loading...

গৌরীপুর সরকারী কলেজের ৯ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য ৫১ সিটের হল ,নেই কোন ছাত্রী নিবাস

0

গৌরীপুর(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধি ঃ
গৌরীপুর সরকারি কলেজের ৯ হাজার শিার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ৫১ সিটের হোস্টেল। তাও আবার সেটি মাত্র ছেলেদের জন্য ৪ হাজার ছাত্রীর জন্য নেই কোনো ছাত্রীনিবাস।

৫ হাজার ছাত্রের জন্য দুটি ছাত্রাবাস থাকলেও আসন সংখ্যা মাত্র ৫১টি। আসন সঙ্কটের কারণে বেশির ভাগ শিার্থীই সীটের জন্য আবেদন করে না। ফলে তাদের থাকতে হচ্ছে মেসে কিংবা ভাড়া বাড়িতে। এতে করে তাদের পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটছে এবং অর্থনৈতিক তির সম্মুখীন হচ্ছে।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, এই কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক (পাস) ছাড়াও ৬টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) কোর্স চালু রয়েছে। কলেজের সর্বমোট শিার্থীর সংখ্যা ৯ হাজার। কিন্তু বিশাল শিার্থীদের জন্য নেই পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা।

বছর দুয়েক আগে একশত আসন বিশিষ্ট বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছাত্রীবাস ও আরেকটি পৃথক ছাত্রাবাস নির্মাণের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কতৃপ বরাবর পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত বরাদ্দ হয়নি। ফলে ছাত্রাবাসে আসনের সংকট, অন্যদিকে ভাড়া বাড়িতে মালিক পরে বাড়াবাড়ি সব মিলিয়ে অনেকটাই আবাসন-নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিার্থীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উচ্চমাধ্যমিক শিার্থীদের জন্য এস আলী ছাত্রাবাসে ২৭টি ও স্নাতক শিার্থীদের জন্য নূরুল আমিন খান ছাত্রাবাসে ২৪ টি আসন রয়েছে। কিন্তুু এই দুটি ভবন অত্যন্ত জরাজীর্ণ।
প্রতিটি কক্ষে ৩/৪ জন শিক্ষার্থী থাকলেও ফ্যান রয়েছে একটি করে। সিলিং ও টিনের চালে ভাঙ্গাচোরা। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে শিার্থীদের বই খাতা-জামাকাপড় নষ্ট হয়। কগুলোর দরজা-জানালাগুলো নষ্ট থাকার কারণে প্রায়ই ছাত্রাবাসে স্থানীয় ছিচকে চোরের দল মোবাইল ও টাকা চুরি করে নিয়ে বলে জানিয়েছেন একাধিক শিার্থী।
ছাত্রাবাসের শিার্থীরা জানান ছাত্রাবাসে সিট নিলে বছরে ভাড়া লাগে ২৮শত টাকা। মেসে সিট নিলে বছরে ভাড়া প্রায় ১০ হাজার টাকা। তাই সেবার মান খারাপ হলেও টাকা বাঁচাতে কষ্ট করেই এখানে থাকতে হচ্ছে। জরাজীর্ণ ভবনের বিষয় জানেত চাইলে কলেজ কতৃপ জানান, চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় ছাত্রাবাস সংস্কার করা যাচ্ছে না।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, অনেক শিার্থী গৌরীপুরের বাইরে থেকে এসে কলেজে পড়াশোনা করেন। কিন্তুু আবাসন সঙ্কটের কারণে পাচঁ সহস্রাধিক শিার্থী পৌর শহরের বালুয়াপাড়া, শান্তিবাগ,খেলারমাঠ, ছয়গগন্ডা, কলাবাগান,গোলকপুর সহ বিভিন্ন এলাকায় মেস ভাড়া করে থাকে। ভাড়া বেশি হওয়ায় মেসের ছোট একটি কে তিন থেকে চারজন থাকতে হয়।

এ ছাড়াও বাড়ির মালিকদের নিয়মের কড়াকড়ির কারণে বেশির ভাগ মেসে নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক মেসে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে থাকেন মালিকগণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মেয়ে শিার্থী বলেন,ভাড়া বাড়িতে থাকতে গেলে নানা রকম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ভাড়াটিয়ার আতœীয় ও স্থানীয় বখাটেরা প্রায়ই উত্যক্ত করে। ফলে সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগতে হয়।

গৌরীপুর সরকারি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ২য় বর্ষের ছাত্রী সুফিয়া আক্তার বলেন, কলেজের অনেক মেয়ে শিার্থী গৌরীপুরের বাইরের বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে এখানে ভর্তি হয়েছেন। কিন্তুু ছাত্রীবাস না থাকার তাদের নানা রকম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

গৌরীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল ওয়াদুদ খন্দকার বলেন, ছাত্রাবাস ও ছাত্রীবাস নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে কিন্তু ভবন নির্মাণের বরাদ্ব না তাকায় তা হচ্ছে না।  জোর তদবির না থাকার কারণে বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না।

loading...
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: