জোটসঙ্গী জামায়াত ছাড়তে বিএনপির শীর্ষমহলে আলোচনা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক,

দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী জামায়াতকে জোটে রাখা না রাখা নিয়ে নিয়ে বিএনপিতে আলোচনা অনেকদিনের। নানা সময়ে জামায়াতের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছেন শীর্ষ নেতারাও। শনিবারের বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও অন্যান্য ইস্যুর সঙ্গে জামায়াত ইস্যুতে আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সবাই জামায়াত ছাড়ার পক্ষে থাকলেও কোনো ধরণের সিদ্ধান্ত হয়নি।

শনিবার বিকাল পাঁচটা থেকে আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলা স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে দলের ভুলত্রুটি ও করণীয় নিয়ে আলোচনায় নিজেদের মতামত তুলে ধরেন দলটির নেতারা। এতে সামনের দিনে ছাত্রদল ও ড্যাবের মত অন্যান্য সহযোগী, অঙ্গ সংগঠনে নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি করার পক্ষে সব সদস্য একমত হন বলে জানা গেছে।

এছাড়াও দলের সব পর্যায়ে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্য রাখার বিষয়টিতে স্থায়ী কমিটির সব সদস্য নীতিগতভাবে একমত হলেও এ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘মূলত দলের বেশ কিছু বিষয় আলোচনা হয়েছে। কিভাবে সামনে দল গোছানো যায়। নারী সদস্যের বিষয়টি নিয়ে গত বৈঠকে আলোচনা হয়েছিল। এবারও আলোচনা হয়েছে কিন্তু চূড়ান্ত কিছু হয়নি।’

জামায়াতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কিছু না বলেননি। বলেন, ‘বৈঠকে বসলে অনেক ধরণের কথাই তো হয়। সব তো বৈঠকের এজেন্ডা না।’

ভার্চুয়াল এ বৈঠকে লন্ডন থেকে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে নিজ নিজ বাসা থেকে অংশ নেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বরচন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বৈঠকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও বন্যা পরিস্থিতির পাশাপাশি রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। জামায়াত ছেড়ে দেওয়া, নির্বাচনের মাধ্যমে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক সম্পর্কে স্থায়ী কমিটির এক নেতা বলেন, আজকের বৈঠকে জামায়াত ছেড়ে দেয়া ও দল পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতের বিষয়ে জোটের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এমন এক নেতা ছাড়া বাকিরা সবাই ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে স্পষ্ট করে মত দেন। দেশি-বিদেশি সবার মতকে প্রাধান্য দিয়ে কাজটি করা উচিত বলেও মনে করেন নেতারা।

বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এ বিষয়ে তো আরও ছয় মাস আগেই কথা হয়েছে। জামায়াতের সঙ্গে আমাদের নির্দিষ্ট একটা লক্ষ্য নিয়ে জোট করা হয়েছিল। এখন তার প্রয়োজনীয়তা আছে কি না, সরকারের মনোভাব কি সব কিছু বুঝেই তো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেই রকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

জামায়াত ছাড়ার বিষয়ে সদস্যদের মনোভাব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার বন্ধু এখন হয়তো আপনার (সরকার) শত্রু। আমি ছেড়ে দিলে যে আপনার বন্ধু হয়ে যাবে না তার তো বিশ্বাস নাই। সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সেগুলোও ভাবতে হবে।’

অন্য একজন সিনিয়র সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘বৈঠকের সব কথা একজন বলেন তিনি আমাদের মহাসচিব। এর বাইরে আমাদের কথা বলা ঠিক না। সব জানতে তার সঙ্গে কথা বলুন, তথ্য পেয়ে যাবেন।’

এছাড়াও করোনাকালে বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি কেমন হবে, ভবিষ্যতে কি করণীয় সেসব বিষয় নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

%d bloggers like this: