কুষ্টিয়ায় ভাস্কর্য ভাঙচুরে ‘জড়িত’ চারজনের নাম জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত চারজনের নামও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। রবিবার সচিবালয়ের নিজ দপ্তরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এ নাম জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় ইবনে মাসউদ নামের একটি মাদ্রাসা থেকে দুই ছাত্র রাতে বেরিয়ে এসে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙেছে। তাদের একজনের নাম আবু বকর, অন্যজন নাহিদ। এছাড়া আলামিন ও ইউসুফ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ভাস্কর্য ইস্যুকে কেন্দ্র করে কোনো রকম অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেয়া হবে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমাদের দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। আমি ও আমরা যারা শান্তি রক্ষায় নিয়োজিত আছি, আমরা এইটুকু বলতে পারি, কোনো ধরনের অরাজকতা বাংলাদেশে করতে দেয়া হবে না।

ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করা হেফাজতে ইসলামের নেতাদের নাম উল্লেখ না করে মন্ত্রী বলেন, কোনো রকম অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেব না।

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করতে দেয়া হবে না বলে হেফাজতের নেতারা হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। বিষয়টি আপনারা কীভাবে দেখছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের দল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন। আমি ও আমরা যারা শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত আছি, আমরা এটুকু বলতে পারি- কোনো ধরনের অরাজকতা বাংলাদেশে করতে দেব না। অরাজকতা বলেন, ভাঙচুর বলেন, কোনো রকম অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেব না।

তিনি বলেন, যদি কেউ মনে করেন, তারাই অনেক শক্তিশালী হয়ে গেছেন, এটা তাদের ধারণার ভুল। তারা মিথ্যা ও বিভ্রান্তি করার জন্য…আমি গতকাল ফেসবুকে দেখেছি একটা ছোট ছেলে বলছে যে, মুক্তিযুদ্ধে কত শহীদ হয়েছে, তার চেয়ে বেশি রক্ত হেফাজতের তারা দিয়েছে। এই যে মিথ্যাচার, এই যে বিভ্রান্তি অল্প বয়সের ছেলের মাথার মধ্যে দিচ্ছে এটা তারা জেনেশুনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দিচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, হেফাজতের ওই ঘটনার (লংমার্চ করে ঢাকা অবরোধ) পর আমরা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছিলাম, কয়জন শহীদ হয়েছেন, কোন মাদরাসার, কোন বাড়ির তা যেন আমাদের এসে জানায়, আমরা কিন্তু সেই লিস্ট এখনও পাইনি। এটাই হলো বাস্তবতা।

হেফাজতের কিছু নেতার উসকানিমূলক বক্তব্য এই প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। হেফাজতের শীর্ষ নেতারা হুকুমের আসামি হবেন কি না- একজন সাংবাদিক জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, হেফাজতের নেতা হবেন কি না, কে হবেন সেটা তদন্তের ব্যাপার, তদন্তে যার নাম বেরিয়ে আসবে তার নামেই মামলা হবে, এটা স্পষ্ট।

উসকানিদাতা হিসেবে একজনের নাম আসছে বলেছেন, তিনি কে- এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, আমি তো বলেছি তদন্তের পর আপনাদের বিস্তারিত জানাব।

সরকার এখন ধোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিষয়টি রিভিউ করবে কি না- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার রিভিউ করবে কি না এটা সরকারের বিষয়। আমাদের বিষয় হলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য যথাযোগ্য ব্যবস্থা নেব।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হলেন জাতির পিতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। তার স্মৃতি ধরে রাখা হবে না, এটা তো বাংলাদেশের কোনো মানুষই মেনে নিতে পারবে না। আপনি যদি ফিরে তাকান মুসলিম সভ্যতার যুগে- আলবেরুনি বলেন, ইবনে বতুতা বলেন, তাদের ভাস্কর্য তো বিভিন্ন জায়গায় শোভা পাচ্ছে।

সেগুলো তো কেউ ভাঙছে না। আমরা সেখানে কথা বলছি। ভাস্কর্য মানে পূজা নয়। তাকে ধরে রাখা, তার যে অবদান দেশের প্রতি জাতির প্রতি, সেটাকে হৃদয়ে গেঁথে রাখা। আমরা তো অনেক ইসলামিক দেশে ভাস্কর্য দেখেছি। মুদ্রার মধ্যে সৌদির বাদশাহের ছবি রয়েছে, কায়েদে আজমের ছবি রয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি রয়েছে। ওটা আমরা পকেটে নিয়ে ঘুরছি।

দেশে আরও বিভিন্ন স্থানে ভাস্কর্য রয়েছে, সেগুলোর নিরাপত্তায় কী ব্যবস্থা নেয়া হবে- এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এগুলো যারা ভাঙবে তারা তো নিশ্চয়ই না জেনে মূর্খতার পরিচয় দেবে। নিরাপত্তা আমরা অবশ্যই দেখব।

%d bloggers like this: