ঢাকা ৩১°সে ১৮ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে বেনাপোল থেকে ২৬১ কোটি টাকার রাজস্ব আয়

বেনাপোল প্রতিনিধি: বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে রেলপথে চলতি অর্থবছরের ছয় মাসে ২৬১ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ রেল কর্তৃপক্ষ ভাড়া বাবদ দুই কোটি ৮৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা আয় করেছে। এদিকে রেলপথে পণ্য আমদানি হয়েছে ৮২২ কোটি টাকার। যার পরিমাণ দুই লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৪ দশমিক ৩ টন। তবে চলতি অর্থবছরের শেষে এ পথে দ্বিগুণ পরিমাণ রাজস্ব ও ভাড়া আদায় হবে বলে জানান বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান।

সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা যায়, ভারতের বনগাঁ পৌরসভার অধীনে কালিতলা আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক দিনের পর দিন পার্কিং-এ রেখে একটি সিন্ডিকেট নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিল। ওই পার্কিং থেকে কন্ট্রাকের মাধ্যেমে ৩০/৪০ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া নিয়ে বেনাপোল বন্দরে ট্রাক পাঠাতো সিন্ডিকেটের সদস্যরা। যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে বাংলাদেশী আমদানিকারক ও ভারতের রপ্তানিকারকরা হিমসিম খাচ্ছিল। এর ফলে প্রতিটি পণ্য চালানে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় যার প্রভাব এসে পড়ছিল বাংলাদেশের বাজারে। তারপরও দুদিন পর পর নানা ধর্মঘটের কারণে অতিষ্ঠি হয়ে উঠে দুদেশের ব্যবসায়ীরা।

দুই দেশের কাস্টমস, রেল মন্ত্রণালয় ও সকারের উচ্চ পর্যায়ে নীতি নির্ধারকরা ২০২০ সালের ৪ জুন রেল পথে পণ্য আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর করোনার আগে বেনাপোল রেলপথে কেবল কার্গো রেলের মাধ্যমে ভারত থেকে সপ্তাহে একটি বা দুটি রেল আসতো। এখন প্রতিদিন কার্গোরেল, সাইডোর কার্গোরেল এবং প্যার্সেল ভ্যানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি হচ্ছে। এতে সরকারের যেমন রাজস্ব আয় হচ্ছে, তেমনি রেলেরও বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আদায় হচ্ছে।

বেনাপোল রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, বেনাপোল স্থলবন্দর রেলপথে চলতি ২০২০-২১ অর্থ বছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে দুই লাখ ৩৯ হাজার ৪৫৪ দশমিক ৩ টন। যা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ কোটি ৮৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এদিকে গত বছরের ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ পথে ভারত থেকে পণ্য আমদানি হয়েছে এক লাখ ৮৪ হাজার ৭৩ দশমিক ৯ টন। যা থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে ৮ কোটি ৮৮ লাখ ২৬ হাজার টাকা।

বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুজ্জামান জানান, বর্তমানে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে স্থলপথের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রেলপথে পণ্য আমদানি হচ্ছে। এতে বন্দরের রেল ইয়ার্ড না থাকায় পণ্য রাখতে কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে ইতোমধ্যে বন্দরে দুটি রেল ইয়ার্ড নির্মাণের ভিত্তি স্থাপনা করা হয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ সমস্যা সমাধান হবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভারতীয় ট্রাক পার্কিং সিন্ডিকেট জিম্মি করে রেখেছে। ভারতীয় হাই কমিশনারসহ বিভিন্ন মহলে আবেদন করার পরেও আমরা কোনো সমাধান পাচ্ছি না। বর্তমানে রেলপথে সব ধরনের পণ্য আমদানি সচল রয়েছে। এতে গত বছরের তুলনায় এ বছর রেল খাতে সরকারের দিগুণ রাজস্ব আদায় হবে বলে তিনি জানান।

বেনাপোল কাস্টম কমিশনার মোঃ আজিজুর রহমান জানান, কন্টেইনারের মাধ্যমে আমদানি বাণিজ্য শুরুতে আমাদের স্টক হোল্ডারসহ সকল ব্যবসায়ীর বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। এতে সময় খরচ যেমন বাঁচবে তেমনি যথেষ্ট নিরাপত্তাও রয়েছে। গত ছয় মাসে সরকার ২৬১ কোটি টাকার রাজস্ব আয় করেছে। তবে চলতি অর্থবছরে এটি বেড়ে দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন :