Durnitibarta.com
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৯ জুন ২০২২
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইসলামিক ফাউন্ডেশনেও জামায়াতের হানা!

প্রতিবেদক
Admin
জুন ৯, ২০২২ ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

তৌহিদুল আনোয়ার। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনে চাকরি নেন। যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। অনিয়ম, দুর্নীতি এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে সব সময় সক্রিয়।

অভিযোগ আছে, তৌহিদুল আনোয়ারকে নিয়মের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন সময় পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে ঊদ্ধর্তনদের ম্যানেজ করে তিনি পদোন্নতি বাগিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক।

জানা গেছে, তৌহিদুল একসময় ছাত্র শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত মেজর রফিক উল্লাহর ভাগ্নে তিনি।

চট্টগ্রামের সচেতন মহলের অভিযোগ, তৌহিদুল সরকারকে বিব্রত করতে বিভিন্ন কাজ করে চলেছেন। চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদভিত্তিক ইসলামী কর্মকান্ড বন্ধ করতে তিনি এখন ব্যতিব্যস্ত। কার এহেন কাজে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ।

এর আগে রাঙ্গামাটিতে চাকরিরত থাকার সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে তৌহিদুল চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন। তার বিরুদ্ধে পাহাড়ি বাঙালির সম্প্রীতি নষ্টের অভিযোগও আছে।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারী তৌহিদুলকে বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন ওই বিভাগেরই জ্যেষ্ঠ একজন শিক্ষক।

সেসময় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালকে উদ্দেশ্য করে ঢাবির সাবেক ওই ভিসি বলেছিলেন, ‘এই জামায়াত শিবিরের ক্যাডার এখানে কী করে?’

যেভাবে চাকরিতে তৌহিদুল:

১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের শেষ সময়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন তৌহিদুল আনোয়ার। পরবর্তীতে তিনি জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি না নিয়ে সাবেক মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজালের যোগসাজশে উপ-পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি পান।

এই পদে চাকরি করার সময় পাহাড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণে বরখাস্ত এবং বিভিন্ন কর্মস্থলে বিল ভাউচার বানিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

তৌহিদুলের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাউরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, স্কুলে পড়ার সময়ে তৌহিদুল ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। তৌহিদুল নিজ উপজেলা সন্দ্বীপের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সকল কর্মকান্ড শিবিরের সাবেক ক্যাডারদের হাতে দিয়ে রেখেছেন বলেও অভিযোগ আছে।

চট্টগ্রাম শহরের জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের নীচতলায় তৌহিদুল আনোয়ারের কার্যালয়। তবে তিনি থাকেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের পাহাড়িকা আবাসিক এলাকায়। সেখানে একতা ভবন নামের ছয়তলা একটি ভবনের একাংশের মালিক বলেও রটনা আছে। ওই ভবন ও আশপাশে জামায়াতে ইসলামের ভাবধারার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বসবাস।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্প পরিচালক হিসেবে চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে দায়িত্ব পালনের পর তিনি রাতারাতি বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন। মসজিদের মাঠের একটি বড় অংশ ম্যাক্স নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দিয়ে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

চট্টগ্রামের প্রধান দুইটি মসজিদের একটি জমিয়তুল ফালাহ, অন্যটি আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদ। দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলাম ও তাদের ভাবধারার লোকজন আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদকে কেন্দ্র করেই কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

আর সুন্নি আক্বিদার সমস্ত কর্মকান্ড পরিচালিত হতো জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ থেকে। জামায়াতের লোকজন এ নিয়ে সবসময় ক্ষুব্ধ থাকতেন। তারা জমিয়তুল ফালাহকেন্দ্রিক ইসলামি কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য বারবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি।

এমনকি বিগত বিএনপি জামায়াত সরকারও এই কার্যক্রমে হস্তক্ষেপ করেনি। কিন্তু তৌহিদুল আনোয়ার পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রামে আসার পর থেকে জামায়াতের এজেন্ডা সুকৌশলে বাস্তবায়ন করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় আলেমদের।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘কিছু লোক আমাকে জামায়াতে ইসলামী বলে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। যারা অভিযোগ করছেন, তারাই প্রমাণ করুক, আমি কোথায় শিবির করতাম আর কোন কমিটিতে ছিলাম।’

জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের বিভিন্ন ইসলামিক কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার আগে এখানে ইদ্রিস নামের একজন ছিলেন। তিনিই সব কাজ শুরু করেন আর আমার আমলে বাস্তবায়ন হচ্ছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘যেই বাড়ি আমার বলা হচ্ছে, সেখানে আমি ভাড়া থাকতাম। একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। আমাকে এখান থেকে সরাতে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এখান থেকে বদলি করা হলে অন্য জেলায় চাকরি করব।’