তাপসের বিরুদ্ধে বক্তব্য সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে দুই মামলার আবেদন

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে ‘মানহানিকর বক্তব্য’ দেয়ার অভিযোগে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের নামে দুটি মামলার আবেদন করা হয়েছে। একটি মামলার বাদী কাজী আনিসুর রহমান, অপর মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মো. সারওয়ার আলম।

সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে মামলার আবেদন করা হয়। তবে এখনো আদালত মামলার আবেদনের বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি।

এদিন সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটির সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হবে বলে জানিয়েছিলেন বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে মেয়র পদে সাঈদ খোকনকে বাদ দিয়ে ফজলে নূর তাপসকে বেছে নেয় আওয়ামী লীগ। পরে নির্বাচনে তাপস বিজয়ী হয়ে সিটি করপোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দেন। অনেককে চাকরিচ্যুতও করা হয়। সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের নানা কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করেন বর্তমান মেয়র। এসব বিষয় নিয়ে বর্তমান ও সাবেক মেয়রের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছিল। সবশেষ সিটি করপোরেশনের মার্কেটের অবৈধ দোকান উচ্ছেদ দিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে।

 

গত শনিবার রাজধানীতে এক মানববন্ধনে শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে দাবি করেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

মেয়র তাপসের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে হলে সর্বপ্রথম নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। তারপর চুনোপুঁটির দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।’

সাবেক মেয়র আরও বলেছিলেন, ‘ফজলে নূর তাপস দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে হস্তান্তরিত করেছেন এবং এই শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লাভ হিসাবে গ্রহণ করেছেন এবং করছেন।’

সোমবার সকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘অবশ্যই তিনি (সাঈদ খোকন) মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন। আমি তার বক্তব্য শুনে অবাক হয়েছি। তিনি নিজে চুনোপুঁটি দুর্নীতিবাজ হিসেবে স্বীকার করেছেন। আর আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অবশ্যই এটা মানহানিকর হয়েছে। আমি এ ব্যাপারে ব্যবস্থা অবশ্যই নিতে পারি। মানহানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তো আইনি ব্যবস্থাই নিতে হবে।’

মেয়র তাপসের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মামলা হলো। তবে সাঈদ খোকন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তিনি আইনিভাবে এবং রাজপথে এই মামলা মোকাবেলা করবেন।

%d bloggers like this: