জঙ্গিবাদ ইসলামকে হেয় করছে, সোচ্চার হোন: প্রধানমন্ত্রী

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম কখনও জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। জঙ্গিরা ইসলামকে হেয় করছে। বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মান-সম্মান নষ্ট করছে। এ ব্যাপারে ইমাম, ধর্মীয় পণ্ডিতসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বুধবার বিকালে ফরিদপুরের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগ এই জনসভার আয়োজন করে।

সাম্প্রতিক দেশে সংঘটিত জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইসলাম আত্মহননের পথ বেছে নেয়া কখনো সমর্থন করে না। এই জঙ্গিবাদ ইসলামকে বিশ্বব্যাপী হেয় করছে। মুসলমানদের মান-সম্মান নষ্ট করছে। এ ব্যাপারে প্রত্যেককে সোচ্চার হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের ছেলেমেয়েরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে সে ব্যাপারে খোঁজখবর রাখবেন। আপনাদের সন্তানদেরকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের পথ থেকে রক্ষা করবেন।’ এ সময় তিনি স্কুল-কলেজে কোন কোন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকছে সে ব্যাপারে শিক্ষকদের সতর্ক থাকতে বলেন।

ফরিদপুরবাসীর উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের জন্য আজ অনেক উপহার নিয়ে এসেছি। এই এলাকা সবসময় অবহেলিত ছিল। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ফরিদপুরে কোনো সরকার উন্নয়ন করেনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে এখানে সবধরনের উন্নয়ন বন্ধ ছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে ফরিদপুরের সব উন্নয়ন করেছি।’

ফরিদপুরকে নতুন বিভাগ করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ঢাকাকে ভেঙে ময়মনসিংহ বিভাগ করেছি। ঢাকাকে ভেঙে নতুন আরেকটি বিভাগ হবে। ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর নিয়ে এই বিভাগ করা হবে। এ ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা আছে।’ তবে তিনি সুস্পষ্ট কোনো অঙ্গীকার করেননি।

এ সময় তিনি বিগত ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করায় ফরিদপুরবাসীকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। আগামী নির্বাচনেও ফরিদপুরের চারটি আসন আওয়ামী লীগকে উপহার দিতে আহ্বান জানান। এ সময় তিনি উপস্থিত জনতাকে হাত তুলে নৌকায় ভোট দেয়ার অঙ্গীকার নেন।

adv-05

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের মানুষ কিছু পায়। এদেশের যত অর্জন সব আওয়ামী লীগের হাত ধরেই এসেছে।’ এ সময় তিনি বায়ান্নের ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা, স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা উল্লেখ করেন।

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ফরিদপুরবাসী জানেন ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর চালিয়েছিল হত্যা-নির্যাতন। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল।’ এ সময় তিনি বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগের খুন হওয়া নেতাকর্মীদের তালিকা তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। তারা একদিকে ধর্মের কথা বলে অন্যদিকে মানুষ পুড়িয়ে মারে, কোরআন পোড়ায়। হরতাল-অবরোধের নামে দেশবাসীকে জিম্মি করে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিনি এয়ার কন্ডিশন রুমে বসে হুকুম দেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সরকার উৎখাত না করে ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু জনগণের প্রতিরোধের মুখে নাকে খত দিয়ে ঘরে ফিরতে বাধ্য হয়।’

বিএনপির আমলের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা মুরব্বি আছে তাদের মনে থাকার কথা, জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর ৪০ পর্যন্ত টিভিতে শুধু দেখানো হয়েছে ভাঙা সুটকেস। পরে সেই ভাঙা সুটকেস জাদুর বাক্সে পরিণত হয়। মানুষের টাকা লুট করে খালেদা ও তার ছেলেরা বিশাল সম্পদের মালিক হন।’

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে নিজের সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন। পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শেষ হলে দক্ষিণাঞ্চলের চিত্র পাল্টে যাবে বলে জানান তিনি।

ফরিদপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল সাহার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক, এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান প্রমুখ।

এ ছাড়া মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আকরাম হোসেন, আলফাডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক এই সময়ের সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন প্রমুখ।

%d bloggers like this: