loading...

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে নতুন বছরের শুরুতেই বিদেশী পর্যটকদের আগমন

0

পারভেজ কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ঃ সূর্যোদয় সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগর কন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে নতুন বছরের শুরুতেই বিদেশী পর্যটকদের আগমনে সৈকত মুখরিত। ইংরেজি নববর্ষ উৎযাপণ করতে রাশিয়া,নাইজেরিয়া,সুদান সহ কয়েকটি দেশ থেকে শতাধিক পর্যটক ছুটে এসেছেন কুয়াকাটা সৈকতে।থার্টি ফাষ্ট নাইট উৎযাপন ও বছরেরর শেষ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত উপভোগ করতেই তাদের কুয়াকাটা ভ্রমণ। বছরের শুরুতেই রেকর্ড সংখ্যক বিদেশী পর্যটকদের আগমনে খুশি পর্যটনমুখী ব্যবসায়ীরা। ট্যুরিষ্ট পুলিশ এবং আবাসিক হোটেল মালিকরা জানান, এর আগে একত্রে এতো বিদেশী পর্যটকের আগমন ঘটেনি। থার্টি ফাষ্ট নাইট হইতে তিন জানুয়ারী পর্যন্ত প্রতিদিনই বিদেশী পর্যটকরা আসছে সৈকতে। শুধু বিদেশী পর্যটকই নয় দেশী পর্যটকদের ভীড় দেখা গেছে লক্ষনীয়। এসব বিদেশী পর্যটকরা দল বেঁধে কুয়াকাটা আসলেও প্রথম শ্রেনীর আবাসিক হোটেল সহ বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে এরা ভাগ ভাগ হয়ে রুম নিয়েছে। কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশ জোন এর সহকারী সিনিয়র পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম জানান, ৬১জন রাশিয়ান পর্যটক একত্রে কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসে। এছাড়া নাইজেরিয়ান সহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকদের দেখা গেছে। এসব বিদেশী পর্যটকদের নিরাপত্তা দিতে ট্যুরিষ্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশও সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন। বছরের শুরু থেকে দেশী বিদেশী পর্যটকদের আগমনে কুয়াকাটা সৈকতে উৎসবের আমেজ বয়ে যাচ্ছে।সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে তাল মিলিয়ে নেচে গেয়ে সমুদ্রে গোসল,হৈ হুল্লোড় আর সৈকতে খেলাধুলা আনন্দের সীমা নেই পর্যটকদের মাঝে। সূর্যোদয় সূর্যাস্তের মনোলোভা দৃশ্য অবলোকন সহ সৈকতে বাইক নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর উম্মাদনা এযেন ভ্রমনের নতুন এক অনুভূতি জোগায়। কুয়াকাটার লেম্বুর চর, ঝাউবন, গঙ্গামতির লেক, কাউয়ার চর, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির, কুয়াকাটার কুয়া, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, রাখাইনদের তাতঁ পল্লী, আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরসহ দর্শনীয় স্পট গুলোতে যেন তীল ধারনের ঠাঁই ছিলনা। অন্যদিকে সমুদ্রের মাঝে জেগে ওঠা চর বিজয়,সুন্দরবনের পুবাংশ ফাতরার বন,সহ আকর্ষনীয় সব পয়েন্টই ঘুরে দেখছেন পর্যটকরা। রাতে সৈকতে জোসনার আলোয় সমুদ্রের ঢেউ আর ঢেউয়ের গর্জন আর এক অন্যরকম অনুভূতি মন ছুয়ে যায়।এছাড়া শীতের এই রাতে সৈকতের কোলঘেষে অবস্থিত মুখরোচক খাবার কাকড়া সহ বিভিন্ন প্রকার সমুদ্রের মাছ ফ্রাই খাওয়ার স্বাদই আলাদা।এমন মুখরোচক স্বাদ পর্যটকদের বার বার কুয়াকাটার কথা স্বরণ করিয়ে দেবে বলে মনে করেন ভ্রমণ বিলাসীরা।বেশিরভাগ পর্যটকরাই কুয়াকাটার সৌন্দর্যমন্ডিত এই স্মৃতিকে ধরে রাখতে সৈকতে থাকা ফটোগ্রাফারদের ফ্রেমে নিজেদের বন্দি করে রাখছেন। যাতে এই স্মৃতি মুছে না যায়।যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, হোটেল-মোটেলের সুবিধা ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় কুয়াকাটায় হাজার হাজার পর্যটক ও দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে।কুয়াকাটা সৈকত ছাড়াও কুয়াকাটা গামী আন্ধারমানিক নদীর উপর নিমর্মিত শেখ কামাল সেতু, টিয়াখালী নদীর উপর নির্মিত শেখ জামাল সেতু ও শিববাড়িয়া নদীর উপর নির্মিত শেখ রাসেল সেতুর উপরও ছিল বছরের শেষ সূর্যাস্ত দেখতে মানুষের ভীড়। এছাড়া পায়রা সমুদ্র বন্দর , গঙ্গামতি সৈকত ও কাউয়ার চরে পিকনিক পার্টির কয়েক হাজার পর্যটক নতুন বছরকে স্বাগত এবং পুরাতন বছরকে বিদায় জানাতে সমাগম হয়েছিল। থার্টি ফাস্ট নাইট উদযাপনকে ঘিরে মঙ্গলবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করে। এধারা এখনও বয়ে চলছে।কুয়াকাটা ইলিশ পার্ক এন্ড রিসোর্ট এর স্বত্বাধিকারী রুমান ইমতিয়াজ তুষার জানান, তার রিসোর্টে বিদেশী পর্যটকরা ওঠেছে। বিদেশী পর্যটকরা নিজেদের মত বর্ষবরণ উৎসব পালন করেছেন। থার্টি ফাষ্ট কুয়াকাটায় বড় কোন অনুষ্ঠান হয়নি। তবে ইনডোরে পর্যটকরা আতশবাজি সহ নানা অনুষ্ঠানের মাঝে মেতে ছিল পর্যটকরা।মেহেরপুর সদর উপজেলা থেকে সাংবাদিক এম সোহেল রানা জানান তারা মেহেরপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কালাচাঁদপুর থেকে ৪৪ জন কুয়াকাটা ভ্রমনে এসেছেন। এখানকার দর্শনীয় স্পট ও রাখাইন পল্লী ঘুরে দেখেছেন। তাদের কাছে খুব ভালো লেগেছে।তবে আবহাওয়া ভালো না থাকায় অনেক জায়গা গুরে দেকতে পারি নি। আগত বিপুলসংখ্যক পর্যটকদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত ফোর্স নিয়োগ করা হয়েছে। বিভিন্ন দর্শনীয় স্পটে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। এছাড়া বিশেষ হেল্পডেক্স খোলা হয়েছে।

loading...
%d bloggers like this: