ঢাকা ২৯.৯৯°সে ১৩ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াকে হটিয়ে শীর্ষে টাইগাররা

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এর আগে কখনোই ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি টাইগাররা। দীর্ঘদিনের সেই আক্ষেপ অবশেষে ঘুচে গেল। লঙ্কানদের বিপক্ষে নতুন ইতিহাস গড়লেন তামিম-মুশফিকরা। সেই সঙ্গে আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসে টাইগাররা গড়ল এক নতুন ইতিহাস।

আজকের এই জয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডকে টপকে শীর্ষে উঠে গেছে বাংলাদেশ। আট ম্যাচে খেলে ৫০ পয়েন্ট পয়েন্ট ঝুলিতে পুরেছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়া ৪০ পয়েন্ট করে নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে।
নিউজিল্যান্ড, আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৩০ করে পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম স্থানে রয়েছে। ভারত ২৯ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে অষ্টম স্থানে। জিম্বাবুয়ে নবম এবং আয়ারল্যান্ড দশম স্থানে রয়েছে। ৯ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা আছে ১১তম স্থানে। এই সুপার লিগ ভালো করা দলগুলো ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলবে। আয়োজক দেশ হওয়ায় ভারত সরাসরি খেলবে।

মিরপুর শেরে বাংলায় রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। দলীয় ২৪ রানে অভিষিক্ত শরীফুলের বলে তামিম ইকবালের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন অধিনায়ক কুশল পেরেরা (১১)। এদিকে ব্যাটিং করার সময় মাথায় চোট পেয়ে এই ম্যাচে আর খেলা হচ্ছে না সাইফউদ্দিনের। তার ‘কনকাশন সাব’ হিসেবে বল করছেন তাসকিন। দলীয় ৫৩ রানে অপর ওপেনার দানুশকা গুনাথিলকাকে (২৪) সাকিব আল হাসানের তালুবন্দি করেন মুস্তাফিজুর রহমান। স্কোরবোর্ডে ১৮ রান যোগ হতেই মঞ্চে আসেন সাকিব। তুলে নেন পাথুম নিশাঙ্কাকে (২০)। মিড উইকেটে ক্যাচ নেন তামিম ইকবাল।
সবাই যখন উইকেট নিচ্ছেন, তখন মেহেদি মিরাজ বসে থাকবেন কেন? গত ম্যাচে চার উইকেট নেওয়া এই অল-রাউন্ডার আজ কুশল মেন্ডিসকে (৪) ফিরিয়ে প্রথম শিকার ধরেন। কুশলকে লেগ বিফোর উইকেট ঘোষণা করেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি কুশল। এরপর আবার সাকিব। তার বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে যান ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা (১০)। এরই সঙ্গে ৮৯ রানে লঙ্কান ইনিংসের অর্ধেক শেষ হয়। মিরাজের দ্বিতীয় শিকার দাসুন শানাকা (১১)। মিডউইকেটে তার ক্যাচ নেন মাহমুদউল্লাহ। ৬ষ্ঠ উইকেট পতনে লঙ্কানদের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

সময়ের সঙ্গে বল হাতে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন মিরাজ। তার তৃতীয় শিকারে পরিণত হন প্রথম ওয়ানডেতে অসাধারণ লড়াই করা হাসরাঙ্গা ডি সিলভা (৬)। এই অল-রাউন্ডারকে তিনি বোল্ড করে দেন। এরপর মঞ্চে আবার দ্য ফিজ। তার বলে মাহমুদউল্লাহর তালুবন্দি হন বান্দারা (১৫)। মুস্তাফিজের তৃতীয় শিকার লক্ষণ সান্দাকান (৪)। ৯ উইকেট পতনের পর লঙ্কানদের দলীয় ১২৬ রানে বৃষ্টিতে ফের বন্ধ হয় খেলা। এতে আরও কপাল পোড়ে লঙ্কানদের। ১০ ওভার কর্তন করা হয়। বাকি ১১৯ রান করার জন্য লঙ্কানদের হাতে ছিল মাত্র ২ ওভার আর ১ উইকেট! ৩৯তম ওভারের পঞ্চম বলেই ম্যাচ শেষ হতে পারত। যদি মোসাদ্দেকের বলে শর্ট মিডউইকেটে তামিম ইকবাল চামিরার কঠিন ক্যাচটা নিতে পারতেন। শরীফুলের করা শেষ ওভারে (৪০তম) ৯ উইকেটে ১৪১ রানে প্যাকেট হয় লঙ্কানরা। ৩টি করে উইকেট নেন মিরাজ-মুস্তাফিজ। সাকিব নেন ২টি। আর শরিফুল ১টি। বাংলাদেশ জয় পায় ১০৩ রানের বড় ব্যবধানে।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর