loading...

ঠাকুরগাঁও সদর থানা একজন সফল ওসি আশিকুর রহমান

0

খায়রুল আলম রফিক:

বাংলাদেশে ফেমাস অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) মধ্যে যার নাম অগ্রগণ্য তিনি আশিকুর রহমান । তার বর্তমান কর্মস্থল ঠাকুরগাঁও সদর থানা । ঠাকুরগাঁও উপজেলার সর্বত্র সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ওসি আশিকুর রহমানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ । শুধু ঠাকুরগাঁওয়েই নয় । এই ওসি সুনাম কুড়িয়েছেন তার কর্মকালীন সকল থানাতেই ।

আশিকুর রহমানের ব্যক্তি সাফল্য বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে উন্নতির শীর্ষে নিয়ে যেতেও ভূমিকা রেখেছেন । ছেলে- বুড়ো তথা আপমর জনসাধারণ যেমন তার প্রশংসা করেন , তেমনি অপরাধ জগতের ছোট থেকে ডন পর্যন্ত তার নাম শুনলেই আঁতকে উঠে । যদিও আশিকুর রহমানের এই সফলতার পেছনে লুকিয়ে আছে মেধা, সততা, একাগ্রতা, ন্যায়- নীতি, একনিষ্ঠতা, দেশপ্রেম এবং মহান আল্লাহর প্রতি নিজের সর্বস্ব শপে দেয়া ।

সাধারণ মানুষের কাছে সুদর্শন, নিরহংকারী, সদাহাস্যোজ্বল, পরোপকারী, বিনয়ী, ভদ্র স্বভাবের আশিকুর রহমানকে অপরাধীরা দেখে থাকে একজন হায়েনা হিসাবে । আশিকুর রহমানের কর্মরত এলাকায় কোন অপরাধী অপরাধ করে পাড় পেয়ে গেছে এমন দৃষ্টান্ত নেই বললেই চলে ।

জানা গেছে, সাব- ইন্সপেক্টর হিসাবে আশিকুর রহমানের কর্মজীবন শুরু । এরপর থেকে নিজের মেধা, সততা, একাগ্রতা এবং ন্যায় নিষ্টায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় ইন্সপেক্টর হিসাবে পদোন্নতি প্রাপ্ত হন তিনি । অপরাধ জগতের ত্রাস বাঘা বাঘা শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, অস্ত্র কারবারি , ছিনতাইকারি, খুনি, দস্যু, ডাকাত, চোর এমন কোন অপরাধী নেই আশিকুর রহমানের শ্যেনদৃষ্টি থেকে রেহাই পায়নি ।

জেলা গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ বিভাগে তার কর্মরত স্থানগুলিতে যেমন অপরাধিরা আতংকিত হয়ে পালিয়ে পালিয়ে বেড়ায় তেমনি সাধারণ মানুষ তার প্রতি অগাধ আস্থা নিয়ে বসবাস করেন।

ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ জেলায় গোয়েন্দা সংস্থার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা থাকাকালীন সময়ে বিভাগ ও জেলা পুলিশের শ্রেষ্ঠ অফিসারের সুনাম কুড়িয়েছেন অনেকবার । এই সুযোগ্য অফিসারকে বদলী করা হলে, জেলার ছাত্র- ছাত্রী, মেহনতী শ্রমিক, পেশাজীবি, বুদ্ধিজীবি এমনকি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা রাস্তায় নেমে পড়েন।
ময়মনসিংহে তাকে স্বপদে রাখতে মানববন্ধন, পথসভা, আলোচনা সভা পর্যন্ত হয় । যদিও এই পদে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন তিনি । এরই ধারাবাহিকতায় আজ ময়নসিংহ ডিবি পুলিশ মাদক বিরোধী অভিযানে শীর্ষে ভূমিকা পালন করেেছ । ময়মনসিংহ ডিবি পুলিশে কর্মরত থাকাকালীন আশিকুর রহমান বহু ক্লুহীন মামলা উদ্ঘাটন করে আসামীদের আইনের আওতায় নিয়ে এসেছেন ।

পরোয়ানাভূক্ত দাগী আসামি, মাদক কারবারি , মাদকসেবী ময়মনসিংহ ছেড়ে দিয়েছিলেন । আবার তার নেতৃত্বে গ্রেপ্তার হয়েছেন । তদ্বিরবাজদের পেটে আঘাতকারী হিসাবে আশিকুর রহমানের নামও শোনা যায় । তিনি হাইপ্রোফাইল নেতাদের তদবির পর্যন্ত কর্ণপাত করেননা । আশিকুর রহমানের দৃষ্টিতে অপরাধী অপরাধীই । অপরাধির আলাদা কোন পরিচয় নেই । তাই তাদের ছাড়াতে কোন ধরনের তদবিরই তিনি আমলে নেননা ।

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে আশিকুর রহমান মাদক দমন করেছেন বলিষ্ঠহস্তে । ভূমিকা রেখেছেন বাল্য বিয়ে রোধ, কমিউনিটি পুলিশিংসহ অনেক সামাজিক অপরাধমুক্ত থেকে উপজেলাবাসীকে রক্ষা করেছেন । তৎকালীন গৌরীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশিকুরের প্রশংসা করে বলেন, তার মত একজন পুলিশ অফিসার দেশ ও দশের গর্ব । তিনি পুলিশ বিভাগে একজন অনুকরণীয়, অনুসরনীয় মহানুভব , কর্তব্যপরায়ণ অফিসার ।
ওসি আশিকুর রহমান তার এই প্রজ্ঞা, দায়িত্ব, কর্তব্যজ্ঞান, নিয়মানুবর্তিতা, সততা পেয়েছেন নিজ পরিবার থেকে । বাবা-মার কাছ থেকে আলোকবর্তিকা নিয়ে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশে । ফুটিয়েছেন পুলিশ বিভাগে মেধা, দক্ষতা আর মননের ফুল ।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঠাকুরগাঁও জার্নালে একটি পোস্টে পোস্টদাতা লিখেছেন, আশিকুর রহমান আশিক সাদা মনের মনুষ, ওসি ঠাকুরগাঁও সদর থানা । যতটুকু চিনেছি মানুষটা সত্যিসত্যিই বেশ ভালো । দীর্ঘায়ু সুস্থতা কামনা করি ।
চিত্তরঞ্জন রায় লিখেছেন, মোঃ আশিকুর রহমান,অফিসার ইনচার্জ, ঠাকুরগাঁও সদর থানা মহোদয়গন পিপিএম প্রাপ্তিতে সদর থানা পুলিশের পক্ষ থেকে উভয়কে ফুলেল শুভেচ্ছা।

সম্প্রতি ঠাকুরগাঁও সদর থানায় এক অনুকরনীয়, অনুসরনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আশিকুর রহমান । ঠাকুরগাঁও থানার প্রধান ফটকে চোখে পড়ে মামলা ও জিডি করতে টাকা লাগে না মর্মে ব্যানার- লিফলেট। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, গরীব অসহায়দের জন্য বিনা টাকায় অভিযোগ লিখে দিতে সহযোগিতা করবে পুলিশ। আর এই ব্যানারটি দেখে চোখ আটকে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের।

পুলিশ বলছে, মানুষ যাতে প্রতারিত না হয় সে জন্য এই ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা দেখে অনেকে পুলিশের এই শুভ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান বলেন, ‘মানুষ যাতে দালালচক্র বা অন্য কোনোভাবে প্রতারণার শিকার না হয়, এ জন্য ওই ব্যানার থানার মূল ফটকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এ ছাড়াও খোলা হয়েছে বিশেষ সার্ভিস সেন্টার। থানায় ঢুকলে যে কারো চোখে পড়বে এটা। এতে করে থানায় মামলা ও জিডি করতে আসা কোনো মানুষের সঙ্গে কেউ প্রতারণা করতে পারবে না।
তিনি আরো বলেন, ‘ঘুষ-দুর্নীতিরোধে আমাদের সকলকেই সচেতন হতে হবে। সবাই সচেতন হলে সমাজ থেকে ঘুষ-দুর্নীতি উঠে যাবে। মানুষ তার প্রকৃত সেবা পাবে।
সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল বলেন, ‘একটি মারধরের ঘটনায় কিছুদিন আগে থানায় গিয়েছিলাম। টাকা-পয়সা ছাড়াই মামলা করেছি।’ উপহার হিসেবে পেয়েছি দুইটি চকলেট। এতে থানায় আসা যাওয়া করতে ভয় ভীতি কমে গেছে।

শহরের শাহপাড়া-মহল্লার বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন , ‘আমার জানা মতে, ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা ও জিডি করতে কোনো টাকা লাগে না। থানার ওসি টাকা নেওয়ার বিষয়টি প্রশ্রয় দেন না। বিধায় থানায় গিয়ে কাউকে টাকা দিতে হয় না।’
ঠাকুরগাঁও সদর থানার প্রধান ফটকের একটি ব্যানারে লেখা, ‘মামলা ও জিডি করতে টাকা লাগে না। গরীব অসহায়দের জন্য বিনা টাকায় অভিযোগ লিখে দিতে সহযোগিতা করবে পুলিশ। আর এই ব্যানারটি দেখে চোখ আটকে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের।

আশিকুর রহমানের ভূয়শি প্রশংসা করেছেন, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা । তারা বলেছেন, আশিকুর রহমান পুলিশ বিভাগের গর্ব । তার সফলতা কামনা করেছেন পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তাগণও ।
আশিকুর রহমান আমাদের কন্ঠকে জানান, অন্যান্য কর্মরত থানাগুলির মত ঠাকুরগাঁও সদর থানাকেও উন্নতীর শিখরে নিয়ে যেতে চাই । এক্ষেত্রে জেলা পুলিশ সুপার মোহা. মনিরুজ্জামান স্যার সার্বিক সহযোগীতা করে যাচ্ছেন । আমি পুলিশ সুপার স্যারের সার্বিক সফলতায় নিজেকে বিলিয়ে দিতে চাই ।

loading...
%d bloggers like this: