ধর্ষণের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহে মানব্বন্ধন

0

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ময়মনসিংহ :

প্রতিবাদের, প্রতিরোধের এখনই সময়, ধর্ষণের বিরুদ্ধে জাগো এই স্লোগানকে সামনে রেখে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ ও বিবস্ত্র করে পাশবিক নির্যাতন এবং সিলেটে এমসি কলেজে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের দ্বারা গৃহবধূ ধর্ষণসহ সারাদেশে অব্যাহত নারী নির্যাতনে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ৭ দফা দাবিতে ময়মনসিংহে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ব বিদ্যালয়ের সাধারন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর টাউন হল চত্বরে সাধারন শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ঘন্টাব্যাপী এ কর্মসূচী পালন করা হয়। এদিকে মানব্বন্ধনের খবর পেয়ে আগে থেকেই কোতুয়ালী মডেল থানা পুলিশের কর্মকর্তারা মানব্বন্ধনস্থলে অবস্থান নেন।

এ সময় মানব্বন্ধনে চলাকালে সাধারন শিক্ষার্থীরা  ধর্ষণকারীদের কঠোর সমালোচনা করেন। সেই সাথে সরকারকে কঠোর হুশিয়ারী দিয়ে ধর্ষণ ও নারী হয়রানী বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

বক্তারা আরও বলেন – সারাদেশে নারী ধর্ষণ নির্যাতনের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেক পাড়া মহল্লায় মাদকসেবি, মাস্তান, চাঁদাবাজরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। প্রায় প্রত্যেকটা ঘটনার সাথে সন্ত্রাসীরা যুক্ত। নোয়াখালী, এমসি কলেজের ঘটনায় সরাসরি ক্ষমতাসীন দলের পদধারী সন্ত্রাসীরা যুক্ত।

ক্ষমতার দাপটে এই সন্ত্রাসীদের বিচার না করায় তারা আরও উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। একদিকে বিচারহীনতা অন্যদিকে মাদক, পর্ণোগ্রাফি, নারীর প্রতি কূপমন্ডুক দৃষ্টিভঙ্গি সমাজে নারী নির্যাতনের ক্ষেত্র তৈরী করেছে। এ অবস্থায় প্রত্যেক পাড়া মহল্লায় নারী নির্যাতক, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

অন্যদিকে বক্তরা আরও বলেন, হাইকোর্টের দেয়া ৭ দফা দাবী দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে, দাবী গুলো হলো,

এক. দেশের সব নিম্ন আদালতকে ধর্ষণ এবং ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা মামলাগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইনের নির্ধারিত সময়সীমার (বিচারের জন্য মামলা প্রাপ্তির তারিখ হতে ১৮০ দিন) মধ্যে দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়।

দুই. ট্রাইব্যুনালগুলোকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০-এর ধারা ২০-এর বিধান অনুসারে মামলার শুনানি শুরু হলে, তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে একটানা মামলা পরিচালনা করতে হবে।

তিন. ধার্য তারিখে সাক্ষীর উপস্থিতি ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতি জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), সিভিল সার্জনের একজন প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবেন এবং কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতিমাসে সুপ্রিম কোর্ট, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাবে।

যেসব জেলায় একাধিক ট্রাইব্যুনাল রয়েছে, সেসব জেলায় সব ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটররা মনিটরিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং তাদের মধ্যে যিনি জ্যেষ্ঠ, তিনি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন।

চার. ধার্য তারিখে রাষ্ট্রপক্ষ সঙ্গত কারণ ছাড়া সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হলে মনিটরিং কমিটিকে জবাবদিহি করতে হবে।

পাঁচ. মনিটরিং কমিটি সাক্ষীদের নামে দ্রুততম সময়ে যাতে সমন জারি করা যায়, সে বিষয়েও মনিটরিং করবেন।

ছয়. নির্ধারিত তারিখে সমন পাওয়ার পরও অফিসিয়াল সাক্ষীরা, যেমন−ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, চিকিৎসক বা অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সন্তোষজনক কারণ ব্যতিরেকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য উপস্থিত না হলে, ট্রাইব্যুনাল ওই সাক্ষীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ এবং প্রয়োজনে বেতন বন্ধের আদেশ দেওয়ার বিবেচনা করবেন।

সাত. আদালতের (হাইকোর্টের) সুচিন্তিত মতামত এই যে, অবিলম্বে সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন এবং আদালত এটাও প্রত্যাশা করছে, সরকার অতি স্বল্প সময়ে উক্ত বিষয়ে আইন প্রণয়ন করবে।

%d bloggers like this: