ঝিনাইগাতীতে ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত ছোট গজনী ও রাংটিয়া গ্রাম

0

মুহাম্মদ আবু হেলাল, ঝিনাইগাতী:

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ছোট গাজনী ও রাংটিয়া গ্রামে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে এবং ব্যাপক শিলা বৃষ্টির কারণে প্রায় শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ী বিধ্বস্ত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাঠের বাগান, গাছপালা সহ কৃষকের কষ্টার্জিত বোর ফসলের মাঠ। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪ এপ্রিল ভোরে এবং ৫এপ্রিল দুপুরে আকস্মিক ভাবে ঘুর্ণিঝড় আঘাত হানে, সেই সাথে প্রচন্ড শিলাবৃষ্টি । ফলে ছোটগজনী, নয়া রাংটিয়া ও রাংটিয়া গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ী মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় ।

এ গ্রামগুলোতে এমন কোন ঘর নেই, যে ঘরের টিনের চালে ছিদ্র হয়নি। তবে কেউ হতাহত হয়নি। ছাট গাজনী গ্রামের ২২টি পরিবার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিশেষ করে জুলিয়া সাংমার ৩টি, ডামেন সাংমার ২টি, জিরামনি সাংমার ১টি, ওয়াশিংটনের ১টি ঘরের সম্পুর্ন চাল সহ ২২টি পরিবারের ঘরের চাল আংশিক উড়িয়ে নিয়ে গেছে । রমলা মারাকের গাছের বাগান পুরোটাই তছনছ হয়ে গেছে। অপর দিকে নয়া রাংটিয়া ও রাংটিয়া গ্রামের মিছিরন বেগম, মির্জা, দুদু মিয়া, শামছুল আলম, বাহেন কোচ, আলী হোসেন, শুক্লা কোচ, সিন্দুমণি কোচ, বিষমান কোচ, আঃ হাকিম, ফজিলা বেগম, হুরমুজ, ইয়াছিন, সিদ্দিক, পেসেন, চেংমহন কোচ, মুসলে উদ্দিন, ইসাহাক, বারেক, হাছেন আলী, আহাম্মদ আলী ও মোহাম্মদ আলী সহ প্রায় ৩০টি বাড়ীঘর বিধ্বস্ত হয় এবং ক্ষেতে রোপিত বোর ফসল সহ অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। সীমান্তবাসীরা এমনিতেই বিভিন্ন দুর্যোগের সাথে যুদ্ধ করে দিনাতিপাত করে আসছে।

এর মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে সব যেন তছনছ করে দিয়ে তাদের বেঁচে থাকার শেষ আশা টুকুও যেন নিভিয়ে দিয়েছে। কাংশা ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম, নলকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী ফর্সা, ট্রইভাল অয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নবেশ খক্সী, ইউপি সদস্য মোঃ আলমগীর হোসেন (রুপন) সহ বিধ্বস্ত গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দারা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করছেন। এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য আলহাজ প্রকৌশলী এ.কে.এম. ফজলুল হক, উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.জেড.এম শরীফ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহযোগীতার নির্মিত্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে বলে জানান।