করোনার নমুনা সংগ্রহকারীদের মাঝে ময়মনসিংহ পুলিশের উদ্যোগে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ

0

প্রদীপ বিশ্বাস,ময়মনসিংহ:

বিশ্বব্যাপী করোনার মহামারিকালে সাহকিতার সাথে কঠিন ও গুরু দায়িত্ব পালনকারীদের অন্যতম (স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী) করোনার নমুনা সংগ্রহকারী। ময়মনসিংহে এই সাহসিযোদ্ধাদের মাঝে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ১৮ জুন, বৃহস্প্রতিবার দুপুরে বিভাগীয় নগরীর ১নং পুলিশ ফাঁড়ির সামনে ফাঁড়ির টিএসআই ফারুক হোসেন ৫৮জন করোনার নমুনা সংগ্রহকারীদের মাঝে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন। সুরক্ষা সামগ্রীর মাঝে পিপিই, হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক, সেনিটাইজার ও ফলমূল রয়েছে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০, সদর উপজেলার ৮জনসহ জেলার সকল উপজেলা হাসপাতালের অধীন করোনার এই মহাদুর্যোগকালীন সময়ে ৫৮ নমুনা সংগ্রহকারীযোদ্ধা ঝুকি নিয়ে সাহসিকতার সাথে শহর থেকে গ্রাম, গ্রাম থেকে পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে করোনা ভাইরাসের নমুনা সংগ্রহ করে আসছে। স্বাস্থ্য সুরায় অপ্রতুল সুরক্ষা সামগ্রী নিয়ে প্রথমধাপের এই সাহসি যোদ্ধারা নিজেদের পরিবারের কথা না ভেবে নানা চড়াই উৎড়াই পেড়িয়ে মহা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অনেকেেত্র নমুনা সংগ্রহকারীরা গ্রামাঞ্চলের মানুষদের কাছে নাযেহাল হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এর পরও নুমনা সংগ্রহকারীরা থেমে নেই। এক পাড়া থেকে আরেক পাড়া যেখানেই খবর পান, সেখান থেকেই নমুনা সংগ্রহ করে করোনা চিহিৃত করতে মেঘ, বৃষ্টি, ঝড়, বাদল, রোদ উপো করে মাঠে ময়দানে কাজ করছেন।

করোনা সনাক্তের প্রথমধাপের যোদ্ধা নমুনা সংগ্রহকারীদের মনোবল বৃদ্ধি, আরো অধিক পরিমাণে সুরক্ষা প্রদানে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ এগিয়ে আসে। পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান তার অধস্তনদের মাধ্যমে এ সকল নমুনা সংগ্রহকারীদের তালিকা তৈরী ও তাদের সুরক্ষা সামগ্রী প্রদানের উদ্যোগ নেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে জেলায় ৫৮ (স্বাস্থ্য সহকারী) করোনার নমুনা সংগ্রহকারীদের তালিকা তৈরী করেন। পরে তাদের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী পিপিই, হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক, সেনিটাইজার ও ঝুড়ি ভড়া ফলমূল প্রদান করা হয়।

করোনার মহামারিতে কর্মহীন ও বেকার হয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষ । শুরুতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাঠ, শিল্প প্রতিষ্ঠান, যানবাহনসহ সকল কিছু বন্ধ থাকায় কর্মহীন বেকারের সংখ্যা বেড়ে যায়। সরকারি বেসরকারি সহযোগীতার পাশাপাাশি ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান সমাজের নিম্নবিত্ত, শ্রমজীবি কর্মহীন, বেকার হয়ে পড়া, বস্তিবাসী, অসহায়, অস্বচ্ছল, কর্মহীন, শ্রমিক, বেদে পরিবার, নাপিত, নৌকা মাঝি, এতিমখানার এতিম, পঙ্গু, স্বামীহারা, হিজরাদের ঘরে ঘরে খাদ্য সহায়তা পৌছে দিয়ে মানবিক পুলিশ সুপার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন। এই সময়ে প্রায় ৭ হাজার মানুষের ঘরে খাদ্য সামগ্রী, ঈদ সামগ্রী তুলে দেয় জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের বৈশাখী, ঈদের কেনাকাটা থেকে সাশ্রয় করে অসহায়দের খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। পুলিশ সুপারের পক্ষে ডিবির ওসি শাহ কামাল নির্দেশ পেয়ে তাৎনিক অসহায়দের ঘরে খাবার পৌছে দিয়ে আসছে।

ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ আরো বলেন, করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণের প্রথমসারির যোদ্ধা নমুনা সংগ্রহকারী। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত না হলে এবং নমুনা সংগ্রহ করতে তারা নিজেরাই আক্রান্ত হলে করোনা পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়বে। তাই নমুনা সংগ্রহকারীদের স্বাস্থ্য সুরায় জেলা পুলিশ এই উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি আরো বলেন, শুধু করোনাকালীন সময়ে নয়, পুলিশ সব সময় চাহিদা মাফিক সকল ধরণের সহায়তা করে আসছে। এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।ময়মনসিংহ পুলিশের এই উদ্যোগে জেলায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে পুলিশ।

%d bloggers like this: