ঢাকা ২৯.৯৯°সে ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কক্সবাজার সীমান্ত দিয়ে ফের রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ

কক্সবাজারের সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ হচ্ছে। এতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি কঠোর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এর পাশাপাশি সীমান্তে বিজিবির টহল সংখ্যাও দ্বিগুণ করা হয়েছে। অনেক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে ক্যাম্পে অবস্থান নিয়েছে বলে জানিয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। তবে বিষয়টি নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এবং ইউএনএইচসিআর।

নতুন করে আসা রোহিঙ্গারা তাদের আত্মীয় স্বজনদের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। বিষয়টি স্বীকার করে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে আরও সতর্ক বিজিবি। মিয়ানমারের মংডুর গর্জের বিল এলাকার নাগরিক সোনা আলী। গেল ২৯শে এপ্রিল কৌশলে সীমান্ত পার হয়ে টেকনাফের শালবাগান আশ্রয় শিবিরে এসেছেন তিনি। ক্যাম্পে পরিবার ও স্বজনদের কাছে থাকতে চান তিনি। দেশটি থেকে গেল ১ সপ্তাহে অনুপ্রবেশ করেছে অর্ধশত রোহিঙ্গা। যারা ২০১৭ সালে মিয়ানমারে আটক হয়ে কারাগারে ছিলেন। সম্প্রতি মিয়ানমারের জান্তা সরকার ১৩৭ জন বিদেশিসহ মোট ২৩ হাজার ৪৭ বন্দিকে সাধারণ ক্ষমার আওতায় মুক্তি দিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। যেখানে রয়েছে ছয়শো রোহিঙ্গাও।

নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে ক্যাম্পে সতর্ক নিরাপত্তার দায়িত্ব থাকা এপিবিএন। ক্যাম্পের মধ্যে নতুন কেউ আসলে নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে তা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে অবহিত করা হচ্ছে বলে জানালেন এপিবিএনের কমান্ডিং অফিসার মো. তরিকুল ইসলাম। বিজিবি হেডকোয়ার্টার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান বলেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা যেমন বেড়েছে, তেমনি প্রতিহত করার ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়েছে। অনুপ্রবেশকারীদের ঠেকাতে সীমান্তে টহল দ্বিগুণ করা হয়েছে।

বিজিবির দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছরের গেল ৪ মাসে মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায় ১৪৭ জন রোহিঙ্গা। যাদের পরে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়। যাদের মধ্যে রয়েছেন পুরুষ ১০৫ জন, নারী ২৮ জন ও শিশু ১৪ জন।জানুয়ারি মাসে কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মোট ১৬ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। তারমধ্যে টেকনাফে ৭ জন ও কক্সবাজারে ৯ জন। ফেব্রুয়ারি মাসে কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে মোট ১৩ জন অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। তার মধ্যে টেকনাফে ১০ জন ও কক্সবাজারে ০৩ জন।

মার্চ মাসে কক্সবাজার ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে ৫৬ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালায়। তারমধ্যে টেকনাফে ৪৮ জন ও কক্সবাজারে ৮ জন। এপ্রিল মাসে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ না করলেও টেকনাফ ব্যাটালিয়নের সীমান্ত দিয়ে ৬২ জন অনুপ্রবেশের চেষ্টা করে। যার মধ্যে ৬২ জনই ছিল পুরুষ।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর