ত্রীপলের তাবুতেই শীত কাটাচ্ছেন আঃ লতিফের পরিবার

0

স্টাফ রিপোর্টার :
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের তেলিহাটী-উওরপাড়া গ্রামের মৃত নবী হোসেনের ছেলে অসহায় হতদরিদ্র মো: আব্দুল লতিফ। এক ছেলে দুই মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে প্রচন্ড শীতের মধ্যে ত্রীপলের তাবু তৈরি করে জীবন অতিবাহিত করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানাযায়,অসহায় এই পারিবারের ভাগ্যে জুটেনি সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা।সংসারের তিন বেলা খাবার যোগান দেওয়ার জন্য আব্দুল লতিফ অন্যের অটোরিক্সা চালিয়ে কোনভাবে দিন পার করছেন।

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যায় লতিফের বড় ছেলে। স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা করিয়ে কোন উন্নতি না হওয়ায় ডাক্তারের পরামর্শ ক্রমে নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে। অভাবের সংসারে সন্তানের চিকিৎসার খরচ ও খাবার জোগান দিতে লতিফের এর স্ত্রী মুরর্শিদা(৩৭)বাসা বাড়িতে কাজ নেন।

স্বামী অটোরিকশা চালিয়ে যে টাকা উপার্যন করতো তা দিয়ে চিকিৎসা সহ পরিবারের খরচ সংকোলন হতো না। তাই মানুষের কাছ থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়েও সন্তানের চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করেছেন তারা। তবুও অর্থের অভাবে নিজ সন্তানকে বাচাতে পারেনি তারা।

এখন ছেলের শোকে এবং অসুস্থতার কারনে কাতর হয়ে পড়েন।
বর্তমানে তিনি বাড়িতে আর কাজ করতে পারছে না । কোন ভাবে একবেলা খাবার জুটলেও অন্য বেলায় জুটে না।

মুরর্শিদার সাথে (১০ফেব্রয়ারী/২১) প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন..
আমার ছেলে একটা অসুস্থ অইছিলো কিন্তু ভালো চিকিৎসা আমি করতে পারি নাই টাকার লাইগা, ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা করছি ছাইয়া মাইগা, আর কিছু পারি নাই। বর্তমানে আমি ময়মনসিংহ আইলাম ছেলে আমার চিকিৎসার জন্য মারা গেলো বাড়িতে আইলাম আমার যায়গা জমি (এক কুছি) যায়গায় এই ভাবে আছি।আমার স্বামী অসুস্থ থাকে নিজেও অসুস্থ থাকি কিনো কিছু পাইছি না চেয়ারম্যান মেম্বারদের সাহায্য। কেউ আইয়া জিগাইছেও না। অহন বর্তমানে তিরফল টাংগাইয়া থাকতাছি ৫ মাস। ছেলে মারা যাওয়ার পর কাজকাম করে ঠিকমত সংসার চলে না কিছু বায় ছালাই। আমরা ৫ জন চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে গেছি, হেরা আমারে দেহেও নাই সাহায্যও করে নাই, আরো হেরা কইছে দেওয়ার মত কোন কিছু নাই।

তিনি আরো বলেন, এলাকায় একটি অটোরিকশা নিয়ে চালাইতে হলে ১০ হাজারের মতো টাকা লাগে যা,অটোরিকশা মালিকরে আগেই অগ্রীম দেওন লাগে। আমি কই পাই অত টাকা? আমার স্বামী এখন অন্যের বাড়িতে ১/২দিন কাজ করলে কয়দিন কাজ থাকে না। আমি আমার বাচ্চা খাচ্ছা নিয়ে খুব কষ্টে আছি।
প্রধানমন্ত্রী সরকারে হুনতাছি ঘরটর দেয় অহন আমারে একটা ঘর দিতো আমি বাচ্চা খাচ্চাটি লইয়া থাকতে পারতাম। অসহায় অবস্থায় সরকারী ঘর পাওয়ার জন্য সরকারের কাছে ও সমাজের সকলের সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।
প্রতিবেশী রতন মিয়া জানান লতিবের কিছুই নাই পুলাপাইন লইয়া খুব বিপদে আছে একটা সট টাংগাইয়া থাকতাছে,যদিএকটা ঘর পায় এলাকার সবাই খুশি হইবো।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ৫ মাস হইছে বাড়িতে আইছে আমার কাছে এখন কোন প্রকল্প নাই তবু আমি
একটি কল, একটি ঘরের ব্যবস্থা করেদিবো।

%d bloggers like this: