চিকিৎসকদের ধর্মঘটে জামালপুর হাসপাতালে রোগীদের ভোগান্তি

0

জামালপুর প্রতিনিধি :

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রবিবার সকাল থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে হামলা-ভাঙচুর, চিকিৎসকদের মারধর এবং পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে এই কর্মবিরতি তাদের। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা হাজারো রোগী ও তাদের স্বজনরা।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) যৌথ ডাকে ধর্মঘটের কারণে রবিবার সকালে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডাকা ধর্মঘটের অংশ হিসেবে জেলার বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো ঘোষণা ছাড়াই চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে আরো বিপাকে পড়েছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা।

সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিতে না পারায় এসব রোগীর দুর্ভোগ আরো চরম আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরে একজন নারী রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তার স্বজনরা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উপর হামলা করে এবং জরুরি বিভাগে ভাঙচুর চালায়।

তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে এসে পুলিশও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নির্যাতন করেছে এবং জামালপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে। একজন চিকিৎসক ও সাতজন ইন্টার্ন চিকিৎসককে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

ডা. মাহফুজ বলেন, আমাদের তিন দফা দাবি হলো সেই দিন ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যেসব পুলিশ সদস্য এসব ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিচার ও ইন্ধনদাতা ওসি রেজাউল ইসলাম খানের প্রত্যাহার এবং জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা। তবে রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়ে নিয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম খান এই প্রতিবেদককে বলেন, হাসপাতালে হামলা, ভাঙচুর ও চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনায় শনিবার রাতে সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় মৃত রোগী করিমন নেছার ভাতিজা সাইদুর ও পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনিরুজ্জামানসহ পাঁচজন এবং অজ্ঞাত আরো কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

মামলা করার পর সাইদুর ও শহিদুল্লাহ নামে দুজন আসামিকে শনিবার রাতে শহরের ইকবালপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদেরকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এছাড়া বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

এসব বিষয়ে পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন ফোনে বলেন, জেনারেল হাসপাতালের ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি যে প্রতিবেদন দিবে সেটা দেখার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে কোনো পুলিশ সদস্য যদি বাড়াবাড়ি করে থাকে তাহলে তার শাস্তি হবে। সেই সময় পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছিল। এখন আমরা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি।

%d bloggers like this: