ঢাকা ৩৫°সে ৯ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নাটোরে এসে মোবাইল মেকানিকের ভালোবাসায় চিরবন্ধি হলেন থাই কণ্যা

মোঃ আবু জাফর সিদ্দিকী,নাটোর প্রতিনিধিঃ
ফেসবুকে দেখা ও প্রেম। তারপর ভালবাসার টানে চিরবন্ধি হলেন থাইল্যান্ডের কণ্যা এক সাধারণ দরিদ্র ঘরের মোবাইল মেকানিক যুবকের সাথে। তরুণীর নাম সুপুত্তো ওরফে ওম । বাড়ি থাইল্যান্ডের চো-অম জেলার পিচচোবড়ি এলাকায়। বাবা উইছাই ও মা নট্টাফ্রন আলাদা থাকেন ভিন্ন ভিন্ন দেশে। তিনি পড়ালেখা শেষ করে প্রথমে ব্যাংকে চাকরি করতেন।

এখন ফাস্টফুডের ব্যবসা করেন। বন্ধুবান্ধবরা সবাই বিয়ে করেছেন। তারা অনেকেই বহুবিবাহে আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এটা তার ভালো না লাগায় ৩৬ বছর বয়সেও তিনি অবিবাহিতা রয়ে গেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের তরুণ নওগাঁ জেলার আত্রাই এলাকার আজাদ হোসেন এর ছেলে মোবাইল মেকানিক ২৪ বছর বয়সের অনিক খানকে ফেসবুকে পরিচয় ও ছবি দেখে মুগ্ধ হন থাই কণ্যা। পরে ধীরে ধীরে তা ভালোবাসায় রূপ নেয়।

তাকে ভালোবেসে বিয়ে করবেন এমন স্বপ্নই ছিলো তার। আর তাই বুধবার বিকেলে নাটোরের আদালতে তারা বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হন। এখন দুইজনই খুশী বলে হাসিমুখেই জানান তারা ।
ওম জানান, দোকানে বসে ফেসবুক ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে অনিক খানকে বন্ধুত্বের প্রস্তাব পাঠান। অনিক প্রস্তাব গ্রহণ করলে তাদের মধ্যে চেনাজানা শুরু হয়। ফোনে কথাবার্তাও চলতে থাকে। তারা পরস্পরকে ভালোবেসে ফেলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ওম বাবা-মার অনুমতি নিয়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে বন্ধুর টানে একবার ছুটে এসেছিলেন বাংলাদেশে।

বিমানবন্দরে অনিককে দেখে তার আরও ভালো লাগে। অনিকের পরিবারের সাথে দেখা করে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন প্রথমে কিন্তু অনিকের পরিবার আপত্তি করে। তবে অনিক ও তার পরিবারের সদস্যদের আদর অপ্যায়নে তিনি মুগ্ধ হন। মাত্র পাঁচ দিনের ভিসা নিয়ে আসায় সেবার তিনি তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে যান। আর যাওয়ার সময় বলে যান ছয়মাস পর আবার আসবেন কিন্তু ছয়মাস অপেক্ষা করতে পারেন তিনি। এ মাসের প্রথমদিকে তিনি আবারও অনিকের কাছে ছুটে এসেছেন। বিয়ে করার জন্য অনিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে-পায়ে ধরেন।

দিনের পর দিন কান্নাকাটি করেন। না খেয়ে অনশন পর্যন্ত করেছেন। অবশেষে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে বুধবার তারা ইসলাম ধর্মীয় ও হলফনামামুলে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। তার বর্তমানে তার নাম সুফিয়া খাতুন।
সুফিয়া বলেন, মানুষের জীবন একটা জীবন সঙ্গীও হবে একটা কিন্তু তাদের সমাজে তা নেই। তিনি বিশ্বাস করেন অনিক তার জীবনে একমাত্র সঙ্গী হয়েই থাকবে। তাকে পেয়ে আমি সুফিয়া দারুণ খুশি।
নাটোর আদলত চত্বরে বসে অনিক খান জানান, পড়ালেখা তেমন একটা করেননি। তবে ভাঙা ভাঙা ইংরেজি বলতে ও লিখতে পারেন। মুঠোফোন মেরামতের দোকানে বসে অলস সময় কাটাতে গিয়ে ফেসবুকে ওমের সাথে তর পরিচয় হয়। এখন তারা একে অপরের সাথে সব সময় যোগাযোগ না রেখে থাকতে পারেন না। সুফিয়া তাকে একটা ভালো মোবাইল ফোন সেট উপহার দিয়েছেন। তাদের উভয়ের ফোনে সব সময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকে। তারা ভিডিও কল করে দীর্ঘসময় কথা বলেন। এভাবেই তারা পরস্পরকে গভীরভাবে ভালোবেসে ফেলেছেন। একে অন্যকে ছেড়ে থাকতে পারবেন না তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রের আইনকানুন মেনেই তারা সুখের সংসার গড়তে চান।
অনিক বলেন, সুফিয়া এখন তার জীবনের একটি অংশ। ওর সাথেই সারা জীবন থাকতে চান।
অনিকের বাবা আজাদ হোসেন বলেন, মেয়েটি খুবই ভালো। মাত্র ক’দিনে সে আমাদের আপন করে নিয়েছে। আমরা গরীব মানুষ, শিক্ষিত না কিন্তু তাতেও ওর কষ্ট নাই। আমাদের ছেড়ে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা ভেবে সে সারাক্ষণ মন খারাপ করেছিল। ওর জন্য এখন তাদেরও কষ্ট হচ্ছে।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর