নেত্রকোনায় নৌ-পথে অবাধে চলছে চাঁদাবাজী

0

মোঃ আলী ছোবান নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ মহামারি করোনাভাইরাস সংক্রমনে জনজীবন থমকে গেলেও নেত্রকোনার নৌ- পথে অবাধে চলছে চাঁদাবাজী। স্থানীয় প্রশাসনের নাকের ডগায় জেলার খালিয়াজুরীর ধনু নদের বিভিন্ন স্থানে পাথর, কয়লা ও বালু বাহী বলগেট (ইঞ্জিন চালিত বড় নৌকা) থেকে দীর্ঘদিন ধরে চলছে চাঁদাবাজী। অভিযোগে জানা গেছে, সিলেটের ছাতক, জাফলং থেকে নৌ-পথে বলগেটে করে পাথর, কয়লা ও সিনেটর বালি নেয়া হয় ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জে। এমনকি বরিশাল, পটুয়াখালী পর্যন্ত যায় ওই পাথর, কয়লা ও বালি। সিলেট থেকে যাওয়ার পথে নেত্রকোনার খালিয়াজুরীর ধনু নদের গাগলাজুর, আসদপুর, নাওটানাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে নৌ পুলিশের নাম করে এবং স্থানীয় কিছুলোক আর কাটি (সীমানা নির্ধারী বাঁশের খঁটি) স্থাপনের কথা বলে ওই সমস্ত বলগেট থেকে ৫০ টাকা থেকে ৩০০/- টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে বলগেটের চালকদের মারধর এবং লাঞ্চিত করা হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনৈক বলগেট চালক বলেন, মাঝে মধ্যে আমাদেরকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে হয়। সন্ত্রাসীদের ১০ থেকে ২০হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের লেপসিয়া বাজারের জনৈক ময়না মিয়া স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থেকে এসব নিয়ন্ত্রন করেন। এ ব্যাপারে ময়না মিয়া চাঁদাবাজীর কথা অস্বীকার করে বলেন, আর কাটি না দিলে সীমানা হারিয়ে নৌকার বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ জন্য বাাঁশের খুঁটি দিয়ে নৌকা প্রতি ১০ টাকা থেকে ২০টাকা নেয়া হয়। বিষয়টি বলগেট মালিকদেও সাথে পরামর্শ করেই নেয়া হচ্ছে। লেপসিয়া নৌ পুলিশের ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম জানান, কিছুদিন ধরে নৌ পুলিশ দায়িত্ব গ্রহন করেছে। দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে এলাকায় অপরাধ দমনে কাজ করে যাচ্ছে। কেউ যদি নৌ পুলিশের কথা বলে চাঁদাবাজী কওে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী বলেন, চাঁদাবাজী বন্ধে আমরা জিরো টলারেন্স। সড়ক ও নৌপথ কোন ক্ষেত্রেই চাঁদাবাজী চলতে দেয়া হবে না। চাঁদাবাজী, ছিনতাই, ডাকাতি বন্ধের জন্য নৌ পুলিশ নিয়োগ করা হয়েছে। হাওর উপজেলা খালিয়াজুরীতে চাঁদাবাজীর কথা শুনেছি। চাঁদাবাজীসহ যে কোন ধরনের অপরাধ দমনে নৌ পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ কাজ করছে।

%d bloggers like this: