কৈশোর এবং যুব বান্ধব সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠিত

0

প্রদীপ বিশ্বাস ময়মনসিংহ :

কিশোর এবং যুব বান্ধব সেবা প্রদানকারীর প্রশিক্ষণের মূল্যায়ন প্রয়োজনে এবং বিভাগ ও জেলা স্তরে ডিজিএফপি, ডিজিএইচএস এবং এ সম্পর্কিত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে রাইট হিয়ার, রাইট নাউ (জঐজঘ) প্রকল্পের আওতায় আর এইচ স্টেপ (জঐঝঞঊচ) অদ্য ময়মনসিংহের আসপাডা ট্রেনিং সেন্টার এ, এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এই সভার লক্ষ্য কৈশোর এবং যুব বান্ধব সেবা প্রদানকারী ও সেবার মান উন্নত করা কিশোর এবং যুব বান্ধব সেবার সার্বিক স্পষ্ট তথ্য ও সচেতনতা নিশ্চিত করা এবং সেবা প্রদানকারীদের উচ্চমানের কৈশোর এবং যুব বান্ধব সেবা সরবরাহ নিশ্চিত করা। উক্ত সভার প্রধান অথিতি ছিলেন বিভাগীয় পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ময়মনসিংহ, মোঃ আব্দুল আউয়াল। উনি অনলাইনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভার শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান ও সভার উদ্বোধন ঘোষণা করেন , রিপ্রডাক্টিভ হেলথ সার্ভিসেস ট্রেনিং এন্ড এডুকেশন প্রোগ্রাম (জঐঝঞঊচ) এর ডেপুটি ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) ডক্টর এলবিনা মুশতারী, সভার উদ্দেশ্য “আর এইচ স্টেপ” এর দীর্ঘ পথ চলা এবং রাইট হিয়ার রাইট নাউ (জঐজঘ) প্রকল্পের কর্মপরিকল্পনা বর্ণনা করেন।

উক্ত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা ময়মনসিংহ, মোঃ মাজহারুল হক চৌধুরী, মূল্যবান বক্তব্য রাখেন রিজিওনাল কনসালটেন্ট, ময়মনসিংহ রিজিওন, ডা: মোঃ মাহবুবুর রহমান, উপস্থিত ছিলেন সহকারি পরিচালক, (সিসি) জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়, ময়মনসিংহ, ডা: মোঃ আব্দুর রউফ, উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ফ্যামিলি প্লানিং অফিসার, ময়মনসিংহ সদর উপজেলা, ডা: কাজী মজহারুল করিম। উক্ত সভায় ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকারা অংশগ্রহণ করেন এবং তারা তাদের কিশোর-কিশোরী বান্ধব পরিসেবা দিতে গিয়ে কি কি সমস্যার সস্মুখীন হন এবং কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন কল্পে তারা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। কিশোর-কিশোরীরা তাদের শারীরিক সমস্যা নিয়ে সবার সাথে কথা বলতে পারে না। তাই তাদের ভরসাস্থল হতে পারে কৈশোর বান্ধব কর্ণার। দক্ষতাবৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণের ফলে তাদের মধ্যে জীবনদক্ষতা বৃদ্ধি, নেতৃত্ব বিকাশ, মতপ্রকাশের ক্ষমতা ও পরমতসহিষ্ণুতা গড়ে উঠবে। কৈশোর বয়সের ছেলে-মেয়ে এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরও স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে সচেতনতার ঘাটতি থাকে। প্রজনন স্বাস্থ্য, পুষ্টি, মানসিক ও সামাজিক বিষয়ে কাউন্সেলিং ইত্যাদির মতো বিষয়ে তারা অবগত নন। এই অবস্থার কারণে বাংলাদেশে অনেক নবজাতকের মৃত্যু হয়। আবার সন্তানন প্রসবের পর মা ও শিশু রোগাক্রান্ত হন। তথ্য না জানার কারণে জীবনে প্রথমবার ঋতু¯্রাবের সময় অনেক কিশোরী ভয় পায়। ঋতু¯্রাবের সময় স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা না থাকায় নারী ও কিশোরী নানা সংক্রমণের শিকার হয়। সংক্রমণ দীর্ঘদিনের হলে প্রজনন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।এতে অনেকেই বন্ধ্যাত্বের শিকার হন। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণাগুলো সরাতেই এই প্রজন্মকে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য দিতে হবে। বাল্য বিয়ের উচ্চ হারের কারণে বয়ঃসন্ধিকালেই অনেক মেয়ে গর্ভধারণ, সহিংসতা ও অপুষ্টির ঝুঁকিতে থাকে। এসময় তিনি প্রসবকালীন নানা জটিলতা এড়াতে এবং কিশোরীদের প্রসূতিমৃত্যু হ্রাসে বাল্যবিবাহ বন্ধে সবাইকে এগিয়ে আসতে আহবান জানান। দিনব্যাপি প্রশিক্ষণে কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক, মানসিক, আচরণগত পরিবর্তন, কৈশোরকালীন পুষ্টি, রক্তস্বল্পতা, অপুষ্টি প্রতিরোধ ও প্রতিকার, কৈশোর বয়সে বিয়ে ও গর্ভধারণের কুফল নিরসনের উপায় এবং আর এইচ স্টেপ ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৈশোর-বান্ধব স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়।

%d bloggers like this: