ঢাকা ৩৫°সে ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

স্বাস্থ্য সচিবের বাড়িতে ‌হামলা, এসি ল্যান্ড লাঞ্ছিত

ভৈরব কিশোরগঞ্জ, প্রতিনিধি :

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নানের গ্রামের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এমপি নূর মোহাম্মদের অনুগতরা এ হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার চানপুর গ্রামে লাঠিসোটা নিয়ে একদল লোক এই হামলা চালায়। হামলার সময় স্বাস্থ্যসচিব বাড়িতেই ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড) আশরাফুল আলম।

স্বাস্থ্যসচিবের পরিবারের দাবি, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে স্থানীয় সংসদ সদস্য নূর মোহাম্মদের অনুগতরা এই হামলা চালিয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নান ও এমপি নূর মোহাম্মদের বাড়ি একই গ্রামে। স্বাস্থ্যসচিবের পরিবারের সদস্যদের দেয়া জায়গায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হচ্ছে। ক্লিনিক নির্মাণে সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যসচিব।

ক্লিনিক নির্মাণ বিষয়ে সাংসদকে অবগত করা হয়নি এমন অভিযোগ সাংসদের অনুগতদের। এ নিয়ে বেশ কিছুদিন আগে থেকে উত্তেজনা চলছিল।

এদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বাস্থ্যসচিব গ্রামের বাড়িতে যান। শনিবার বেলা ১১টার দিকে সচিব বাড়ির পাশের নির্মাণাধীন ক্লিনিকের কাজ দেখতে যান। এ সময় ২০ থেকে ২৫ জন লোক সেখানে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার দাবি তোলেন। কারণ হিসেবে তারা বলেন, এ বিষয়ে সাংসদ অবগত নন। এ নিয়ে সচিবের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তারা চলে যান।

এরপর বেলা পৌনে ১টার দিকে কয়েকটি অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসে করে নির্মাণাধীন ক্লিনিকের সামনে শতাধিক লোক হাজির হন। তাদের হাতে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র ছিল। এ সময় তারা সচিবের নাম ধরে গালিগালাজ শুরু করেন ও নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে বলেন।

সচিব বাড়িতে আসার পর থেকে তার সঙ্গে অবস্থান করছিলেন এসি ল্যান্ড আশরাফুল আলম। তিনি ঘটনা জানতে এগিয়ে আসামাত্র তার ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে পুকুরে ফেলে দেন। নির্মাণশ্রমিকদের মারধর করে বের করে দেয়া হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও উত্তেজনা থেকে যায়। পরে ঘটনাস্থলে যায় র‌্যাব।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, এসি ল্যান্ডকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসচিব আবদুল মান্নানের ছোটভাই নাসির উদ্দিন বলেন, হামলাকারীদের অনেকেই তাদের পরিচিত। তাদের বেশির ভাগ আওয়ামী লীগের কর্মী–সমর্থক। হামলাটি হয়েছে মূলত চানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুরাদ মিয়ার নেতৃত্বে।

এ বিষয়ে জানার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতারুন নেছাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি।

কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।




আপনার মতামত লিখুন :