গৌরীপুরকে মডেল উপজেলা হিসেবে রূপান্তরে ইউএনও মর্জিনা আক্তারের নিরলস প্রচেষ্টা

0

নিজস্ব প্রতিনিধি ঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলা হিসেবে রূপান্তরের লক্ষ্যে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন ইউএনও মর্জিনা আক্তার। গত এক বছরে মর্জিনা আক্তারের নেতৃত্বে প্রশাসনের সকল সেক্টরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহীতা, গতিশীলতা, তদারকি বৃদ্ধির মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হয়েছে।

সকলের সার্বিক সহযোগিতায় ইতিমধ্যে তিনি গৌরীপুরকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন। আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে উপজেলা পরিষদকে সি সি ক্যামেরার আওতায় আনার পাশাপাশি প্রতিটি অফিসের সামনে টানানো হয়েছে সিটিজেন চার্টার, সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন স্লোগানের ব্যানার-ফেস্টুন, জঙ্গিবাদ-বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ জনসচেতনতামূলক ব্যানার প্রভূতি। সংস্কার করা হয়েছে উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবন ও পাবলিক হল।

মান্ধাতা আমলের উপজেলা ভূমি অফিসকে আধুনিকায়নের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব অফিসে রূপান্তর করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকার জন্য স্থাপন করা হয়েছে ডিজিটাল হাজিরা।

জানা গেছে প্রায় এক বছর পূর্বে ইউএনও হিসেবে গৌরীপুর উপজেলায় যোগদান করেন মর্জিনা আক্তার।এসময় উপজেলা পরিষদের পাবলিক হলটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকায় সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে মারাতœক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি উদ্যোগী হয়ে এই পাবলিক হলটিকে সংস্কার করে অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য উপযোগী করে তুলেন।

সরকারি সকল দিবস তিনি গৌরীপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে যথাযোগ্য মর্যাদায় সকলের অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে পালন করেছেন।

বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত সরকারের উন্নয়মেলায় স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণের উপচেপড়া ভীড় পরিলক্ষিত হয়। তিনি যোগদানের পর এ উপজেলার প্রাইমারী স্কুলগুলোর অবস্থা ছিল খুবই বেহাল। এসময় শিক্ষকরা যথাসময়ে স্কুলে আসতো না এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেয়া হতো বিদ্যালয়গুলো। অধিকাংশ স্কুলেই পরিবেশন করা হতো না জাতীয় সংগীত। তিনি কঠোর হয়ে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি দমন করে প্রাইমারীর সুষ্ঠ পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করেন।

ইতিমধ্যে ২১ টি বিদ্যালয়ে মিড ডে মিল চালু করা হয়েছে এবং চলতি মাসেই বাকী স্কুলগুলোতে মিডডে মিল চালু করা হবে। এছাড়া মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে মাল্টি-মিডিয়া ক্লাস চালু করা হয়েছে। এলক্ষ্যে মাধ্যমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষন প্রদান অব্যাহত রয়েছে।

যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই সেসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদ মিনার স্থাপনের উদ্দেশ্যে ইতোমধ্যে তালিকা সম্পন্ন করা হয়েছে।

এ উপজেলার সিধলা ইউনিয়নে মনাটি গ্রামে প্রায় ৭৫০ জন নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী রয়েছে। তাদের জীবন যাত্রার মানোন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুনর্বাসিত করা হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় উল্লেখিত এলাকায় একটি বাঁশ-বেতের কারখানা স্থাপন করা হয়েছে।

গৌরীপুর উপজেলাকে বাল্যবিয়ে মুক্ত করতে মর্জিনা আক্তার অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। বাল্যবিয়ের ব্যাপারে তিনি ছিলেন জিরো টলারেন্স। এলক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে ও রাতে বিশেষ করে ছুটির দিনেও ভ্রামামান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে শতাধিক বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করেন তিনি। এসময় বাল্যবিয়েতে জড়িতদের জেল-জরিমানা করা হয়। যার ফলে গত ডিসেম্বর থেকে অদ্যবধি পযর্ন্ত এ উপজেলা কোন বাল্য বিয়ে হয়নি।

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে মর্জিনা আক্তার উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, কাজী, এনজিওকর্মী, মসজিদের ঈমাম, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিগণের সাথে গণসচেতনতামূলক ব্যাপক সমাবেশ, গণশপথ ও উঠোন বৈঠক করেন ইউএনও। পাশাপাশি গ্রাম পুলিশদের এব্যাপারে আরো সোচ্চার ও সক্রিয় করা হয়।

জনগণের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে তিনি উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এছাড়া আন্তরিকতার সাথে গণশুনানীর মাধ্যমে সুষ্ঠভাবে স্থানীয় মানুষের অভিযোগ নিষ্পত্তি করে থাকেন তিনি।

বর্তমানে মর্জিনা আক্তারের নেতৃত্বে এ উপজেলা সরকারের স্বল্প মুল্যে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচী, ভিজিএফ, ভিজিডি সহ অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচী সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি গৌরীপুরে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে দায়িত্বশীল হিসেবে কর্তব্য পালন করায় সকলের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছেন।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার বলেন জাতীয় সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহামেদ স্যারের আন্তরিকতা, সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনায় গৌরীপুর উপজেলায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে।

এক্ষেত্রে স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধাগণ, জনপ্রতিনিধি, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিববৃন্দ, শিক্ষক সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রশাসনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। এজন্য আমি সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

এদিকে জনশ্রুতি ওঠেছে অজ্ঞাত কারণে অত্যন্ত পরিশ্রমী ইউএনও মর্জিনা আক্তারকে অন্যত্র বদলী করা হচ্ছে। এই খবরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বীরমুক্তিযোদ্ধা সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাঝে বর্তমানে ক্ষোভ বিরাজ করছে। গৌরীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুর রহিম ও ডেপুটি কমান্ডার নাজিম উদ্দিন এ উপজেলার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার স্বার্থে ইউএনও মর্জিনা আক্তারকে বহাল রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোরালো দাবী করেন।

%d bloggers like this: