কোটের আদেশ অমান্য, তিনকোটি টাকার অবৈধ জমি পৌরসভার দখলে

0

স্টাফ রিপোর্টার:

হাই কোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টের রায় বর্তমানে এখনো বহাল রয়েছে | আছে সপ্রীম কোটের চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাও এর পরেও এক ব্যবসায়ীর তিনকোটি টাকার মুল্যের জমি ময়মনসিংহ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ অবৈধ ভাবে  দখল করে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দখল করেই থামেনি, সেখানে তৈরি করা হচ্ছে বানিজ্যিক দোকান কোঠা। খোজ নিয়ে জানা গেছে, মালিকানা নিয়ে নিম্ন এবং উচ্চ আদালতে রায় পাওয়া বাদীর প্রতিপক্ষ ছিল ময়মনসিংহের জেলা প্রসাশন (সরকার)।

দীর্ঘ ২০ বছর ধরে আইনী লড়াইয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ আদালতে কোন পক্ষই ছিলেন না । সম্প্রতি হঠাৎ করে ২মার্চ  ওই জমিতে বানিজ্যিক দোকান ঘর নির্মান শুরু করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এমন অভিযোগ করেছেন শহরের সি.কে.ঘোষ রোডের ব্যবসায়ী গোলাম আম্বিয়া। তিনি জানান, সর্বশেষ ২০১৬ সালে সরকারের আপীল খারিজ করে জমির মালিকের পক্ষে রায় দিয়েছেন প্রধান বিচার পতি এস কে সুরেন্দ সিনহার নেতৃত্তে চার বিচারপতির বেঞ্চ।

রায়ের আদেশ হল, The leave petition is out of time by 420 day’s but the explanation offered seeking condonation of delay is not  at all satisfactory. Accordingly the civil petition for leave to appeal is dismissed barred by limition.

কিন্তু প্রধান বিচার পতির আদেশ অমান্য করেই ময়মনসিংহ পৌর কর্তৃপক্ষ ভুমি দখল করে মার্কেট ও দোকান ঘর নির্মান করছেন। এ ছাড়া এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পৌরসভার মেয়র ইকরামুল হক টিটুর সাথে যোগাযোগ করতে তার অফিসে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মো খলিলুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টা শুনেছি খোজ খবর নিতে বলেছি। এদিকে গোলাম অভিযোগ করে বলেন, নিম্ন আদালতসহ হাই কোর্ট ও সুপ্রীম কোর্টে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন সরকার (জেলা প্রশাসক) পৌরসভা নয় । তাহলে হঠাৎ করে কিভাবে সেই জমির মালিকানা দাবী করে পৌরসভা। গোলাম আরো বলেন, শহরের সি কে ঘোষ রোডে প্রায় ২৩ শতাংশ (.২৩৮৫) ভুমি সিএস খতিয়ান নং- ১০৭২, দাগ নং- ১০৭৫) পৈত্রিক হেবামুলে সুত্রে তিনি মালিক।

তার (গোলাম) অগোচরে আরওআর জরিপ রেকর্ডের সময় ভুলে জমিটি জেলা প্রশাসকের(সরকার) ১ নং খাস খতিয়ানে অর্ন্তভুক্ত হয়। ঘটনা জানার পর ১৯৯৬ সালে ময়মনসিংহের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আরওআর রেকর্ড সংশোধনের জন্য তারিখ (২৭/১৯৯৬ অন্য প্রকার) একটি মামলা দায়ের করেন তিনি। তৎকালী জজ দ্বিপেন দেওয়ানের আদালতের (২৯ জুন/১৯৯৬)রায়েও হেরে যান সরকার।  এই রায়ের পর বাদী একই আদালতে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সহকারী কমিশনার (ভুমি) কে বিবাদী করে চিরস্থায়ি নিষেধাজ্ঞার একটি মামলা করেন ।

আদালতের বিচারক মইনুল হক এ আদেশ দেন, বিবাদীদের বিরুদ্ধে এক তরফা সুত্রে ডিক্রী হইল। বাদীর তফসিলের সম্পত্তির দখলে বিঘ্ন সৃস্টি করা, বা বাদীকে বেদখল করা হইতে বিরত থাকার জন্য  উপরোক্ত বিবাদীদের কে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার কন্যাকাল  আদেশ দেয়া হইল। তফসিলস্থ ভুমি কাহারো নিকট হস্তান্তর করা হই্তে বিরত থাকার জন্যও চিরস্থায়ি নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেয়া হইল । এরপর জেলা প্রশাসক ফের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপীল দায়ের করেন (আপীল নং (১৫৫/৯৬)। বিচারের জন্য মামলা বদলী করা হয় সাব জজ আদালতে। পরে ১৯৯৮ সালের ১ ডিসেম্বর মাসে আদালতের বিচারক মো আব্দুস সালাম রায় দেন বাদীর পক্ষে। দীর্ঘ ছয়  বছর পর জেলা প্রশাসক (সরকার) এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের একটি সিভিল রিভিশন (সিভিল রিভিশন নং- ৬৬৯/২০০৪, দায়ের করেন। অন্যদিকে আবার, মি: জাস্টিস এমডি মিফতা উদ্দিন চৌধুরী ২৯ জুলাই ২০০৮ সালে সিভিল রিভিশন মামলাটির রায় দেন বাদীর পক্ষেই, ফলে সরকার পক্ষ হেরে যান।

পরে ৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২ সালে হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন রুল (নম্বর 192(con)2012)  দায়ের করে সরকার পক্ষ।  ওই আদালতে মি জাস্টিস শেখ আব্দুল আউয়াল ৪৫৭২ দিন ডিলে’র (বিলম্ব) কারন দেখিয়ে একই বছর ৬ ফেব্রুয়ারী রুল ডিচার্জ করে রায় দেন।  এর আগে বাদী হাইহোর্ট ডিভিশনে মি জাস্টিজ নাঈমা হায়দার এবং মি জাস্টিজ ফরিদ আহামেদের দ্বৈত  বেঞ্চে জমা খারিজের জন্য একটি রীট পিটিশন (নম্বর- ১৪০১/২০১০) করেন । আদালত ২২ মে ২০১২ সালে বাদীর পক্ষে রায় দিয়ে আদেশ নামা রিসিভ করার দুই মাসের মধ্যে জমা খারিজ করে খাজনা নেওয়ার আদেশ দেন । তবে জেলা প্রশাসনের (সরকারের) অসহযোগীতার ফলে সরকার পক্ষের  সাথে দেন দরবার করে দীর্ঘ দিনেও জমা খারিজ করে খাজনা দিতে পারেন নি গোলাম আম্বিয়া। পরে সংক্ষুদ্ধ বাদী হাইকোর্ট ডিভীশনে জাস্টিস নাইমা হায়দার ও মি জাস্টিস জাফর আহমেদের দ্বৈত বেঞ্চে আদালত অবমাননার মামলা করেন।

তবে মামলাটি এখনো চলমান রয়েছে । এই মামলার পর ২০ নভেম্বর ২০১৩ সালে  জেলা তৎকালীন জেলা প্রশাসকসহ অন্য বিবাদীদের  শশ্বরীরে আদালতে হাজিরের আদেশ দেন। কিন্তু সরকার পক্ষ হাজির না হয়ে ৯ জুন ২০১৬ সালে সুপ্রীম কোর্টে “লীভ টু আপীল” (নম্বর- ১৬৯৭/২০১৩, তারিখ )। বিগত ৯ জুন ২০১৬ তারিখে আপীলের শুনানী অনুষ্ঠিত হয় প্রধান বিচারপতি এস কে সুরেন্দ সিনহা, জাস্টিস সৈয়দ মাহমুদ হুসাইন, জাস্টিস হাসান ফয়েজ
সিদ্দিকী, জাস্টিজ মীর্জা হুসাইন হায়দারের সুপ্রীপ কোর্ট ডিভিশনের আপীলেড ডিভিশন (আদালেত)।

আদেশ হয়, The leave petition is out of time by 420 day’s but the explanation offered seeking condonation of delay is not at all satisfactory. Accordingly the civil petition for leave to appeal is dismissed barred by limition.  জমির মালিক গোলাম আম্বিয়ার দাবি, অবিলম্বে তার জমি অবৈধ দখল মুক্ত করে মার্কেট নির্মান বন্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।

%d bloggers like this: