গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাংবাদিক সম্মেলন কর্মসৃজন কর্মসূচীতে ব্যবসায়ী শিক্ষক ও কোটিপতি ওরাও হতদরিদ্র

0

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ
সোমবার ৩ এপ্রিল গৌরীপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ। সংঘটনটির অভিযোগ গৌরীপুর উপজেলায় হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি চলছে।

তার প্রতিবাদ করে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির লিখিত বক্তব্যে সরকারের জনবান্ধব এ কর্মসূচিতে ৬ ধরনের লুটপাটের চিত্র তুলে ধরেন। অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে রয়েছে তালিকায় ধনীদের প্রাধান্য দিয়ে তাদের জানিয়ে চাল লুট, ভুয়া নাম তালিকাভুক্তি, একই ব্যক্তির নামে একাধিক কার্ড,হতদরিদ্র বিবেচনায় না নিয়ে আঞ্চলিকতা ও স্বজনপ্রীতি, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও কোটিপতিদের তালিকা ভুক্তিকরণ। কোটিপতি তারও নাকি হতদরিদ্র।

সংগঠনের দাবি, প্রশাসন এ ব্যাপারে রয়েছে অন্ধকারে নিমজ্জিত। তার অন্ধ,দেখেও না দেখার ভান করছে। প্রশাসনের উদাসীনতা ও খামখেয়ালিপনার কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে।

গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মতিন মাস্টার বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে উপজেলার ১নং মইলাকান্দা ও ৩নং অচিন্তপুর ইউনিয়নের তালিকা ত্রুটিপূর্ণ, অস্পষ্ট। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে অনিয়ম ও দুর্নীতি গড়ে ৬৫ শতাংশ। ৪নং মাওহা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ডিলার আবদুল জব্বার। তার পরিবারেই রয়েছে ৪টি কার্ড। তার স্ত্রী মোছা. ফাতেমা খাতুন (কার্ড নং ২৩৮), তার ছেলে হারুন অর রশিদ (কার্ড নং ২৩৭), ডিলারের পুত্রবধূ মোছা. শাবনূর আক্তার (কার্ড নং ২৩৬) ও ডিলারের জেঠাস মোছা. নুরজাহান (কার্ড নং ২৩৫)। উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের তালিকায় নেই হতদরিদ্রদের ভোটার নম্বর। এ ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামে আহাম্মদ আলীর স্ত্রী সাজেদা, মিয়া হোসেনের স্ত্রী আছিয়া খাতুন, আবদুল কাদিরের স্ত্রী ফরিদা খাতুন, হেকিম মন্ডলের ছেলে জজ মিয়া, কাছম আলীর ছেলে আবদুল হাই, সৈয়দ আলীর পুত্র হেকিম, সুরুজ আলীর পুত্র খোকন মিয়াসহ এমন শতাধিক মানুষের তালিকা নাম থাকলেও গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধি দল ওই গ্রামে এ নামের মানুষের সন্ধান পায়নি।

তাড়াহুড়া করায় ভোটার নম্বর দেয়া যায়নি উল্লেখ করে সিধলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন বলেন, কিছু ভুলভ্রান্তি (এতো বড় ভুল?) আছে, সেগুলো ঠিক করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার বলেন, উপজেলা উন্নযন পরিষদকে জানিয়েছেন বিষয়টি দেখা হচ্ছে!

%d bloggers like this: