নকলায় নদী ভাঙন ঝুঁকিতে ঐতিহ্যবাহী প্রাথমিক বিদ্যালয়

0

মোঃ নাসির উদ্দিন,নকলা(শেরপুর):

শেরপুরের নকলায় ১৮৩৬ সালে স্থাপন হওয়া উপজেলার চরঅষ্টধর ইউনিয়নের দক্ষিণ নারায়নখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি উপজেলার সবচেয়ে পুরোনো স্কুল গুলোর মধ্যে একটি। ঐতিহ্যবাহী পুরোনো এ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদের শাখা মৃগী নদীর ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক শামছুন নাহার জানান, এ বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক কর্মরত ও প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। নদী ভাঙনের ফলে এরই মধ্যে স্কুল মাঠের এক তৃতীয়াংশ নদীর গর্ভে চলে গেছে। স্কুল ভবনের দক্ষিন পাশে মাত্র কয়েক ফুট জায়গা রয়েছে। যেকোন মুহুর্তে ভবনসহ ওই মাঠটুকু ভেঙে নদীতে চলে যেতে পারে। তিনি আরও জানান, ২০১৯ সালে মাঠের কিছু অংশ ভেঙে নদীতে মিশেগেছে। এবছর বর্ষার শুরু হতেই ভাঙন শুরু হয়েছে। তবে ২০১৯ সালে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে নতুন স্থানে নতুন ভবন নির্মানের লক্ষে মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। অজ্ঞাত কারনে নতুন ভবন নির্মানের কাজ শুরু হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে স্কুলটি স্থানান্তর জরুরি বিবেচনায় বর্তমান স্কুলের জমি দাতা দেলোয়ার হোসেন মাষ্টার এ স্কুলের ক্যাচমেপের মধ্যেই বর্তমান স্থান থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে স্কুলে নামে নতুন করে প্রয়োজনীয় জমি দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন জমিতে স্কুলটি স্থানান্তর করে নতুন ভবন নির্মানের দাবী এলাকাবাসীর। তা না হলে ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা স্কুলে তাদের ছেলে-মেয়েদের পাঠাবেন না বলে অনেকে জানান।

হুমকিতে থাকা নারায়খোলা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. শফিক খান জানান, কয়েক দিনের টানা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে মৃগী নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়ে নদীর উত্তর পাড়ে ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর গর্ভে চলে গেছে অনেক আবাদী জমি ও গাছপালা, অন্যত্র সড়িয়ে নেওয়া হয়েছে অনেক বসতবাড়ী। এরই মধ্যে বিদ্যালয় মাঠের বেশ কিছু অংশ মৃগী নদীরগর্ভে চলে গেছে। চলতি বর্ষায় বিদ্যালয়টি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সরজমিনে দেখা গেছে। খুবশীঘ্রই স্কুলটি অন্যত্র সড়িয়ে না নিলে নদীর গর্ভে চলে যেতে পারে। স্রোতের পানিতে মিশে যেতে পারে শত শত শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। স্থানীয় এমপি সাবেক কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে বিষয়টি কয়েকবার অবহিত করা হলেও আজ পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন কাজ হয়নি। তবে জনস্বার্থে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মান করা ও ঐতিহ্যবাহী স্কুলটি অন্যত্র সড়িয়ে নেওয়া জরুরী বলে মনে করছেন এলাকাবসী। তারা জানান, এই বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনের ফলে অন্তত ২ বার স্থানান্তর করতে হয়েছে।

চরঅষ্টধর ইউপির চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী জানান, স্কুলটি স্থানান্তর না করলে ভবনসহ সম্পূর্ণ স্কুলটি নদীর গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে, ঘটতে পারে মারাত্মক দূর্ঘটনা। এখন স্কুলটি স্থানান্তর প্রক্রিয়া শুরু করলে একটি হাফ বিল্ডিং ও একটি সম্পূর্ণ পাকা ভবন বিক্রি করে দিয়ে, ওই টাকায় আপাতত সরকারি বরাদ্দকৃত নতুন ভবন নির্মানের আগ পর্যন্ত নতুন স্থানে একটি হাপ বিল্ডিং ভবন তৈরী করে হলেও সেখানে পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। এবিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফজিলাতুন নেছা জানান, বিদ্যালয়টির বর্তমান অবস্থা সরজমিন পরিদর্শন করে জেলা শিক্ষা অফিসসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা মোতাবেক পরবর্তী কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এরই মধ্যে নতুন ভবন নির্মানের জন্য নতুন স্থানের মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রক্রিয়া শেষে নতুন ভবন নির্মানের কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানান। আপাতত ভবন রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা কামনা করা হয়েছে।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদুর রহমান বলেন, ভাঙন কবলিত নারায়খোলা দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। আপাতত রক্ষা করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং নতুন স্থানে নতুন ভবন নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

%d bloggers like this: