নিখোঁজ যুবকের শরীরের তিন খণ্ড মিলল তিন জায়গায়

0

ঢাকার দক্ষিণখান হতে নিখোঁজের পর হেলাল উদ্দিন নামের এক যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহের তিন খণ্ড তিন জায়গা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার বিকালে পুলিশ দক্ষিণখানের গাওয়াইর এলাকা তার মস্তক উদ্ধার করে। এর আগে বিমানবন্দর এলাকার একটি ঝোপ থেকে গলা থেকে নাভি ও দক্ষিণখানের বটতলা এলাকা থেকে কোমর থেকে পায়ের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।

কোরানে হাফেজ হেলালের বাড়ি পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ থানার দইহাড়ি গ্রামে। মাদ্রাসায় পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি দক্ষিণখানের আজমপুরে মোবাইল ফোন রিচার্জের ব্যবসা করতেন। গত রবিবার রাত থেকে নিখোঁজ হেলালকে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে হত্যা করা হতে পারে বলে ধারনা করছে পুলিশ।

নিহতের বড় ভাই হুজায়ফা হোসেন বাদী হয়ে দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা করেছেন।(মামলা নং-১২)। হত্যাকারীদের শনাক্তে ছায়া তদন্তে নেমেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, নিহত হেলাল উদ্দিন যে রুমটিতে থাকতেন সেখানে তার রুমমেটের সঙ্গে পুরনো কোনও দ্বন্দ্ব ছিল। এই হত্যার সঙ্গে এক বা একাধিক লোক জড়িত আছে বলে ধারনা করছেন গোয়েন্দারা।

পুলিশের আরেকটি সূত্র মতে, সম্ভাব্য হত্যাকারী কয়েক দফা বিভিন্নস্থান থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা তুলেছেন। যে ব্যক্তি টাকা পাঠাতেন সেই ব্যক্তি নিহত হেলাল উদ্দিনের রুমমেট। হত্যায় জড়িতদের যে কোনও সময় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উত্তর বিভাগের উপ-কমিশনার মশিউর রহমান ঢাকাটাইমসকে বলেন, এখনো পর্যন্ত এই মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

দক্ষিণখান থানার পুলিশ জানায়, হাজী আবদুস সালাম ভূঁইয়া রোডের ১০৯ নম্বর বাড়ির সামনে কাঁচা রাস্তার ওপরে একটি লাশের নিচের অর্ধেক অংশ বস্তাবন্দি অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে বিমানবন্দর থানার বটতলা পানির পাম্পের সামনের ডাস্টবিনের মধ্যে বস্তাবন্দি অবস্থায় পাওয়া যায় মাথাবিহীন লাশের ওপরের অংশ।

হুজায়ফা মুঠোফোনে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মঙ্গলবার লাশ নিয়ে আমরা যখন মাওয়া ফেরীঘাটে আসি তখন পুলিশ ফোন করে আমাদেরকে জানায়, আমার ছোট ভাইয়ের মাথা পাওয়া গেছে। পরে লাশের মাথা সংগ্রহ করে আমাদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করি।’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দক্ষিণখান থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সারোয়ার হোসেন ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। আসামিদের ধরতে পারলে মামলার মোটিভ সম্পর্কে জানতে পারবো।’

%d bloggers like this: