loading...

কলাপাড়ায় লালুয়া ইউনিয়নের বানাতি পাড়া খালের আয়রণ সেতুটি এখন মরন ফাঁদ,জনদূর্ভোগ চরমে

0

পারভেজ,কলাপাড়া(পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ঃ পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুয়া ইউনিয়নের বানাতি পাড়া খালের উপর নির্মিত আয়রণ সেতু এখন মরন ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ১০ টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষসহ ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী বানাতি বাজারের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম আয়রন ব্রিজটি।আয়রন ব্রীজ এখন মৃত্যুকূপে পরিনত হয়েছে। ছোট-বড় যেকোনো গাড়ি উঠলেই কেঁপে উঠছে ব্রিজটি । প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। আর যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।ব্রিজটির লোহার অনেক পিলারই ড্যামেজ হয়ে ভেঙ্গে গেছে। স্থানীয়রা ব্রিজের নিচে বাঁশ বেধে পিলার সোজা করে জোড়া দিয়েছেন। উপড়ের অনেক লোহার এঙ্গেল মরিচা পড়ে বাকা হয়ে গেছে। ব্রিজের কংক্রিটের স্লিপার গুলো আলাদা ভাগ হয়ে গেছে। অনেক স্লিপার ভেঙে নিচে পড়ে গেছে। লোহার পাত গুলো নিচের দিকে ঝুঁকে বাকা হয়ে ভেঙে যাচ্ছে। সকল এ্যাঙ্গেল জীর্ন দশায় পরিনত হয়েছে।স্থানীয়দের ধারনা, প্রায় পঁচিশ বছর আগে বানাতি পাড়া খালের উপর এ ব্রিজটি নির্মান করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। তবে সঠিক কবে এ ব্রিজটি নির্মান হয়েছে সেটা বলতে পারছেনা কেউ। নির্মানের পড়ে এ ব্রিজটি সংস্কার কিংবা পুন নির্মানে উদ্যোগ নেয়নি কেউ।সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বানাতীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, নয়াপাড়া দাখিল মাদ্রাসা ও জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই ব্রিজ পাড় হয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করেন। এছাড়া লালুয়া ইউনিয়নের মহল্লাপাড়া, নয়াপাড়া, দশকানী,ছোনখোলা, মাঝের হাওলা, গোলবুনিয়া, চিংগুড়িয়া, পশরবুনিয়া ও চড়পাড়া গ্রামের মানুষের সড়ক পথে উপজেলা সদরসহ বানাতী বাজার হাটখোলায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ ব্রিজটি। দীর্ঘ দিনে মেরামত কিংবা পুননির্মান না করায় ব্রিজটি ভগ্ন দশায় পরিনত হয়েছে। যে কোন সময় ভেঙে পরতে পারে ব্রিজটি।কিন্তু বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই ঝুঁকিপূর্ন ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুকি নিয়ে এ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীরা সহ সাধারন মানুষ।আর এতে প্রায়শই ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এছাড়া এ ব্রিজ দিয়ে একমাত্র মটোরসাইকেল ছাড়া চলতে পারেনা কোন যানবাহন।অসুস্থ ও গর্ববতী মায়েদের নিয়ে কষ্টের কোনো শেষ থাকেনা। অনেক সময় মুুমূর্ষু রোগী হাসপাতালে নেয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।তাই অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী মায়েদের উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসতে হয় ট্রলার কিংবা নৌকায় করে। ফলে ব্রিজ নিয়ে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ।ছোনখোলা গ্রামের বাসিন্দা রফিক মিয়া জানান, যেকোন সময় ব্রিজটি ভেঙে যেতে পারে। অথচ এটি নির্মানে কেউ উদ্যোগ নিচ্ছেনা। জনতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, ব্রিজ পার হয়ে স্কুলে আসার সময় অনেক ভয় হয়।এছাড়া অনেক সময় অসাবধানতা বসত হাত থেকে কলম কিংবা বই খাতা ব্রিজের নিচে পানিতে পড়ে যায়।লালুয়া ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বলেন, এ ব্যাপারে ব্রিজ নির্মানের লক্ষে উপজেলা পরিষদে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আমার নিজ অর্থায়নে ব্রিজে সামান্য মেরামত করা হয়েছে। তবে নির্মানের আগ পর্যন্ত এ ব্রিজ দিয়ে শুধু মানুষ ছাড়া কোন যানবাহন চলতে পারবেনা।

loading...
%d bloggers like this: