এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শনাক্তের নির্দেশ মন্ত্রণালয়ের

0

স্টাফ রিপোর্টার:

করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং রফতানিকারকদের শনাক্তের নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

আর প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিতরণ করতে বলা হয়। বিশেষ করে ব্যাংকগুলোর শাখা প্রত্যন্ত অঞ্চলেও রয়েছে। সেসব শাখার মাধ্যমে প্রকৃত প্রাপ্য কৃষক ও এসএমই উদ্যোক্তাদের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।বৃহস্পতিবার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই নির্দেশ দেয়া হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোকে।

ওই বৈঠকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণ করতে গিয়ে নতুন করে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ও ঋণখেলাপির সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা করেছে ব্যাংকাররা।

পাশাপাশি কোভিট-১৯ এর প্রভাবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরেছে সেখানে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। প্যাকেজ বাস্তবায়নের কর্মকৌশল ও বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্যাংকগুলোকে কিছু দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রণোদনা প্যাকেজ সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন হয় সেটি মনিটরিং করা হবে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সেটি করবে।

প্রসঙ্গত করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা দিয়েছেন।

সেটি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জুমের মাধ্যমে ভার্চুয়াল এ বৈঠক করা হয়। নিজ নিজ ব্যাংকে বসে এ বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন চেয়ারম্যান ও এমডিরা।বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ সঠিকভাবে এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এই ঋণ বিতরণে অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

তবে কিভাবে কত সুন্দরভাবে এই ঋণ প্রকৃত প্রাপ্যদের কাছে পৌঁছানো যায় সে বিষয়ে কৌশল বের করতে বলা হয়। বিশেষ করে প্যাকেজের মধ্যে কৃষকদের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়ার বিষয় আছে।

সেটি নিশ্চিত করতে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক এবং বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, অতীতে ব্যাংক ঋণ নিয়ে অনেক জালিয়াতি হয়েছে। ভুয়া শিল্প প্রতিষ্ঠান, ভুয়া জামানত দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। এমন ঘটনার নজির ব্যাংকিং খাতে কম নয়। এই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘিরে এ ধরনের কোনো ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য সার্বিক প্যাকেজ বাস্তবায়ন কার্যক্রম মনিটরিং করবে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক যাবে ব্যাংকগুলো নির্বাচন করে সেক্ষেত্রে জোর দেয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, এক লাখ কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন নিয়ে কয়েকটি নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এসব নির্দেশনা নিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। বৈঠকে সেটি নিরসন করা হয়।

সূত্র জানায়, আরও সর্বকালের বড় প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের অনভিজ্ঞতা থেকে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কা অর্থ মন্ত্রণালয়ের। এজন্য বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকসহ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে প্রতিবন্ধকতা ও নিরসনের বিষয়ে মত চাওয়া হয়েছে।

এদিকে বৈঠকে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, এই প্যাকেজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রথম আশঙ্কা হচ্ছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। কারণ অনেকে ঋণ নিয়ে ফেরত না দিতে পারে।

এমন আশঙ্কার পর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, এটি যৌথভাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংক মনিটরিং করবে। যাতে সঠিক গ্রহীতারা এই ঋণ প্রাপ্য হয়।

কোনো ধরনের ঋণে অপব্যবহার না হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে প্যাকেজের ৭৩ হাজার কোটি টাকা ছাড় করা হবে।

এজন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি করোনার কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সেটিও নিরূপণ করা হয়েছে। বৈঠকে ব্যাংকগুলো নিজ নিজ ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরেন।

জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো নিজস্ব তহবিল থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা প্যাকেজের আওতায় ছাড় করবে। ফলে যেসব প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত হবে তা নিরসনের জন্য সুপারিশ করবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকও বড় অঙ্কের টাকা ছাড় করতে যাচ্ছে।

প্রসঙ্গত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ অর্থায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে ৭৩ হাজার কোটি টাকা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো দেবে ২৫ হাজার কোটি টাকা।

কেবল প্যাকেজের ঋণে সুদ ভর্তুকি বাবদ প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা এবং রফতানিমুখী শিল্পের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে পাঁচ হাজার কোটি টাকার সংস্থান হবে চলতি অর্থবছরের বাজেট থেকে। এছাড়া গরিব মানুষের নগদ সহায়তা বাবদ ৭৬১ কোটি টাকা, ১০ টাকা কেজিতে চাল দেয়ার জন্য ৮৭৫ কোটি টাকা, স্বাস্থ্য খাতের জন্য বরাদ্দের টাকাসহ বেশকিছু অর্থও চলতি বাজেট থেকে সংস্থান করা হবে।

%d bloggers like this: