নেত্রকোণা জেলার হাওর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল গান বিলুপ্তির পথে।

0

মোঃ আবুল হোসেন, নেত্রকোণা প্রতিনিধি :

নেত্রকোণা জেলার  হাওড় দ্বীপ খালিয়াজুরী উপজেলা। ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিকভাবে রয়েছে যেমন এর ভিন্নতা তেমনি রয়েছে আলাদা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। এ এলাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে প্রখ্যাত বাউল সাধক উকিল মুন্সি, মরমী কবি হাসন রাজা,  বাউল সাধক শাহ্ আব্দুল করিম, দূরবীন শাহ্ ,ধামাইল গানের প্রাণ পুরুষ রাধা রমণ দত্ত প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। ভাটি এলাকার বিয়ে – সাধী পূজা পার্বন যেকোনো আচার অনুষ্ঠানের নান্দনিকতা বাড়িয়ে দেয় ধামাইল গানের ছন্দ। কিন্তু বিদেশি সংস্কৃতির কারণে  ধামাইল গান আস্তে আস্তে বিলুপ্তির পথে।
ঠিক এমনই দুঃসময়ে খালিয়াজুরী উপজেলার নগর ইউনিয়নের তাঁতিয়া গ্রামের কয়েকজন উচ্চশিক্ষিত তরুণী মিলে নিয়েছে এক ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ। তারা ধামাইল গান রক্ষা ও এর প্রসারের জন্য গড়ে তুলেছে এক মহুয়া ধামাইল টিম নামে একটি সংগঠন। তারা গ্রামে গ্রামে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছায় আয়োজন করে ধামাইল গানের আসর। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যা  কারণে তাদের কার্যকম চালাতে পারছে না।
সংগঠনটির দলনেতা শেফালি সরকার আফসোস করে বলেছেন, বর্তমানে আমাদের এলাকার ঐতিহ্যবাহী ধামাইল সংগীত বিলুপ্তির পথে। টিকিয়ে রাখার জন্য কারও কোনো মাথা ব্যাথা নেই। সরকার ও দেশের বিত্তবানদের কাছে আমাদের দাবি আর্থিক বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পেলে আমরা ভবিষ্যতে এই ধামাইল গান বাঁচিয়ে  রাখত পারব।
তারা স্বপ্ন দেখেছে স্থায়ীভাবে ধামাইল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন  এবং মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা  করার। তাদের আশা সরকারের  সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে বাস্তবায়িত হবে তাদের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন।

এ এলাকার জনপ্রিয় ধামাইল সংগীত সর্ম্পকে সংগীত শিল্পী  ও  বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবু জহরলাল দেব রায় বলেন, নারীদের মর্ম বেদনার গান ধামাইল। নারীদেরকে বাদ দিয়ে যেমন কাংখিত উন্নয়ন সম্ভব নয় তেমনি সংস্কৃতির উৎকর্ষতার জন্য ধামাইল গানের বিকল্প নেই।

তাই ধামাইলের প্রবর্তক, লোকসংগীতের পুরোধা সাধক কবি রাধারমন দত্তের এই ধামাইল গানে নারীর বিরহের, বিচ্ছেদের ও প্রেমের কথা ধামাইল গানে আমরা শুনতে পাই। তাই এই গান প্রচার ও প্রসারের গুরুত্ব সর্বাধিক । এই ব্যাপারে তিনি  সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

খালিয়াজুরী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাত্তন প্রধান শিক্ষক এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তারা প্রসন্ন দেব রায় বলেন, আমরা আশা রাখব গ্রাম বাংলার এই লোক – কৃষ্টিকে ধরে রাখার জন্য। আমাদের জারি, সারি, ভাটিয়ালি গানের পাশাপাশি ধামাইল সংগীতের প্রচলন হোক এবং গ্রামের প্রতিটি প্রান্তরে মুখরিত হোক হারানো ধামাইল সংগীত। এ ব্যাপারে আমি সব মহলের প্রতি সুদৃষ্টি আকর্ষণ প্রয়োজন মনে করি।  তাহলেই আমাদের সংস্কৃতি সার্থক হবে#

%d bloggers like this: