গৌরীপুরে ১০ টাকার চালে ছয় ধরনের ‘লুটপাট’

0

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছে গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির সংবাদে সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সরকারের জনবান্ধব এ কর্মসূচিতে ছয় ধরনের লুটপাটের চিত্র তুলে ধরেন। অনিয়ম ও দুর্নীতির মধ্যে রয়েছে তালিকায় ধনীদের প্রাধান্য দিয়ে তাদের জানিয়ে চাল লুট, ভুয়া নাম তালিকাবুক্তি, একই ব্যক্তির নামে একাধিক কার্ড, হতদরিদ্র বিবেচনায় না নিয়ে আঞ্চলিকতা ও স্বজনপ্রীতি, চাকরীজীবী, ব্যবসায়ী ও কোটিপতিদের তালিকাভুক্তিকরণ। সংগঠনের দাবি, প্রশাসনের উদাসীনতা ও খামখেয়ালিপনার কারণে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে।

গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মতিন মাস্টার বলেন, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে উপজেলার ১নং মইলাকান্দা ও ৩নং অচিন্তপুর ইউনিয়নের তালিকা ত্রুটিপূর্ণ, অস্পষ্ট। উপজেলার আটটি ইউনিয়নে অনিয়ম ও দুর্নীতি গড়ে ৬৫ শতাংশ। ৪নং মাওহা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ডিলারে আব্দুল জব্বার। তার পরিবারেই রয়েছে চারটি কার্ড। তার স্ত্রী মোছা. ফাতেমা খাতুন (কার্ড নং ২৩৮), তারপুত্র হারুন অর রশিদ (কার্ড নং ২৩৭), ডিলারের পুত্রবধূ মোছা. শাবনূর আক্তার (কার্ড নং ২৩৬) ও ডিলারের জেঠাস মোছা. নুরজাহান (কার্ড নং ২৩৫)।

SA Computer

উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের তালিকায় নেই হতদরিদ্রদের ভোটার নাম্বার। এ ইউনিয়নের ধীতপুর গ্রামে আহাম্মদ আলীর স্ত্রী সাজেদা, মিয়া হোসেনের স্ত্রী আছিয়া খাতুন, আব্দুল কাদিরের স্ত্রী ফরিদা খাতুন, হেকিম মন্ডলের পুত্র জজ মিয়া, কাছম আলীর পুত্র আব্দুল হাই, সৈয়দ আলীর পুত্র হেকিম, সুরুজ আলীর পুত্র খোকন মিয়াসহ এমন শতাধিক মানুষের তালিকা নাম থাকলেও গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের প্রতিনিধি দল ওই গ্রামে এ নামের মানুষের সন্ধান পায়নি। তাড়াহুড়া করায় ভোটার নাম্বার দেয়া যায়নি উল্লেখ করে সিধলা ইউনিয়নের জয়নাল আবেদিন বলেন, কিছু ভুলভ্রান্তি আছে, সেগুলো ঠিক করা হচ্ছে।

সংগঠনের সদস্য নিজাম উদ্দিন বাবুল বলেন, ডৌহাখলা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৮শ। এ হিস্যানুযায়ী প্রায় ২৫০জন হতদরিদ্র মানুষ তালিকা নামভুক্তি হওয়া উচিত ছিল। সে ওয়ার্ডে মাত্র ১৭জন কার্ড পেয়েছে।

এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে দাবি করেন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল হক সরকার। সংগঠনের দাবি রামগোপালপুর ইউনিয়নে বিত্তশালীর সংখ্যা ৬০ শতাংশ। এ ইউনিয়নের তালিকায় অধিকাংশদের দেয়া হয়নি ভোটার আইডি নাম্বার। বোকাইনগর ইউনিয়নের ৩৮নং, ৪৪নং, ১২০নং ও ২১৭নং ক্রমিকে একই ব্যক্তি আব্দুল হেকিম চৌধুরীর পুত্র শফিকুল হক চৌধুরী, ৩৯নং, ১২১নং ও ২১৮নং ক্রমিকে আবুবক্কর সিদ্দিকের পুত্র মো. শহিদ মিয়ার নাম লিপিবদ্ধ রয়েছে।

এ ব্যাপারে বোকাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. হাবিব উল্লাহ বলেন, এসব নামের সংশোধনী পাঠানো হয়েছে। তবে তা এখনো অনুমোদন হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার বলেন, বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তারাপদ চক্রবর্তী বলেন, প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা দিতে চেয়ারম্যানদের কয়েকদফা পত্র দেয়া হয়েছে।

%d bloggers like this: