loading...

গৌরীপুরে ইটভাটায় অবাধে পুড়ছে কাঠ, নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, নিরব ভূমিকায় প্রশাসন

0

ক্রাইম রিপোর্টার:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বেশকিছু ইটভাটায় প্রকাশ্যে চলছে কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব। ইটভাটায় রক্ষিত কয়লা শুধুই শোবিজ। জৈব সার দিয়ে ফসল উৎপাদনের সেই পুষ্টি মাটিও গিলে খাচ্ছে ইটভাটা। পুড়ছে জীব-বৈচিত্র, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর বদলে যাচ্ছে জলবায়ু। কৃষি বিভাগের অনুমোদন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে অনেক ইটভাটা। স্কুলের পাশে, আবাসিক এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ইটভাটা। উপজেলার গৌরীপুর-ভুটিয়াকুনা সড়কের পাশে বোকাইনগর ইউনিয়নের দারিয়াপুরে মেসার্স তারা ব্রিকস ও মেসার্স তানিয়া ব্রিকস নিষিদ্ধ ঘোষিত হবার পরেও বীর দর্পে তারা প্রকাশ্যেই ইটভাটায় কাঠ পুড়িয়ে চলছে।

আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা টাকার জোড়ে নিজের ইচ্ছায় চালিয়ে যাচ্ছে ইটভাটা। মানছেনা পরিবেশ অধিদপ্তর ও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন। শধু দারিয়াপুরের তারা ও তানিয়া ব্রিকসেই নয়, রামগোপালপুরের মোঃ সাইফুল ইসলামের মেসার্স এসএম (সিমি) ব্রিকস, শিবপুরে মোঃ শামছুল ইসলাম ভূঞার সামছু ব্রিকস, বলুহায় মোঃ সাফায়েত হোসেন ভূঞার শাফায়েত ব্রিকস, রামগোপালপুরে মোঃ মোবারক হোসেন বাবুল ও মোঃ গিয়াস উদ্দিনের এজিএম ব্রিকস, গুজিখাঁয় আলী আকবর আনিছের বিসমিল্লাহ ব্রিক ফিল্ড, গনি মিয়ার চাচা-ভাতিজা, রসুলপুরে মোসলেম উদ্দিনের মেসার্স আয়েশা ব্রিকস, দারিয়াপুরে মুজাহিদুল ইসলাম বাবুলের মেসার্স শাপলা ব্রিকস, ডৌহাখলায় রাকিবুল ইসলামের ইকো ব্রিকসসহ আরো বেশ কয়েকটি ইটভাটা আইন অমান্য করেই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের কার্যক্রম।

ইট পোড়ানোর আইন অনুযায়ী কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে না। কাগজের এ আইন কাগজেই রয়ে যাচ্ছে, বাস্তবায়ন হচ্ছেনা ময়মনসিংহের গৌরীপুরে। সেই সাথে কৃষি জমির মাটি কেটে ইট তৈরীর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এ সকল অবৈধ ইটভাটায়। এ সকল ইটভাটার কালো ধোয়া পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতিসাধন করছে। এতে ওই এলাকার ফসলী জমিতে ফসল উৎপাদন মারাত্বক হ্রাস পাচ্ছে। সেই সাথে বর্তমানে মৌসুমি ফলের মুকুল মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এছাড়া ওই এলাকার পরিবেশ মানুষের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আর এটি যেন দেখার কেউ নেই। প্রশাসনের ভুমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। এ সকল ইটভাটার অধিকাংশেরই নেই জেলা প্রশাসনের ইট পোড়ানোর লাইসেন্স।

কোন প্রকার কাগজপত্র ছাড়াই প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে দেদারছে চলছে এসকল ইটভাটার অবৈধ কার্যক্রম। দুর্নীতি বার্তার একটি টিম সরেজমিন গিয়ে দেখতে পায়, মেসার্স তারা ব্রিকস ও মেসার্স তানিয়া ব্রিকস সহ আরো কয়েকটি ভাটায় অবাধে পুড়ছে ফলজ ও বনজ গাছ। এ সকল ইটভাটায় প্রতিদিন প্রায় কয়েক হাজার মন কাঠ পুড়ছে বলে জানা যায়। তারা কিভাবে এসকল অবৈধ ইটভাটা পরিচালনা করছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান ‘টাকা থাকলে সবই সম্ভব’। এলাকার বেশ কিছু সচেতন মানুষ জানান এ সকল ইটভাটা মালিকেরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় এদের বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস কারো নেই। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এসব ইটভাটা চলছে বলেও দাবী করেন তারা।

তারা বলেন এসকল ইটভাটার কারণে এলাকার পরিবেশের যে অবস্থা তাতে এখানে বসবাস করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। আর সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে কোমলমতি স্কুল পড়ুয়া শিশুরা কারণ স্কুলের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে ইটভাটা। এসব ভাটার ধুলা, পোড়া মাটির গন্ধ, কালো ধোয়ার কবলে শিশু ও বৃদ্ধরা শ্বাসকষ্টসহ নানা সমস্যায় পড়ছে বলে জানান সচেতন এলাকাবাসী। জানা যায় গত নভেম্বর/১৯ মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আবুল হাসেমের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে অনুমোদনবিহীন তানিয়া ব্রিকসের সিমনী ও ভাটা গুড়িয়ে দেয়। তারা ব্রিকসকে জরিমানা আদেশ দেয়া হয়। সেই সাথে মেসার্স তারা ব্রিকস ও মেসার্স তানিয়া ব্রিকস ফিল্ডকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

জনমনে এখন প্রশ্ন, প্রশাসনের নাগের ডগায় বসে এ সকল অবৈধ ইটভাটা কিভাবে পরিচালিত হচ্ছে? তানিয়া ব্রিকসের মালিক কামাল উদ্দিন লিটনকে ইটভাটায় না পেয়ে মোবাইল ফোনে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি দুর্নীতি বার্তাকে বলেন, আমি সমিতির অনুমতিক্রমেই পুনরায় চালু করেছি আমার ইটভাটা। আমরা কাঠ বা লাকড়ি পুড়াই না। এখানে যে লাকড়ি রয়েছে তা শ্রমিকদের রান্নার কাজে ব্যবহারের জন্য। ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মো. মোসলেম উদ্দিনের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে কেটে দেন। পরে আর ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেজুঁতি ধরের কাছে জানতে চাইলে দুর্নীতি বার্তাকে বলেন, কিছুদিন আগে দারিয়াপুরে ১টি ইটভাটা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছিলো। এখন কে এমন করছে তা জানা নেই, তবে বিষয়টি আমি দেখবো। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা দ্রত এসব অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে অভিযান চালানোর জন্য জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

বিঃ দ্রঃ আমরা জনস্বার্থে নিউজ প্রকাশ করে থাকি। আপনাদের এলাকায় এমন কোন তথ্য থাকে যা প্রচারে দেশ ও দশের উপকার হবে তাহলে আমাদের জানান, আমাদের টিম সরেজমিনে পরিদর্শন করে বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করবে। আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেনঃ durnitibartadesk@gmail.com

loading...
%d bloggers like this: