ঢাকা ৩০°সে ১৪ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
শিরোনাম :
বৃষ্টি সন্ধ্যা ঈশ্বরগঞ্জবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন মাহমুদ হাসান সুমন ঈশ্বরগঞ্জবাসীসহ বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে এমপি ফখরুল ইমাম এর ঈদ শুভেচ্ছা প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহম্মেদ এমপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেল দুস্ত পরিবার ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে চতুর্থ দফায় ডাঃ প্রিন্স সেনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত পবিত্র ঈদুল ফিতরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য সিলেটে ভারতফেরত করোনা আক্রান্ত নারীর মৃত্যু জগন্নাথপুরে হামলায় আহত ব্যক্তি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বান্দরবানে প্রধানমন্ত্রী’র ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করলেন পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং করোনাকালে ঈদুল ফিতরের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমাদের করনীয়

ই’তেকাফ: তাৎপর্য, ফজিলত ও বিধিবিধান

ইবাদতের মাস রমাযান মাস। আল্লাহর রহমত,মাগফেরাত,নাজাতবেষ্টিত এই মাস। বেশি বেশি আমল করে নিজের নেকির ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার মাস। এই মাসের প্রধান আমল হচ্ছে রোযা আদায় করা। এর পাশাপাশি আরো কিছু আমল রয়েছে। তন্মধ্যে ইতেকাফের ফজিলত অন্যতম। যার ফজিলত অনেক। তাই নিচে ইতেকাফের ফজিলত ও বিধিবিধান সম্পর্কে আলোচনা করার প্রয়াস পাচ্ছি।আশাকরি সকলের জন্য উপকৃত হবে।

ই’তেকাফের সংজ্ঞা-
ই’তেকাফ এটি আরবী ‘আকফ’ ধাতু থেকে উদ্গত। আকফ শব্দের অর্থ হচ্ছে অবস্থান করা,স্থির হওয়া।ইতেকাফের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে কোনো স্থানে আটকে যাওয়া বা থেমে যাওয়া,অবস্থান করা বা আবদ্ধ হয়ে থাকা। ইসলামী শরীয়ত মতে ইতেকাফ হলো, নির্ধারিত সময়ে জাগতিক কাজ কর্ম ও পরিবার পরিজন থেকে অনেকটা বিছিন্ন হয়ে শুধু আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাকে রাজি-খুশি করার নিয়তে পুরুষের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয় এমন মসজিদে এবং মহিলার জন্য ঘরের এক কোণের নির্দিষ্ট স্থানে ইবাদাত করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করা বা আবদ্ধ হয়ে থাকা। যিনি ইতেকাফ করেন আরবীতে তাকে মুতাকিফ বলে।

ই’তেকাফের উদ্দেশ্য কী-
ইতেকাফের উদ্দেশ্য হচ্ছে, আল্লাহ রব্বুল আলামিনের একান্ত সান্নিধ্য অর্জন করা,নিজেকে গুনাহমুক্তির জন্য চেষ্টা করা, সর্বোপরি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ঠিকমতো জামাতের সঙ্গে সহজে আদায় করা। আর রমজান মাসে ই’তেকাফের বিশেষ উদ্দেশ্য হলো, শবে কদরের মহান রাত্রির ফযীলাত পরিপূর্ণভাবে পেয়ে যাওয়া; কেননা শবে কদরের রাত সুনির্ধারিত নয়। বরং হাদীসের নির্দেশনা অনুযায়ী রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোর কোনো একটিতে শবে কদর হয়ে থাকে। তাই শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে শবে কদর খোঁজার জন্য উত্তম একটি ব্যবস্থা হলো ই’’তেকাফ।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতগুলোতে কদরের রাত তালাশ কর।’ (সহীহুল বুখারি, হাদীস নং: 2017) সুতরাং পরিপূর্ণভাবে কদরের রাতের সৌভাগ্য অর্জন করতে হলে রমজানের শেষ দশকে আমাকে আপনাকে রাত জাগরণ করতে হবে; যা ইতিকাফের মাধ্যমে করা অত্যন্ত সহজ ও বুদ্ধিমানের কাজ। আল্লামা হাফিজ ইবনে রজব (র.) বলেছেন, ইতিকাফের আসল উদ্দেশ্য সৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে স্রষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক কায়েম করা।

ই’তেকাফ কোথায় করবেন-
ইতেকাফ করার সর্বোত্তম জায়গা হলো মসজিদুল হারাম। এরপর মসজিদে নববী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এরপর হচ্ছে মসজিদুল আকসা। এরপর জামে মসজিদ। তারপর ঐসকল মসজিদ যেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সাথে আদায় করা হয়।

ই’তেকাফের শর্তাবলী-
নিম্নোক্ত শর্তাবলী ছাড়া ইতেকাফ সহীহ হবে না।
নিয়ত করা, মুসলমান হওয়া, জ্ঞানবান হওয়া, রোযা রাখা (মানত এবং সুন্নাত ই’তেকাফ হলে। নফল ইতেকাফ হলে জরুরি না) , নারীদের জন্য হায়েয-নেফাস থেকে পবিত্র হওয়া।(ফাতাওয়ায়ে শামী-৩/৪৩০)

ই’তেকাফের প্রকারভেদ ও হুকুম-
ইতেকাফ তিন প্রকার;
১.ওয়াজিব ই’তেকাফ।
ই’তেকাফ ওয়াজিব হয় মানত দ্বারা। কেউ যদি মানত করে যে,আমি ই’তেকাফ করবো তাহলে তার উপর ই’তেকাফ ওয়াজিব হয়ে যায়। (মানত সহীহ হওয়ার জন্য মুখে মানত শব্দ বলা লাগবে) আরেকটি হলো সুন্নত ই’তেকাফ ভঙ্গ করলে তার কাযা করা ওয়াজিব হয়। উল্লেখ্য, রোযা ছাড়া ওয়াজিব ই’তেকাফ আদায় হবে না।
২.সুন্নাতে কেফায়া ই’তেকাফ।
রমাযানের শেষ দশকের (বিশ রোযার দিন সূর্য অস্ত যাওয়ার আগ থেকে নিয়ে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত) ই’তেকাফ করাকে সুন্নাতে কেফায়া বলে।এটা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাত। তিনি সবসময়ই এটা আদায় করতেন।আম্মাজান আয়েশা রা. বলেন, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্য পর্যন্ত রমাযানের শেষ দশকের ইতিকাফ করেছেন। এরপর তার পূণ্যবতী জীবন সঙ্গিনীগণও ইতিকাফ করেছেন। [বুখারী: হাদীস, ২০২৬; মসলিম: হাদীস, ১১৭২] মহল্লাবাসীর মধ্য হতে যেকোন একজন আদায় করলে পুরো মহল্লাবাসীর পক্ষ হতে আদায় হয়ে যায়। কিন্তু কেউ আদায় না করলে মহল্লার সবাই সুন্নাত ই’তেকাফ ছেড়ে দেওয়ার গুনাহগার হবে। সুন্নাত ই’তেকাফ সহীহ হওয়ার জন্য রোযা রাখা শর্ত।
৩.নফল ই’তেকাফ।
উপরোক্ত দুই প্রকার ই’তেকাফ ব্যাতিত বাকি যেকোন ই’তেকাফ নফল ই’তেকাফ। এরজন্য নির্দিষ্ট সময়ের প্রয়োজন নেই। এক মিনিটের জন্য হতে পারে আবার একদিনের জন্যও হতে পারে।আবার যেকোনো সময় হতে পারে।রাত-দিন জরুরি নয়। রোযা রাখাও জরুরি নয়।

ই’তেকাফের গুরুত্ব ও ফজিলত-
কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-‘আমি ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম, তোমরা আমার ঘরকে [বায়তুল্লাহকে] পবিত্র কর তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকু-সিজদাকারীদের জন্য।’ (সূরা বাকারা/১২৫) এই আয়াত থেকে আল্লাহ তায়া’লার কাছে ই’তেকাফের গুরুত্ব বা মর্যাদা স্পষ্ট হয়।

ই’তেকাফের ফজিলত সম্পর্কে সাহাবী ইবনে আব্বাস রা. থেকে একটি হাদীস বর্ণিত,আল্লাহর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ইতিকাফকারী সর্ব প্রকার পাপ হতে মুক্ত থাকে এবং অন্যরা বাইরে আমল করে যে নেকী লাভ করে সে ইতিকাফে থেকে বাইরের আমলগুলো না করেও সেই পরিমাণ নেকী লাভ করে। [ইবনে মাজাহ: ১৭৮১]

আরেক হাদীসে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি রমাযান মাসে দশ দিন ইতিকাফ করবে, তার এই ইতিকাফ নেকী ও শ্রেষ্টত্বের বিবেচনায় দুটি হজ¦ ও দুটি ওমরার সমপর্যায়ের হবে। [শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস: ৩৬৮০, ৩৬৮১]

অন্য এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ইতিকাফকারী প্রতিদিন একটি করে হজের সওয়াব পায়। [শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস: ৩৬৮২]

ইতিকাফের ফজিলত সম্পর্কে অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য একদিনের ইতিকাফ করল, আল্লাহ পাক তার ও দোজখের মধ্যখানে এমন তিনটি পরিখা তৈরি করে দেবেন, যার একটি থেকে অপরটির দূরত্ব হবে পূর্ব ও পশ্চিমেরও বেশি।’ (শুয়াবুল ইমান- ৩০৭৯)

উপরোক্ত হাদীস গুলোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ই’তেকাফের ফজিলত কতো বেশি।

যেসব কারণে ই’তেকাফকারী মসজিদ থেকে বের হতে পারবেন-
বর্তমানে অনেক মানুষ ই’তেকাফ করে যে কোনো ঠুনকো অজুহাতে মসজিদ থেকে বের হয়। অযথা মসজিদের বাহিরে সময় নষ্ট করে। অথচ ই’তেকাফকারীর জন্য যে কোনোও কারণেই মসজিদ থেকে বের হওয়ার অনুমতি নেই। বরং তার বের হওয়ার নির্দিষ্ট কিছু কারণ আছে। নিম্মে এ বিষয়ে আলোচনা করা হলো।
ই’তেকাফকারী ব্যক্তি ‘শরয়ী জরুরত’,’মানবীয় জরুরত’ বা একান্তই জরুরি কাজ ছাড়া মসজিদ থেকে বের হতে পারবেন না।যেমন;

১. মলত্যাগ করার জন্য। ২.ফরয গোসল করার জন্য, যদি মসজিদে সম্ভব না হয়।কিন্তু ফরয গোসল ছাড়া অন্য যেকোনো গোসলের জন্য মসজিদ থেকে বের হলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে। হ্যাঁ এটা করা যেতে পারে যে, ঠাণ্ডার জন্য, জুমার দিন জুমার জন্য গোসল করতে চাইলে মসজিদের সীমানার ভেতরে থেকে শরীরে তাড়াতাড়ি হালকা পানি দিয়ে নিতে পারবে তবে খেয়াল রাখতে হবে, যেনো মসজিদের ভেতর পানি না যায়।৩.ওযু করার জন্য, যদি মসজিদের সীমানার ভেতর থেকে সম্ভব না হয়।৪.খাবার আনার জন্য বাড়িতে যাওয়া, যদি খাবার এনে দেওয়ার কেউ না থাকে।৫.মোয়াজ্জেন আজান দেওয়ার জন্য। ৬.যেই মসজিদে ইতেকাফ অবস্থায় আছে সেই মসজিদ জুমার মসজিদ না হলে জুমা আদায় করার জন্য। ৭.মসজিদের ক্ষয়ক্ষতি হলে,জালেম মসজিদ থেকে বের করে দিলে তিনি সেই মসজিদ থেকে বের হয়ে অন্য মসজিদে গিয়ে ইতেকাফ করতে পারবেন।
এখানে আরেকটি বিষয় জনসাধারণের জন্য জেনে নেওয়া জরুরি যে, জানাযা এবং অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়া।

আল্লামা তাকী উসমানি হাফিজাহুল্লাহ বলেন,এক্ষেত্রে হুকুম হলো সর্বাবস্থায় অর্থাৎ শুধু জানাযার জন্য বা অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যাওয়ার জন্য মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েয নেই।কিন্তু কেউ যদি মলত্যাগ করার উদ্দেশ্যে বের হয়ে রাস্তার পাশেই চলা অবস্থায় কোন জানাযা বা অসুস্থ ব্যক্তির খোঁজ নেয় তাহলে কোন সমস্যা নেই। তবে শর্ত হলো বের হওয়ার সময় মলত্যাগ করার উদ্দেশ্যে বের হতে হবে।জানাযা বা অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখার উদ্দেশ্যে বের হলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে।আরেকটি শর্ত হলো রাস্তা থেকে দূরে যাওয়া যাবে না এবং রাস্তার ভেতর দাঁড়ানো যাবে না।
এগুলো ছাড়া আর কোন কারণে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না। বের হলে ই’তেকাফ ভেঙ্গে যাবে।

যেসব কারণে ই’তেকাফ ভেঙে যায়-
যেসব কাজ করলে ই’তেকাফকারীর ইতেকাফ ভেঙে যায় তা হলো;
১.যেসব জরুরতের কারণে মসজিদ থেকে বের হওয়া যায় সেসব ক্ষেত্রে বের হয়ে বাইরে সেই জরুরত ছাড়া একটু বেশি সময় অবস্থান করলে।
২.শরয়ী জরুরত ছাড়া মসজিদ থেকে বের হলেই ইতেকাফ ভেঙে যাবে।চাই তা ইচ্ছে করে হোক অথবা ভুলে হোক।
৩.ই’তেকাফকারী ব্যক্তি মসজিদের সীমানা মনে করে বের হয়েছে,পড়ে জানতে পারলো এটা মসজিদের সীমানার বাইরে ছিলো তাহলে সেক্ষেত্রেও ইতেকাফ ভেঙে যাবে।
৪.ই’তেকাফের জন্য রোযা শর্ত।তাই কেউ যদি রোযা ভেঙে ফেলে তাহলে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে।
৫.স্ত্রীর সাথে সহবাস করার দ্বারা ইতেকাফ ভেঙে যাবে,চাই সহবাস ইচ্ছে করে হোক বা অনিচ্ছাকৃত। ৬.স্ত্রীকে চুমু বা স্পর্শ করলে যদি ‘মনি’ বের হয়,তাহলে সেক্ষেত্রেও ইতেকাফ ভেঙে যাবে।
৭.ওযুর কারণ ছাড়া শুধু এমনিতেই ব্রাশ, মেসওয়াক করতে বের হলে।
৮. বিড়ি খাওয়ার জন্য বের হলে।
৯.খাবার খাওয়ার পর হাত পরিষ্কার করার জন্য বের হলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে। ইত্যাদি…

ই’তেকাফ ভেঙে গেলে করণীয়-
১.কোন ব্যক্তির যদি সুন্নাত ইতেকাফ ভেঙে যায় তাহলে সেই ব্যক্তি শুধু ওই দিনের ইতেকাফ কাযা করবে।পুরো দশ দিনের কাযা করতে হবে না। তবে যেদিন কাযা করবে সেদিন রোযাও রাখতে হবে।
২.কোন কারণে ভেঙে গেলে উচিৎ মসজিদই অবস্থান করা।সুন্নাত ইতেকাফ না হলেও নফল ই’তেকাফের ফজিলত পাওয়া যাবে।

ইতেকাফ ভাঙা জায়েজ যে কারণে-
১.ইতেকাফকারী যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, যার চিকিৎসা মসজিদের বাইরে যাওয়া ছাড়া সম্ভব নয় তবে তার জন্য ইতেকাফ ভেঙে দেওয়ার অনুমতি আছে। (শামী)
২.বাইরে কোনো লোক ডুবে যাচ্ছে বা আগুনে দগ্ধ হচ্ছে তাকে বাঁচানোর আর কেউ নেই, অনুরূপ কোথাও আগুন লেগেছে, নেভানোর কেউ নেই তবে অন্যের প্রাণ বাঁচানোর এবং আগুন নেভানোর জন্য ইতেকাফকারীর ইতেকাফ ভেঙে দেওয়ার অনুমতি আছে।
৩ জোরপূর্বক মসজিদ থেকে ইতেকাফকারীকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় যেমন ওয়ারেন্ট এসে গেলে ইতেকাফ ভেঙে দেওয়া জায়েজ। সেরূপ ইতেকাফকারীর যদি এমন সাক্ষ্য দেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে, যা শরিয়তানুযায়ী তার জন্য ওয়াজিব সেরূপ সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য ইতেকাফ ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি আছে।
৪.মা-বাবা, স্ত্রী, সন্তান-সন্ততির কঠিন অসুস্থতার কারণেও ইতেকাফ ভেঙে দেওয়া জায়েজ। তেমনি পরিবারের কারো প্রাণ, সম্পদ বা ইজ্জত আশঙ্কার সম্মুখীন হলে এবং ইতেকাফ অবস্থায় তা প্রতিরোধের ব্যবস্থা করা সম্ভব না হলে ইতেকাফ ভেঙে দেওয়া জায়েজ।
৫.এ ছাড়া যদি কোনো জানাজা হাজির হয় এবং জানাজা পড়ানোর কেউ না থাকে তখনো ইতেকাফ ভেঙে দেওয়া জায়েজ। (ফতহুল কবীর) উল্লিখিত প্রয়োজন পূরণ করতে বের হলেই ইতেকাফ ভেঙে যাবে, তবে গোনাহ হবে না। (বাহরুর রায়েক)

ইতেকাফ অবস্থায় যেসব কাজ মাকরূহ-
ইতেকাফ অবস্থায় চুপ থাকলে সওয়াব হয় এই মনে করে চুপ থাকা মাকরূহে তাহরীমী।
বিনা প্রয়োজনে পার্থিব কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া যেমন ;বেচাকেনা করা মাকরূহ। তবে একান্ত প্রয়োজনে মসজিদে মালামাল উপস্থিত করা ব্যতিত বেচাকেনার চুক্তি করা যাবে।

ইতেকাফ অবস্থায় করণীয়-
ইতেকাফ অবস্থায় ভালো এবং নেক কথা বলা। অতিরিক্ত কথাবার্তা না বলা। বেকার বসে না থেকে নফল নামাজ পড়া কোরআন তেলাওয়াত করা। তাসবিহ-তাহলীলে মশগুল থাকা। বেশি বেশি দোয়া করা।আল্লাহর দরবারে রোনাজারি করা।শবে কদরের রাত্র খোঁজ করা।তবে ইতেকাফ অবস্থায় বিশেষ কোনো ইবাদত নেই। তাই যেকোনো ইবাদত মন চাইলে করা যাবে।
সুতরাং আমাদের ভালো করে ই’তেকাফের বিষয় গুলো বুঝতে হবে।সমাজে অহরহ দেখা যাচ্ছে মানুষ ই’তেকাফে বসছে কিন্তু মাসয়ালা না জানার কারণে তার সুন্নাত ইতেকাফ আদায় হচ্ছে না।ই’তেকাফ যেমন অনেক ফজিলতের তেমনিভাবে বিষয়টি অনেক সুক্ষ্ম। তাই সোচ্চার হয়ে কাজ করতে হবে।তখনই না আমরা ই’তেকাফের ফজিলত পাবো।

মহিলাদের ই’তেকাফ-
ই’তেকাফের ফজিলত শুধু পুরুষদের জন্য নির্ধারিত নয়,মহিলাদের জন্যও রয়েছে এর ফজিলত।
১.তবে মহিলারা মসজিদে ইতেকাফ করতে পারবে না।তারা ঘরের একটি জায়গাকে ইবাদতের জন্য নির্দিষ্ট করে সেখানে অবস্থান করবে।
২.বিবাহিত মহিলা হলে স্বামীর অনুমতি নিয়ে ই’তেকাফে বসতে হবে।
৩.স্বামীর অনুমতি নিয়ে ই’তেকাফে বসার পর যদি স্বামী আবার নিষেধ করে তাহলে স্বামীর কথা মানা জরুরি নয়।
৪.মাসিক দিনগুলো থেকে পবিত্র হয়ে ই’তেকাফে বসতে হবে।অর্থাৎ মহিলা খেয়াল করবে যে, ই’তেকাফের দিনগুলোতে তার মাসিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা।
৫.কোনো মহিলা ইতেকাফ শুরু করে দেওয়ার পর মাসিক শুরু হলে ওইদিনের ই’তেকাফ ভেঙে যাবে এবং সেইদিনের ইতেকাফ কাযা করতে হবে।
৬.মহিলা ঘরের যেই জায়গায় ই’তেকাফে বসবে সেই জায়গা তার জন্য মসজিদের হুকুমে হবে।সুতরাং কোনো শরয়ী বা একান্ত মানবীয় জরুরত ছাড়া সেখান থেকে বের হলে তার ই’তেকাফ ভেঙে যাবে।
৭.পুরুষদের জন্য যেসব কারণে মসজিদ থেকে বের হওয়া জায়েয আছে তেমনিভাবে সেই সকল কারণে মহিলাদের জন্যও ঘরের সেই নির্দিষ্ট জায়গা থেকে বের হওয়া জায়েয আছে। যেসব কাজ করলে পুরুষের ই’তেকাফ ভেঙে যায়, একজন ই’তেকাফকারী মহিলা সেই কাজ করলেও তার ইতেকাফ ভেঙে যাবে।
আমাদের সমাজে মহিলাদের এই ফজিলতের কাজটি করতে কম দেখা যায়।এক্ষেত্রে তাদের অবহেলা দেখা যায়।যাদের বিশেষ কোনো জরুরি নেই তাদের জন্য ই’তেকাফে বসে ইবাদতে কাটিয়ে দিয়ে উল্লিখিত ফজিলত গুলো পাওয়াই কাম্য।
জ্ঞাতব্য – অনেক এলাকায় দেখা যায় কেউ মসজিদে ইতেকাফে বসে না বিধায় এলাকার কোন এক ব্যক্তিকে সকলে টাকা দিয়ে মসজিদে বসায়।যা কোনভাবেই জায়েয নয়।এভাবে ই’তেকাফে বসালে ই’তেকাফ আদায় হবে না উলটো গুনাহগার হবে।
আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে পবিত্র মাহে রমজানে মসজিদে ইতিকাফ করার মাধ্যমে গুনাহের পাপরাশি থেকে বেঁচে থেকে অশেষ নেকি লাভের মোক্ষম সুযোগ দান করুন।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর