ঢাকা ২৮.৯°সে ১৩ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

হঠাৎ বোশেখে

জান্নাতুন নাহার নূপুর

বোশেখের অষ্টম দিন দুপুরবেলা মেতেছিলাম
ঘুঙুর পায়ে”হলুদ গাদার ফুল,রাঙা পলাশ ফুল”গানে
হঠাৎ ছন্দের তাল গেল কেটে
সেলফোন টা উঠল বেজে
রিসিভ করে জানতে পারলাম,আমার ভাঙ্গা নীড়ে আসছে সে পদধূলি দিতে।
কথাটি শুনে যতটা খুশি হয়েছি,ততটাই বিস্ময় ছিল আমার চোখে মুখে
এতোদিন পর কি করে হলো রামের সুমতি!
কত কাজ পরে আছে সে খেয়াল হারিয়ে
তার আসার চমকে হুসহীন হয়ে মনে লাগে ঘোর
সে কি সত্যিই আসবে নাকি কোন সূর্যালোতে স্বপ্ন?
সে এখন আমার হাতের ডগায়
তাকে ছুঁয়ে আমার মনের ঘোর কাটাতে পারি
রয়ে গেলাম ঘোরের ভেতর ইচ্ছে করেই
তাকে দেখছি পলকহীন লোচনে
জনম জনমের চেনা মানুষটিকে
বড্ড দূরের মানুষ মনে হচ্ছে
অথচ মানুষটি আমার প্রাণের মানুষ
তার চোখেই দেখেছিলাম যত সুন্দর আর অসুন্দর।
তার চোখেই দেখেছিলাম নতুন করে পুরানো পৃথিবী
তার কাছেই শিখেছিলাম কান্না লুকিয়ে হাসতে
তার কাছেই শিখেছিলাম দুঃখকে সঙ্গী করে একা পথ চলতে
তার কাছেই গচ্ছিত রেখেছিলাম আমার সস্তা প্রাণ
দিন কে রাত,রাত কে দিন করে ;শ্রম দিয়ে,ঘাম দিয়ে,মায়া দিয়ে আর গভীর ভালোবাসা দিয়ে গড়েছে আমাকে একটু একটু করে
গড়েছে সভ্য সমাজের উপযোগী করে
আজ আমাকে যতটা দেখছেন—-
মানুষের সাচে ফেলে,তারই হাতে গড়া

আজ বহু বছর পর আমার গোপন নামে
তার ডাক শুনতে পেলাম।
বানের স্রোতের মত সুখের অতল গহ্বরে
হারিয়েছিলাম নিজের ভেতর জগতে
চোখের কোণে কিছুটা জল গড়িয়েছিল কপোলে
বুকের ভেতরটা হুহু করে ঢক ঢক শব্দ করছিল
সেটা শেষ না হতেই সে——-
বোশেখি ঝড়ের মত এসে
বোশেখি ঝড়ের ভেতরেই মিলিয়ে গেল
অতৃপ্ত মনে তৃষ্ণার বান ডাকল

ভুলে যাওয়া স্মৃতিকে আবার নতুন করে জাগিয়ে
গেল।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর