছেলে রিয়াজুল,নৌবাহিনীতে চাকুরিরত দিদার কাজীর ছেলে অমিত কাজী,আনছার,বাহিনীতে চাকুরিরত আমানত কাজীর ছেলে সুমন কাজীসহ ৪০/৫০ জনের একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দক্ষিণ লংকারচর গ্রামের ফজর চৌধুরী, গঞ্জের চৌধুরী ও আব্দুর রহমান চৌধুরীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে মূল্যবান আসবাবপত্র, স্বর্ণালংকার, ধান-চাল, মুসুরী, গম, জমির দলিল, নগদ টাকা, মোবাইল ও ৮টি গরু লুট করে পালিয়ে যায় বলে জানান রহমান চৌধুরী।

ভাংচুর ঠেকাতে গেলে সন্ত্রাসীরা ফজর চৌধুরী, গঞ্জের চৌধুরী, আব্দুর রহমান চৌধুরী, সুরাইয়া বেগম, শাহিদা বেগম, আছিয়া খানম, কিনান চৌধুরী, লিখন ও ইয়ামিনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। আহতদের লোহাগড়া হাসপাতাল ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । সংঘর্ষের মধ্যে স্বরসতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফজর চৌধূরীর মেয়ে আছিয়া খানমকে ইউপি সদস্য আকিদুল কাজী বেধড়ক মারপিট করে শ্লীলতার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। লোহাগড়া থানার এসআই কেএম জাফর আহম্মেদ শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, সংঘর্ষের পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আব্দুর রহমান চৌধুরী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছে।

%d bloggers like this: