loading...

গৌরীপুরে ডাঃ মুকতাদির চক্ষু হাসপাতালে বিনামূল্যে ৪৩ তম চক্ষু শিবির

0

শাহজাহান কবির, গৌরীপুর :

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ডাঃ মুকতাদির চক্ষু হাসপাতালে ৪৩ তম বিনামূল্যে চক্ষু শিবির শুক্রবার (৩ জানুয়ারী) শুরু হয়েছে। এদিন বেলা ১১ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি। এ বছর ১ হাজার চোখের রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়া হবে এ হাসপাতালে।

হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাঃ এ.কে.এম.এ মুকতাদিরের সভাপতিত্বে এ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি, গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উদ্দিন, গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুল ইসলাম মিন্টু, সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বেগ ফারুক আহাম্মদ, উপজেলা শ্রমিকলীগের আহবায়ক আব্দুস ছামাদ প্রমুখ।

উল্লেখ্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাঃ এ.কে.এম.এ মুকতাদির নিজস্ব অর্থায়নে বিনামুল্যে চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে ৪৩ বছরে গৌরীপুরে ১ লক্ষ ১৭ হাজার চোখের রোগীর চিকিৎসা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ১৯৭৬ সন থেকে ময়মনসিংহের নিজ গৌরীপুর উপজেলায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে তিনি এ চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের নিকট চোখের চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে এ উপজেলায় বোকাইনগর ইউনিয়নে নয়াপাড়া গ্রামে ২০০৪ সালে সহধর্মিনী মাহমুদা খাতুনের সহযোগিতায় তিনি গড়ে তোলেন ডাঃ মুকতাদির চক্ষু হাসপাতাল।

দেশের অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তির হাসপাতালগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে মানুষের চোখের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে এ হাসপাতালটি। এখন আর চোখের চিকৎসার জন্য এ অঞ্চলের মানুষকে রাজধানীতে যেতে হয়না। এখন শুধু গৌরীপুর নয় আশের পাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ আসে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। স্বল্প খরচে মানুষ এখানে পাচ্ছেন চোখের নানান রোগের চিকিৎসা সেবা।

ডাঃ এ.কে.এম.এ মুকতাদির জানান, ১৯৭৬ থেকে ২০০৩ সন পর্যন্ত গৌরীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামুল্যে চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ৯৭ হাজার চোখের রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা করেন তিনি। পরবর্তীতে নিজ হাসপাতালে ২০০৩ থেকে ২০১৯ সন পর্যন্ত ২০ হাজার চোখের রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেন তিনি। চলতি বছর বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করা হবে প্রায় ১ হাজার রোগীর।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বের কোন দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এত লোকের বিনামুল্যে চোখের ছানি অপারেশন করার রেকর্ড আর কারো নেই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষকে তিনি এ চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাবেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার ১৬ বছরে স্বল্পমূল্যে মোট ৬৩ হাজার ৫৫৬ জন রোগীর চোখের ছানি, নালি, মাংস বৃদ্ধি, গ্লোকোমা, নেত্রনালির, পাথর সংযোজন, গুটি, টিউমার, টেরা চোখসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন করা হয়েছে।
সরজমিনে দেখা গেছে, দালালমুক্ত বৃহৎ আয়তনের এ হাসপাতালটিতে রয়েছে চোখের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি। বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে রয়েছে নিজস্ব জেনারেটর ব্যবস্থা। রোগীর জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত ওয়ার্ড ও বেড। রোগীর সাথের লোকজনের জন্য আছে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা। মনোরম পরিবেশে চারতলা বিশিষ্ট্য হাসপাতালটির চারপাশে রয়েছে ফুলের বাগান ।

বিনোদনের জন্য রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা ও হাসপাতালের সামনে স্থাপন করা হয়েছে বিশাল পার্ক। হাসপাতালের পাশে স্থাপন করা হয়েছে মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা। এ হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে ওঠেছে ঔষধ, চশমাসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর দোকান। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় শতাধিক লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এ হাসপাতালে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে বেকারত্ব গুঁজিয়ে স্থানীয় অনেক বেকার যুবক-যুবতী।

loading...
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: