loading...

গোবিন্দগঞ্জে বন্যার্ত এলাকায় কিস্তি আদায়ে থেমে নেই এনজিওরা

0

ছাদেকুল ইসলাম রুবেল, গাইবান্ধা প্রতিনিধি:

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সরকারী নির্দেশ অমান্য করে বন্যার্ত এলাকায় কিস্তি আদায় করার অভিযোগ করছে বিভিন্ন এনজিওর ঋণ গ্রহিতারা।

বন্যা এলাকার মানুষ যখন বন্যার পানিতে ভাসছে, অসহায় এসব মানুষের পাশে সরকার বন্যার্ত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি সরকার ঘোষনা দিয়েছেন বন্যার্ত এলাকার মানুষ স্বাভাবিক কাজকর্মে না ফেরা পর্যন্ত কোন এনজিও তাদের কাছ থেকে ক্ষুদ্র ঋণের টাকার কিস্তি আদায় করতে পারবে না।

তবে সরকারের নির্দেশ অমান্য করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকায় কিস্তি আদায়ে থেমে নেই এনজিওর মাঠ কর্মিরা। তারা ঋণ গ্রহিতার বাড়ী বাড়ী যেয়ে ঋণের টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। ঋণ গ্রহিতার কাছে টাকা না থাকলে তাদের সঞ্চয়কৃত টাকা থেকে কিস্তির টাকা কেটে নিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলছেন বন্যায় আশ্রয় নেয়া মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের আশা এনজিওর ঋণ গ্রহিতারা।

আশা, বুরো বাংলাদেশ মহিমাগঞ্জ শাখা থেকে প্রতিদিন তাদের কেন্দ্রে যাচ্ছেন মাঠ কর্মিরা। বন্যায় অসহায় এসব মানুষের পাশে এনজিওরা সাহার্যের হাত না বাড়িয়ে বরং তাদের চুলায় যখন আগুন জ্বলছে না, তখন তারা চাপ দিচ্ছে তাদের ঋণের টাকার কিস্তির জন্য।

মহিমাগঞ্জ ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামটি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। এই গ্রামে মঙ্গলবার সকাল ৮ টার দিকে মহিমাগঞ্জ আশা এনজিওর মাঠকর্মি আশে ঋণের টাকার কিস্তি আদায় করতে। কিস্তির টাকা না থাকায় আশা এনজিওর কোকিল দলের সদস্য মোছা: মল্লিকা বেগম ও মেরিনা বেগমের সাথে কথারকাটাকাটি হয়।

আশা এনজিওর ওই দলের সদস্য মল্লিকা ও মেরিনা জানান, বন্যায় তাদের বাড়ীঘরে পানি উঠেছে। তারা রাস্তার ধারে পরিবার পরিজন নিয়ে অমানবিক জীবনযাপন করছে। দু’বেলার কাছে এক বেলাও খাদ্য জুটছে না তাদের। এরি মধ্যে কিস্তির টাকার জন্য এনজিওদের চাপ। বন্যার কারণে এলাকায় কোন কাজ না থাকায় ছেলেমেয়ে নিয়ে অনাহারে থেকেও কিস্তি দিতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে আশা এনজিওর মহিমাগঞ্জ শাখার ম্যানেজার রেজাউল করিম বলেন, আমরা বন্যাদুর্গত এলাকার কোনো সদস্য’র কাছে ঋণের টাকার জন্য চাপ দেয়া হয়নি, কেউ যদি স্ব-ইচ্ছায় কিস্তি দেয় সে বিষয় আলাদা। তবে আমাদের মাঠ কর্মিরা সবসময় বন্যাদুর্গত এলাকার ঋণ গ্রহিতাদের খোঁজখবর রাখছে। একই কথা বলেন, বুরো বাংলাদেশ মহিমাগঞ্জ শাখার ম্যানেজার আবুল হাসান।

আশা এনজিওর গাইবান্ধা জেলা ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম জানান, বন্যাদুর্গত এলাকায় ঋণের টাকার কিস্তি আদায়ের বিষয়টি সঠিক নয়। আশা গাইবান্ধা জেলার বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়িয়েছে। যা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, অনেক এনজিও বন্যাদুর্গত এলাকায় যাচ্ছে, ঋণের টাকার কিস্তি নেয়ার জন্য।

এ ধরণের সংবাদ আমার কাছে আছে। সব এনজিওকে ডেকে এর কারণ জানতে চাওয়া হবে, তার পরেও যদি কোন এনজিও ওইসব এলাকায় যায় কিস্তি আদায়ে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

loading...
%d bloggers like this: